পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, গাজনার বিল, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার পেঁয়াজ চাষের ব্যাপক পরিচিতি। প্রতি বছর ডিসেম্বরের শুরুতেই কৃষকরা নতুন পেঁয়াজের চাড়া রোপণ শুরু করেন। এই রোপণ কাজ জানুয়ারিজুড়ে চলে। এসব অঞ্চলে পেঁয়াজ কৃষকদের প্রধান অর্থকারী ফসল। বিশেষ করে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার কৃষকরা পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সময় মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে দিনমজুরদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের।
চলতি বছর বেড়া উপজেলায় ২৮৬০ হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া বেড়ায় ২০০৮ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হচ্ছে।
সাঁথিয়া উপজেলায় এ বছর পেঁয়াজ রোপণের লক্ষ্য ছিল ১৫ হাজার হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে ১০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। সাঁথিয়ার মুড়িকাটা পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৬০০ হেক্টর ছিল। কিন্তু তার চেয়েও ১০ হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে।
পেঁয়াজের চারা রোপণ কাজে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছে এলাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। সাঁথিয়া উপজেলার গজারিয়া বিলে, পুন্ডুরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র সজীব জানায়, ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকে এবং জানুয়ারি মাসে ক্লাস কম হয়। তাই সংসারে সচ্ছলতা আনার জন্য সে পেঁয়াজ রোপণে কাজ করছে। আর শিক্ষার্থী রিয়াদ জানায়, সে এবার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। স্কুলের খরচ মেটাতে এবং নতুন জুতা, গাইড বই কিনতে কিছু অতিরিক্ত টাকা আয় করার জন্য সে পেঁয়াজের চারা রোপণের কাজে যোগ দিয়েছে।
পেঁয়াজ রোপণের কাজে নিযুক্ত শিক্ষার্থীরা দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করে। বয়সে কিছু ছোট শিক্ষার্থীরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পেঁয়াজ রোপণ করে। সাঁথিয়ার চাকলা গ্রামের কৃষক আরজান মোল্লা জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষের চিন্তা করছেন। ইতোমধ্যে ৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করতে ১০ থেকে ১২ জন দিনমজুর লাগে, আর বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ দিনমজুরই শিক্ষার্থী।
পেঁয়াজের চাষের শুরু থেকে তোলা পর্যন্ত প্রতি বিঘাতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে সার, মজুরি ও পানি খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। পেঁয়াজ তিন মাসের ফসল। গত বছর পেঁয়াজের দাম ভালো থাকায় এ বছর অনেক কৃষক পেঁয়াজের চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
জানা গেছে, পেঁয়াজের চাষে কৃষকরা যেমন লাভবান হওয়ার আশায় আছেন, তেমনি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও পরিবারের খরচ মেটানোর জন্য কাজ করছে। এতে এই মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে একদিকে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি কিছু বাড়তি উপার্জন করছে।
পেঁয়াজ রোপণের মৌসুমে গ্রাম এলাকার অনেক শিক্ষার্থীকে কাজে দেখা যায়। এ সময় স্থানীয় ছাত্ররা দিনের অধিকাংশ সময় পেঁয়াজ রোপণে কাটায়, তাদের কম মজুরি দিয়ে কাজে নিয়োগ করে।
সাঁথিয়ার পুন্ডুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ খান বলেন, ‘পেঁয়াজ লাগানোর মৌসুমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়, কারণ তারা দিনমজুর হিসেবে কাজ করে।
বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নুসরাত কবীর ও সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী জানান, যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং কৃষকরা সঠিকভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করেন, তবে এবারও পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হতে পারে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।