ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কঙ্গোয় মরদেহ পরিবহনে ইবোলা ছড়ানোর নতুন ঝুঁকি: জাতিসংঘ শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল মেক্সিকো উপকূলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি গ্রেপ্তার না ফেরার দেশে ক্রিকেট কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স সেই মেটলাইফেই শিরোপার লড়াইয়ে মেসি জাতিসংঘে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী: জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: মির্জা ফখরুল ফরিদপুরে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব স্কুলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে হিলিতে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী বন্দী উধাও! সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন ওয়ার্ড প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা, ৪৫ সেনা হত্যার দাবি প্রশাসনের ব্যাখ্যা নেই, ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য বর্ষার রঙে মাতল ঢাকা, আয় বন্যার্তদের জন্য কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডো, আতঙ্কে ছোটাছুটি সাতকানিয়ায় বন্যাকবলিত সহস্রাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক: কৃষিমন্ত্রী কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি, শনিবার খোলা হবে ১৬ জলকপাট সাগরে বৈরী আবহাওয়া, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি কাবাডি মাঠে জাইমা রহমান, বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় মনপুরায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ হামের উপসর্গে মৃত্যু বাড়ছে, মোট প্রাণহানি ৭৮০ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে: ফারুক ওয়াসিফ টোপো গিগিও সেলিব্রেশনের ইতিহাস কি? চট্টগ্রামে ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ভেঙে পদদলিত, আহত ৩ স্মার্ট পেশা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন রুনা লায়লা

ঘুমের অভাবে তরুণদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমায়

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
ঘুমের অভাবে তরুণদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমায়
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে তরুণদের দৈনন্দিন জীবনযাপন অনেক বদলে গেছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে রাত জেগে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার এখন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার চাপ ও আড্ডার কারণেও অনেকে দেরিতে ঘুমাতে যান। এর ফলে তাদের রুটিনে ঘুমের মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ পর্যাপ্ত ঘুমাচ্ছে না। এই নিয়মিত ঘুমের অভাব তাদের মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।

মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের প্রধান নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র। সারা দিন কাজ করার পর ঘুমের সময় মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়। এই সময়ে মস্তিষ্ক সারা দিনের গ্রহণ করা তথ্যগুলো সঠিকভাবে সাজিয়ে রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে তরুণদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। নতুন বিষয় শেখার বা মনে রাখার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। ক্লাসে ও কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মস্তিষ্কের এই অংশটি মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জটিল সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই নিয়মিত ঘুম কম হলে তরুণরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ছোটখাটো সমস্যাতেও তারা সহজে ঘাবড়ে যান এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
ঘুমের অভাব কেবল কাজের স্বাভাবিক ক্ষমতা কমায় না। এটি তরুণদের সার্বিক মানসিক অবস্থার ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে তরুণদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায়। তারা খুব অল্পতে রেগে যান বা অকারণে বিরক্ত হন। মেজাজ সারাক্ষণ খিটখিটে হয়ে থাকার কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি বড় ধরনের মানসিক অবসাদের ঝুঁকি তৈরি করে। তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। গঠনমূলক কাজের প্রতি তাদের স্বাভাবিক আগ্রহ কমে গিয়ে একঘেয়েমি ও বিরক্তি তৈরি হয়।

মস্তিষ্কের সুস্থতার সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রাতে ঘুম কম হলে পরদিন শরীরে প্রচণ্ড ক্লান্তি ভর করে। হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এটি তরুণদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে বড় ধরনের বাধা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। দিনের বেলায় কাজের সময় অতিরিক্ত ঘুম ভাব তরুণদের কাজের গতি কমিয়ে দেয়। ক্লান্ত মস্তিষ্ক শরীরকে সঠিক নির্দেশ দিতে বারবার ব্যর্থ হয়। এর ফলে রাস্তায় বা কর্মস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের বুঝতে হবে যে, ঘুম কোনো সময় নষ্ট করার বিষয় নয়। এটি শরীর ও মস্তিষ্ককে পরবর্তী দিনের জন্য প্রস্তুত করার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার একটি সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বন্ধ রাখা প্রয়োজন। ঘুমের পরিবেশ শান্ত এবং অন্ধকার রাখা হলে দ্রুত ঘুম আসে। সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তরুণরা যদি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করেন তবে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তারা আরও বেশি উদ্যমী হয়ে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন। একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের অবশ্যই ঘুমের সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে।

একাকিত্ব বনাম একাকী থাকার সঠিক ব্যবহার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
একাকিত্ব বনাম একাকী থাকার সঠিক ব্যবহার
ছবি: সংগহীত

প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ একে অপরের সঙ্গে আগের চেয়ে অনেক বেশি যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে মুহূর্তে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এই ভার্চুয়াল সংযোগের ভিড়েও তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ একাকিত্বে ভুগছে।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, চারপাশে অনেক মানুষ থাকার পরও অনেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ভাবেন। এখানে তৈরি হয় একাকিত্ব ও একাকী থাকার মধ্যে বড় একটি পার্থক্য। এই দুটি ধারণার পার্থক্য বুঝতে পারা এবং নিজের সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা বর্তমান সময়ের তরুণদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণভাবে একাকিত্ব ও একাকী থাকাকে অনেকে একই মনে করেন। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। একাকিত্ব একটি নেতিবাচক মানসিক অবস্থা। যখন একজন মানুষ অনুভব করেন যে, তার পাশে কেউ নেই বা তাকে বোঝার মতো মানুষের অভাব রয়েছে, তখন একাকিত্বের জন্ম হয়। এটি মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, একাকী থাকা বা নির্জনতা একটি ইতিবাচক এবং সচেতন সিদ্ধান্ত। নিজের ইচ্ছায় কিছু সময় একা কাটানো, নিজের চিন্তাভাবনাকে গুছিয়ে নেওয়া এবং নিজের সঙ্গে সময় উপভোগ করার নাম একা থাকা।

আজকের তরুণ-তরুণীদের জীবনে এই দুটি বিষয়ের প্রভাব বেশ স্পষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকে একাকিত্বের শিকার হচ্ছেন। অন্যের চমৎকার জীবনের ছবি বা ভিডিও দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে নিজের অজান্তে তরুণদের মনে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। এই শূন্যতা একাকিত্বকে ডেকে আনে। অথচ এই সময়টিকে যদি সচেতনভাবে একাকী কাটানোর সুযোগ হিসেবে দেখা যেত, তবে তা জীবনের জন্য আশীর্বাদ হতে পারত।

একাকী থাকার সময়টিকে কীভাবে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তা জানা প্রয়োজন। একা থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা, এই সময়ে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। তরুণরা এই সময়টুকু নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনে কাজে লাগাতে পারেন। যেমন নতুন একটি ভাষা শেখা, প্রোগ্রামিং জানা, কিংবা কোনো সৃজনশীল কাজ যেমন ফ্রিল্যান্সিং বা গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখা। আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতার মূল্য অনেক বেশি। তাই অবসরের এই সময়টিতে অযথা সময় নষ্ট না করে নতুন কিছু শেখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। এই কাজগুলো একদিকে যেমন পেশাগত জীবনে এগিয়ে রাখে, অন্যদিকে মানসিক ক্লান্তি দূর করে।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য একা থাকার চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না। ভালো একটি বই মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে। প্রতিদিন কিছুটা সময় একা বই পড়ার পেছনে ব্যয় করলে তা মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত করে। এছাড়া নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবার এবং কাজ করার জন্য একা থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, ধ্যান বা ইয়োগা করার মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের মানসিকভাবে ফিট রাখতে পারেন। এটি শুধু বিষণ্নতা দূর করে না, বরং কাজের প্রতি মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

নিজের ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানোর জন্যও নির্জনতা অপরিহার্য। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে মানুষ নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগা এবং লক্ষ্যগুলো নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে পারে। জীবনের উদ্দেশ্য কী এবং কীভাবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব, তা একা না থাকলে গভীরভাবে ভাবা কঠিন। নির্জন মুহূর্তগুলো মানুষের চিন্তার গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিজের শক্তির জায়গা এবং দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার জন্য এই আত্মানুসন্ধান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

একাকিত্ব মানুষকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেয়, আর ইতিবাচকভাবে একা থাকা মানুষকে নতুন শক্তিতে সমাজে ফিরে আসতে সাহায্য করে। তরুণদের বুঝতে হবে যে, একা থাকা মানেই জীবন থমকে যাওয়া নয়। এটি বরং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার একটি অনন্য সুযোগ। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝে কিছুটা সময় নিজের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। এই সময়টুকু কাটুক সম্পূর্ণ গঠনমূলক কাজে। যখন তরুণরা একাকিত্বকে পেছনে ফেলে একা থাকার সময়টিকে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে শিখবেন, তখনই সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এটি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে আরও সুন্দর ও স্বাবলম্বী করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের খাবার দেয়া হচ্ছে।

শীতের এক কনকনে সকাল। চারদিকে তীব্র ঠান্ডা। এমন এক সকালে চীনের শানসি প্রদেশের ইয়ানহু জেলায় চাং ছাংছিন নামের এক ব্যক্তির চোখে ধরা পড়ল অদ্ভুত ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ঠান্ডা পানি দিয়ে শক্ত ও ঠাণ্ডা রুটি গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমাজের অপরিহার্য এই কর্মীদের এমন মানবেতর দশা চাং-এর মনে গভীর দাগ কাটে। সেই মুহূর্তেই তিনি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন—রাস্তার এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য অন্তত একবেলা গরম ও পুষ্টিকর সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করবেন। 
এই মানবিক তাড়না থেকেই ২০১৬ সালের নভেম্বরে শুরু হয় একটি অনন্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। তবে এর শুরুটা সহজ ছিল না। ২০১৬ সালে যখন চাং এই ফ্রি ব্রেকফাস্ট প্রজেক্ট বা বিনামূল্যে সকালের নাস্তা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেন, তখন তার সাথে ছিলেন মাত্র কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। কিন্তু চাং দমে যাননি। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে বোঝাতে শুরু করেন, কেন এই উদ্যোগটি প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব কতটুকু। 
ধীরে ধীরে তার এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। চাল, ডাল, সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় রসদ আসতে শুরু করে চারপাশ থেকে।
১০ বছরের পরিসংখ্যান ও বিশাল অর্জন  
দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ ১০টি বছর। এই এক দশকে চাং ছাংছিন এবং তার ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অর্জন সত্যিই চোখ কপালে তোলার মতো: 
•    বিগত ১০ বছরে এই সংগঠনটি ২ লাখ ৭০ হাজার এরও বেশি বিনামূল্যে গরম নাস্তা বিতরণ করেছে।
•    মাত্র কয়েকজন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই অ্যাসোসিয়েশনে বর্তমানে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার।
•    এই উদ্যোগ অনুপ্রাণিত করেছে আরও হাজার হাজার সাধারণ নাগরিককে, যারা এখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সেবামূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের একজন নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘আমরা শুধু খাবার দিই না, আমরা তাদের জানাতে চাই যে সমাজ তাদের অবদানকে সম্মান করে।‘ 
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সকালের নাস্তা দেওয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও চাং-এর মানবিকতার পরিধি দিন দিন আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে তার এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি সমাজের অন্যান্য অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির পাশেও দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে— ১. দুস্থ ও কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা শিশুদের শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ। ২. অসহায় ও প্রবীণ নাগরিকদের নিয়মিত দেখভাল ও সহায়তা প্রদান। 
দশ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের পরও চাং ছাংছিন থামতে চান না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা এই কাজ চালিয়ে যাব। আমরা বিশ্বাস করি, স্বেচ্ছাসেবামূলক সেবা সামাজিক অগ্রগতি তরাণ্বিত করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হতে পারে।’
চাং ছাংছিন প্রমাণ করেছেন, সদয় চিন্তা ও দৃঢ় ইচ্ছা কীভাবে হাজার হাজার মানুষের জীবনে আলো ছড়াতে পারে এবং বদলে দিতে পারে পুরো সমাজের চিত্র। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি তার এই ভালোবাসা আজ বিশ্বজুড়ে মানবতা ও সহানুভূতির এক অনন্য নজির। 
সূত্র: সিএমজি

পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে
ছবি:সংগৃহীত

অনেকের কাছে জনসমক্ষে কথা বলা বা পাবলিক স্পিকিং এক বিভীষিকার নাম। মঞ্চের সামনে দাঁড়ালেই হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা ও সব ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা নতুন নয়। স্কুল, কলেজ কিংবা ক্যারিয়ারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের কথা গুছিয়ে বলার দক্ষতা এক অমূল্য সম্পদ। ভয়ের এই দেয়াল ভেঙে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার কৌশল রপ্ত করা খুব কঠিন কিছু নয়।

প্রথমে মনে রাখতে হবে, ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। পৃথিবীর অনেক বড় বড় বক্তারও মঞ্চে ওঠার আগে স্নায়ুচাপ কাজ করে। এই ভয়কে জয় করার প্রথম শর্ত হলো প্রস্তুতি। আপনি যে বিষয়ে কথা বলবেন, সেটির ওপর গভীর জ্ঞান থাকলে ভয়ের মাত্রা এমনিতে কমে আসে। নিজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু ছোট ছোট পয়েন্টে সাজিয়ে নিন। এটি আপনাকে পথ দেখাতে সাহায্য করবে এবং মূল বিষয় থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

মঞ্চে দাঁড়ানোর আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। নিজের কথা বলার ভঙ্গি, হাত নাড়ানোর ধরন এবং চোখের চাহনি লক্ষ করুন। সম্ভব হলে নিজের বক্তব্য রেকর্ড করে পরে শুনুন। এতে ভুলগুলো সহজেই চোখে পড়বে এবং নিজেকে শোধরানোর সুযোগ পাবেন। প্রথম দিকে ছোট ছোট দলের সামনে বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করতে পারেন। এতে জড়তা দ্রুত কেটে যাবে।

পাবলিক স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে শরীরী ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথা বলার সময় শ্রোতাদের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। সরাসরি চোখের দিকে তাকালে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়। তবে খুব বেশি স্থির হয়ে না দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করুন। আপনার হাসি এবং শারীরিক ভঙ্গি শ্রোতাদের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে।

অনেক সময় মানুষ ভয় পায় ভুল করার ভয়ে। মনে রাখবেন, বক্তৃতার সময় ছোটখাটো ভুল হতে পারে। যদি কখনো কোনো তথ্য ভুলে যান, ঘাবড়ে না গিয়ে শান্তভাবে নিজের শ্বাস নিন। ভুল নিয়ে লজ্জা না পেয়ে হাসিমুখে তা এড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। শ্রোতারা আপনার নিখুঁত উপস্থাপনা থেকে আপনার কথার সারমর্ম শুনতে বেশি আগ্রহী থাকে।

বক্তৃতার শুরুতে একটি মজার তথ্য কিংবা ছোট কোনো ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। এটি দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। কথা বলার গতি খুব দ্রুত করবেন না, আবার খুব ধীরও করবেন না। নির্দিষ্ট সময় পরপর থামুন বা বিরতি নিন। এই নীরবতা আপনার বলা কথাগুলোকে আরও জোরালো করে তুলবে।

পরিশেষে, পাবলিক স্পিকিং কোনো জন্মগত প্রতিভা নয়, এটি নিছক চর্চার ফসল। যত বেশি মঞ্চে উঠবেন, জড়তা তত কমবে। নিজের কণ্ঠস্বর ও উপস্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনাই সাফল্যের চাবিকাঠি। আজই কোনো ছোট বিষয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করুন এবং জড়তাকে জয় করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিন।

বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান পৃথিবী দ্রুতগতিতে একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির কল্যাণে ভৌগোলিক সীমানা এখন আর মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা নয়। আজকের তরুণ প্রজন্মকে শুধু নিজের দেশের ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চলবে না। তুমুল প্রতিযোগিতামূলক এই আধুনিক বিশ্বে সফলভাবে টিকে থাকতে হলে তাদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বিশ্ব নাগরিক বলতে এমন একজনকে বোঝায় যিনি নিজের দেশের শেকড়কে গভীরভাবে ধারণ করার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি ও সমস্যা সম্পর্কে সচেতন থাকেন।

বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। এই বিশাল পৃথিবীতে নানা ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষ বসবাস করে। সবার জীবনযাপন পদ্ধতি এক নয়। অন্যের মতাদর্শের প্রতি সহনশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি গুণ। নিয়মিত দেশি ও বিদেশি বই পড়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। এই অর্জিত জ্ঞান তরুণদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে এবং তাদের সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।

সফল যোগাযোগের দক্ষতা বিশ্ব নাগরিকত্বের অন্যতম প্রধান শর্ত। মাতৃভাষার চমৎকার ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভালোভাবে শেখা বর্তমানে আবশ্যক। যেকোনো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ভাষার দখল থাকা প্রয়োজন। এর বাইরে ফরাসি স্প্যানিশ জার্মান বা মান্দারিনের মতো তৃতীয় কোনো ভাষা জানা থাকলে তা ক্যারিয়ারে অনেকখানি বাড়তি সুবিধা যোগ করে। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে বিভিন্ন দেশের সমবয়সী তরুণদের সঙ্গে শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগের অবারিত সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে সহজেই ভিনদেশি ভাষায় কথা বলার জড়তা কাটানো সম্ভব।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা কঠিন। ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহার জানতে হবে। ইন্টারনেট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি নতুন জ্ঞান আহরণের এক বিশাল প্রান্তর। অনলাইনে এখন বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসংখ্য কোর্স বিনামূল্যে করার সুযোগ রয়েছে। এসব কোর্সে অংশ নিয়ে তরুণরা নিজেদের বৈশ্বিক মানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তির নিত্যনতুন পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্লেষণমূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

বিশ্ব নাগরিক হতে হলে শুধু নিজের ব্যক্তিগত উন্নতি নিয়ে ভাবলে চলবে না। সমসাময়িক বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়েও ভাবতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব উষ্ণায়ন মানবাধিকার রক্ষা বা দারিদ্র্য দূরীকরণের মতো বিষয়গুলো এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক সমস্যা নয়। পুরো পৃথিবীর মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে এসব বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। এসব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাধানের কার্যকর উপায় নিয়ে চিন্তা করা প্রকৃত বিশ্ব নাগরিকের দায়িত্ব। নিজের এলাকায় ছোট কোনো পরিবেশবাদী কাজের মাধ্যমেও বৈশ্বিক এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়া যায়।

বিশ্ব নাগরিক হওয়ার এই প্রস্তুতি এক দিনে শেষ হয় না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রক্রিয়া। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা থাকতে হবে। তরুণদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার আগ্রহ মনের মধ্যে লালন করতে হবে। নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের প্রতি ইতিবাচক দায়বদ্ধতা অনুভব করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও বিশ্বের বুকে যোগ্য বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাজীবনে পড়াশোনার চাপ থাকবেই। পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট আর ক্লাসের নিয়মিত ব্যস্ততায় অনেকে নিজের প্রিয় শখগুলোকে ভুলে যান। কেউ হয়তো ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কেউ গান গাইতে, আবার কেউ হয়তো বাগান করতে পছন্দ করেন। অনেকে মনে করেন, পড়াশোনা আর শখ একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয়। তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পড়াশোনা ও শখ দুটিই সমানতালে বজায় রাখা সম্ভব।

শখ কেবল সময় কাটানোর মাধ্যম নয়। এটি আমাদের মানসিক ক্লান্তি দূর করে এবং নতুন কাজের শক্তি জোগায়। সারা দিন শুধু বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকলে একঘেয়েমি চলে আসে। এই একঘেয়েমি পড়াশোনার মনোযোগের মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্যদিকে, পড়াশোনার ফাঁকে নিজের পছন্দের কাজটি করলে মন সতেজ হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থীর সক্রিয় কোনো শখ থাকে, তাদের সৃজনশীলতা ও মনোযোগ অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি হয়। তাই পড়াশোনাকে ঠিক রেখে শখ চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল

অগ্রাধিকার নির্ধারণ: প্রথমে আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন। পড়াশোনার জরুরি কাজগুলো সব সময় আগে শেষ করুন। পড়াশোনা শেষ হলে তবেই অবসর সময়ে শখের কাজটি করুন।

রুটিন তৈরি: সারা দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সূচি থাকা অত্যন্ত জরুরি। পড়াশোনা এবং শখের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ রাখুন। রুটিন মেনে চললে কোনো কাজ পড়ে থাকবে না।

পড়াশোনার ফাঁকে বিরতি: একটানা পড়াশোনা না করে একটু বিরতি নিন। এই ছোট বিরতিতে আপনার শখের ছোট কোনো কাজ করতে পারেন।

প্রযুক্তির ব্যবহার: সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে সেই সময়টুকু নিজের শখের পেছনে ব্যয় করুন। এতে সময়ের অপচয় কমবে এবং মানসিক তৃপ্তি আসবে।

পড়াশোনা ও শখের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে পরিবারের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক অভিভাবক ভাবেন শখের পেছনে সময় দিলে পড়াশোনা নষ্ট হবে। কিন্তু জোর করে পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখলে সবসময় ভালো ফল আসে না। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য শখের চর্চা করতে দেওয়া উচিত। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তী সময়ে পড়াশোনাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সন্তানদের শখের প্রতি অভিভাবকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

জীবন শুধু পরীক্ষার ভালো নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের ভেতরের প্রতিভা ও ভালো লাগাকে বাঁচিয়ে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনাকে দায়িত্ব মনে করে আনন্দের সঙ্গে করুন এবং শখকে করুন মনের খোরাক। আজই একটি সুন্দর পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং পড়াশোনা ও শখকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যান।

পড়াশোনা ও শখ কোনোটিই একে অপরের পরিপন্থী নয়। বরং একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে, যদি আপনি সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন।