বৈশাখের শেষে জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমনের পরেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রসালো ও সুস্বাদু দেশীয় ফলের মৌসুম। আর এ মৌসুমের শুরুতেই কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বিখ্যাত সুমিষ্ট লিচুর। স্বাদ, ঘ্রাণ ও রসালো গুণে ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের মন জয় করতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের লিচু।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এখন লিচুর সরব উপস্থিতি। কদমি, পেতি ও বোম্বাই জাতের লিচু বাজারে উঠছে, দামেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ক্রেতারা।
দাউদকান্দি উপজেলার বাজার ছাড়াও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে এসব লিচু। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আসায় ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
পৌর বাজারের লিচু ক্রেতা মো. কবির হোসেন জানান, সোনারগাঁওয়ের লিচুর স্বাদ অন্যান্য এলাকার তুলনায় আলাদা। দাম তুলনামূলক সহনীয় হওয়ায় সাধারণ মানুষও সহজেই কিনতে পারছেন মৌসুমি এই জনপ্রিয় ফল। লিচুকে ঘিরে প্রতি বছর সোনারগাঁও অঞ্চলে তৈরি হয় মৌসুমি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের লিচু ক্রেতা মো. রাজীব হোসেন জয় জানান, সোনারগাঁও পৌরসভা, বৈদ্যেরবাজার, সাদিপুর ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে লিচুর বাগান। আর দাউদকান্দির পাইকারি ক্রেতারা লিচু এনে আমাদের উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। অনেক রসালো লিচু ৪০০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় নিলাম। তুলনামূলকভাবে এ বছর দামটা অনেক কম।
দাউদকান্দির স্থানীয় লিচু আড়তের মালিক এআর আব্দুল রব জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় লিচু ধরায় কৃষকদের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। সোনারগাঁওয়ের লিচু স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় দাউদকান্দিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হওয়ায় এ লিচুর প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। পাইকারি কম দামে কেনায় আমরা খুচরায়ও কম দামে বিক্রি করতে পারছি।
দাউদকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী সজিব সাহা বলেন, সোনারগাঁওয়ের রসালো সুস্বাদ লিচুতে ছেয়ে গেছে দাউদকান্দির প্রতিটি উপজেলার বাজার। দাম কম, দেখতে সুন্দর, খেতে সুস্বাদু। প্রতিদিন বাজারে কয়েক হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ১০০টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০শ ও ৪০০ থেকে ৫০০ শ টাকায়। দাম সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় সব শ্রেণির ক্রেতাই বাড়ির জন্য কিনছেন রসালো লিচু।
এখন পুরোদমে লিচুর মৌসুম চলছে এবং বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকলেও মৌসুমের শুরুর দিকে ও তীব্র গরমের কারণে দাম বেশ চড়া। আকার ও জাতভেদে প্রতি ১০০টি লিচুর দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে।
দেশের প্রধান লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে বাজার পরিস্থিতি ও জাতভিত্তিক দাম: চায়না-থ্রি: সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় এই জাতের ১০০টি লিচুর দাম ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বেদনা: রসালো ও জনপ্রিয় এই জাতের লিচুর আঁটি (১০০টি) মিলছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।
বোম্বাই ও মাদ্রাজি: সাধারণ ও আগাম জাতের এসব লিচুর দাম কিছুটা কম, প্রতি ১০০টি লিচু ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবাড়িয়া ও অন্যান্য: মঙ্গলবাড়িয়ার মতো জনপ্রিয় ও বাছাই করা বড় লিচু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা প্রতি ১০০ পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে পাবনার ঈশ্বরদী এবং দিনাজপুরের মতো বড় মোকামগুলো থেকে লিচু ঢাকায় ও অন্যান্য জেলায় আসছে। তবে প্রচণ্ড খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে অনেক স্থানে ফলন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি পর্যায়েও দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে এবং তীব্র গরমের প্রকোপ কমলে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।