কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ও সন্ধ্যায় জেলার লালমাই ও লাকসাম উপজেলায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। বাসের বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা দুটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে লাকসামের কালিয়াচৌ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও ২ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, লাকসাম থেকে একটি খালি ট্রাক্টর খিলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। একই সময়ে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর যাচ্ছিল একুশে এক্সপ্রেসের একটি বাস। বাসটি কালিয়াচৌ এলাকায় ট্রাক্টরটিকে ওভারটেক করার সময় পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক্টরটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এ সময় ট্রাক্টরের হেলপার মো. শামীম (৩৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন ট্রাক্টরচালক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও অপর হেলপার রাজু (৩২)।
নিহত শামীম পার্শ্ববর্তী পোলাইয়া উত্তরপাড়া মিজি বাড়ির মীর হোসেনের ছেলে। আহতদের উদ্ধার করে লাকসাম জেনারেল পাসতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একুশে এক্সপ্রেস বাসটি আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, নিহতের মরদেহ ও গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরদিকে বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারের উত্তর পাশের সেতুতে বাসের ধাক্কায় রুবেল হোসেন (৩০) নামে অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
নিহত রুবেল উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের সিধুচী গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে।
পুলিশ ও প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জনা যায়, দুপুরে কুমিল্লা থেকে নাঙ্গলকোটগামী নিউ কুমিল্লা সুপার সার্ভিসের একটি বাস বাগমারা বাজার ব্রিজের উপরে বেপরোয়া গতিতে এসে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রুবেল নিহত হন। আহত তিনজনকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মোর্শেদ আলম ভূঁইয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।