মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে সফল হয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের উত্তম বিশ্বাস। তিনি ২০ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেন। এতে ৩৮ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করেছেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৩ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করবেন। তার এ সাফল্য দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বেগুন চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। খবর বাসসের।
উত্তম বিশ্বাস জানান, বর্তমানে তিনি খেতে ইউরিয়া, টিএসপি ও পটাশ সার প্রয়োগ করে নিয়মিত পরিচর্যা করেছেন। ৬৫ দিন পর বেগুন সংগ্রহ শুরু করে এখন ৮৩ দিনে ১ হাজার কেজি বেগুন বিক্রি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দীঘারকুল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ হালদারের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেছি। এ কারণে অতিবৃষ্টিতে গাছের গোড়ায় পানি জমেনি ও গাছ মারা যায়নি। গাছের গোড়ার ৮ থেকে ৯ ইঞ্চি দূরে ইউরিয়া, টিএনপি ও পটাশ সার গুটি করে প্রয়োগ করেছি। খেত সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছি। তাই বেগুনে ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ খুব কম হয়েছে। এতে করে বেগুনের বাম্পার ফলন পেয়েছি। বাজারে বেগুনের ভালো দাম পাচ্ছি। ইতোমধ্যে বেগুন বিক্রির ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘরে তুলেছি। এখনো খেতে ১ লাখ টাকার বেগুন রয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বেগুন সংগ্রহ করতে পারব। এতে অন্তত ৩ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। এ পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। এ সময়ে অন্য সবজি চাষাবাদ করলে এত টাকা ঘরে তুলতে পারতাম না। আমার দেখাদেখি অনেকেই আগামীতে এ পদ্ধতিতে সবজি আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ হালদার বলেন, ‘কৃষক উত্তম আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া নিয়মিত আমি তার খেত পরিদর্শন করেছি। তিনি ওই খেতে ভাঙ্গুর ও বিকাশ জাতের বেগুন আবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন। এ পদ্ধতিতে বর্ষা মৌসুমে সবজির আবাদ করা হলে সবজির বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব। উত্তমের এ আবাদ পদ্ধতি দেশের কৃষিতে অনেক আগেই উদ্ভাবিত হয়েছে। কিন্তু রঘুনাথপুর ইউনিয়নের এ ব্লকে এ বছরই প্রথম মালচিং পদ্ধতির আবাদ হয়েছে। উত্তমের চাষাবাদ দেখে অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি আবাদে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ পদ্ধতি সম্প্রসারণ করতে পারলে বর্ষা মৌসুমে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং অধিক দামে সবজি বিক্রি করে কৃষক লাভবান হবেন। আমরা ওই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’
রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক অমল মণ্ডল বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে আমাদের কিছু জমি পতিত থাকে। সেখানে এ পদ্ধতিতে সবজির চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উত্তম। আগামীতে ওই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করব।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, ‘নতুন নতুন চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণ করে আমরা ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চাই। একই সঙ্গে কৃষকের আয় বাড়াতে কাজ করছি। এতে কৃষক উত্তম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বেগুনের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে তিনি লাভবান হয়েছেন।’