ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি কামনা টেইলর সুইফট-ট্রাভিস কেলসি’র রাজকীয় বিয়ে সব বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী থানায় অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শাওন কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নজর থাকবে: গণপূর্তমন্ত্রী মা হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘CFMOTO Fiesta Football Tournament 2026’ ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ‘পেমেন্ট পাসকি’ আনল ভিসা ৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি সন্তানের কর্মসংস্থান চাই মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব তৃতীয় কোনো ভাষা শেখানোর চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত! সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উত্তরা মোটর্স বাংলাদেশে নিয়ে এলো ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস দেবহাটায় ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, এরপর... ‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’ ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি টাকা খেলেন, জেল পেলেন! উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী The Grocer and the Fruit seller বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৮ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ম্যাকডোনাল্ডস-বাস টার্মিনাল এখন ক্লিনিক অপহরণ-মানবপাচার রোধে টেকনাফে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাজেটে অনেক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের বাণিজ্য ও অ-বাণিজ্য গ্রুপে যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ১৬ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর বাণিজ্য গ্রুপে ৭৭.৫০ ও অ-বাণিজ্য গ্রুপে ৬০.২৫।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বি ইউনিটে সর্বমোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪২ হাজার ৪৩৩ জন। এর মধ্যে বাণিজ্য গ্রুপে ১৭ হাজার ৬৮৪ জনের মধ্যে ৬ হাজার ২১৮ জন  এবং অ-বাণিজ্য গ্রুপে ১৭ হাজার ৪০৩ জনের মধ্যে ৯৫০ জন উত্তীর্ণ হয়। অ-বাণিজ্য গ্রুপে বিজ্ঞান শাখায় ৬১৮ ও মানবিক শাখায় ৩৩২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। উভয় গ্রুপ মিলিয়ে গড় পাশের হার ২০ দশমিক ৪৩ শতাংশ । পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর বাণিজ্য গ্রুপে ৭৭.৫০ ও অ-বাণিজ্য গ্রুপে ৬০.২৫।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল ‘বি’ ইউনিটভুক্ত ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ৬টি বিভাগ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এই ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত। এই ইউনিটে মোট আসন সংখ্যা ৫৫৯ টি। যার মধ্যে বাণিজ্য গ্রুপে ৩৬৭ টি, অ-বাণিজ্য গ্রুপে বিজ্ঞান শাখায় ১৬৬ টি ও মানবিক শাখায় ২৬ টি। রাবির ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট https://application.ru.ac.bd/ তে লগইন করে ভর্তিচ্ছুরা নিজ নিজ ফলাফল দেখতে পারবেন।

এস আই সুমন/মাহফুজ

 

অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা
একাডেমিক ভবন থেকে ক্যাফেটেরিয়া—সবখানেই নোংরা টয়লেট। ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন ভবনের টয়লেট ও ওয়াশরুমের বেহাল অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। 

অপরিষ্কার পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, ভাঙা বেসিন, পানির ট্যাপ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। 

সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন-৩সহ বিভিন্ন ভবনের কয়েকটি টয়লেট ও ওয়াশরুম দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার। বাথরুমের মেঝেতে কালো দাগ, পিচ্ছিল পরিবেশ এবং তীব্র দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। অনেক বেসিন ভাঙা, কোথাও পানির ট্যাপ নেই, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নষ্ট। কিছু টয়লেটে পানি বহনের পাত্র নেই। এছাড়া ব্যবহৃত টিস্যু, জমে থাকা নোংরা পানি এবং মশা-পোকামাকড়ের উপদ্রবও চোখে পড়ে। কয়েকটি টয়লেটের দরজায় ছিটকিনিও নেই।

শিক্ষার্থীরা জানান, টয়লেটগুলোর এমন বেহাল অবস্থার কারণে খুব প্রয়োজন না হলে আমরা সেগুলো ব্যবহার করি না। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন তিনটি আবাসিক হলে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সাতজন প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, ডরমিটরি, উপাচার্যের বাংলোসহ অন্যান্য স্থানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ হোসেন মিজি বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এমন নোংরা ওয়াশরুম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাবে ওয়াশরুমগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা দ্রুত স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানাই।

আরেক শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবনের অধিকাংশ ওয়াশরুমই অপরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, মেয়েদের অনেক টয়লেট ব্যবহারই করা যায় না। কোথাও ছিটকিনি নেই, কোথাও পানি আসে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার লোকমান হাকিম বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। টয়লেটের পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রকৌশল দপ্তরের বিষয়। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, কিছু টয়লেট অপরিষ্কার রয়েছে, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে এবং কয়েকজনের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বেসিন ভাঙা এবং পানির ট্যাপ নষ্ট রয়েছে। জুন মাসের আর্থিক হিসাব (জুন ক্লোজিং) শেষ হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর আগামী মাস থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

এসএন

জাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘র‌্যাগিং’, জড়িতদের দায় স্বীকার

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘র‌্যাগিং’, জড়িতদের দায় স্বীকার
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে মাঠের মধ্যে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ বা শিষ্টাচার শেখানোর নামে র‌্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। 

পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরেন। 

শনিবার (৪ জুলাই) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নবীনদের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে আনেন। সেখানে যাওয়ার পর নবীন শিক্ষার্থীদের কান ধরানো, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ফরমাল পোশাকের নিয়ম শেখানোর নামে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা করা হতে থাকে।

র‌্যাগিং চলাকালে এক নবীন শিক্ষার্থী কৌশলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের এক সদস্যের কাছে পাঠান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায়। অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে আসে। সেখানে ভিডিও যাচাই করে অভিযুক্তদের ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, “সেখানে আমাদের বাবা-মা তুলে গালাগাল ও কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফরমাল পরিচয়ের নামে আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। পরে প্রক্টর স্যারসহ অন্যরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন।”​

​আরেক ভুক্তভোগী রাজ খান বলেন, ’এর আগেও সেন্ট্রাল ফিল্ডে আমাদের গভীর রাত পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া সেমিনার, ক্লাসরুমের করিডর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিয়মিত হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা এই জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

ভুক্তভোগীদের দাবি, অনবরত এমন নির্যাতনে তাদের পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। 

এদিকে ঘটনার পর ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ১৩ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধির (সিআর) স্বাক্ষরিত একটি লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘আমরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের ১৩ জন ছাত্রকে মেনার শিখানোর নামে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিই এবং র‍্যাগ দিই।’

লিখিত বিবৃতিতে অভিযুক্ত ১২ জন শিক্ষার্থীর পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন- সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ’রাত ২টার দিকে কল পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদের হাতেনাতে ধরি। এরপর সবাইকে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে এসে ভিডিও ও লিখিত স্টেটমেন্টের তথ্য নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ’এই তথ্যগুলো প্রক্টরিয়াল বডির সভায় আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

‘অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি ও আমাদের কাছে যতটুকু এভিডেন্স (প্রমাণ) আছে, তা দিয়ে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা যাবে’ বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশিদুল আলম বলেন, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে র‍্যাগিংয়ের সময় তাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছে এবং দুই পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ ও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমানউল্লাহ/খাদিজা রুমি/

ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন জিএস এস এম ফরহাদ। ছবি: খবরের কাগজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের যৌথ উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশবরেণ্য শিল্পীদের তত্ত্বাবধানে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালা শুরু হয়েছে। 
 
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওই কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, 'জুলাই বিপ্লবের চেতনা কেবল স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং তা আমাদের চিন্তা, কর্ম ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ধারণ করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সৃজনশীল শক্তিকে বিকশিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাকসু সবসময় শিক্ষার্থীদের মেধা, সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।'
 
এই দুই মাসব্যাপী কর্মশালা শিক্ষার্থীদের শিল্পচর্চার পাশাপাশি ইতিহাস ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, 'সংস্কৃতি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তিতে এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশবরেণ্য শিল্পীদের কাছ থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, গণআন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও প্রকাশ করার সক্ষমতা অর্জন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ, সৃজনশীল ও মূল্যবোধনির্ভর সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডাকসু ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।'
 
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিশিষ্ট আইনজীবী ও আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ, বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক মৃন্ময় মিজান, নাট্য ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান আসাদ, এ বি ডি তুহিন, বাচিকশিল্পী সারোয়ার হোসাইন খান, কবি মুনসি বোরহান মাহমুদ, কবি আবিদ আজমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
 
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি ছিল আত্মমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। সেই চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সংস্কৃতি হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত মানুষের মনন, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমকে শাণিত করে। তাই সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সমাজ পরিবর্তনের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে তারা বলেন, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং গণআকাঙ্ক্ষাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলতে হবে।
 
উল্লেখ্য, দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালা এবং উদ্বোধনী ক্লাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। এছাড়া মাসব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
 
আরিফ জাওয়াদ/আজহার/

রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এস এম আব্দুছ ছালাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুছ ছালাম (৬১) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে ড. এস এম আব্দুছ ছালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনে তিনি আরবি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শিক্ষা ও গবেষণায় তার অনন্য অবদান রয়েছে। তার রচিত একাধিক গ্রন্থ এবং উচ্চমানের গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান সাময়িকী ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় বলেন, শিক্ষা, শিক্ষার্থীবৎসলতা ও গবেষণার ক্ষেত্রে মরহুম অধ্যাপক ড. আব্দুছ ছালামের অসামান্য অবদান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তার এই প্রস্থান উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

​শোকবার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শাকিবুল/এএফ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান ফটকে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় স্থানীয় পথচারীরা ব্যানারটি প্রথম দেখতে পান।

ব্যানারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তামিম হাসান এর নাম উল্লেখ রয়েছে।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে কে বা কারা ব্যানারটি লাগিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখেছি রাত আনুমানিক ৩টার সময় দুইজন প্রধান ফটকের দেয়ালে ব্যানার টানিয়ে ছবি তুলেছে এবং খুলে নিয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি এবং তারা তা বের করতে কাজ করছে। তবে আমার মনে হয় এটা তারা নিজেদের হাইলাইট বা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের প্যানিক করার জন্য করেছে।

শাকিবুল/এএফ