নোয়াখালীর কবিরহাটে অপহরণ মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপহৃতা কিশোরীকে উদ্ধার ও তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পূর্ব লামছি গ্রামের মজিদেরহাট এলাকা থেকে ভুক্তভোগী কিশেরীকে (১৭) উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
এরা হলেন, কবিরহাটের ঘোষবাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লামছি গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৯), ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লামছি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. ইব্রাহিম (৩০) ও একই এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে মো. ফারুক (২২)।
পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সোনিয়া আক্তারের কাছে ভুক্তভোগী কিশোরী ২২ ধারায় অপহরণের বর্ণনা দেন। বিচারক তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার ও জবানবন্দির বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরী তার ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার পথে লেদু কোম্পানীর হাট সংলগ্ন এলাকা থেকে সুজনের নেতৃত্বে তিন অপহরণকারী তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বুধবার (২৫ অক্টোবর) ভুক্তভোগীর বাবা থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী আদালতকে জানান, আমি সুজনকে চিনতাম না, আসামি ইব্রাহীম ও ফারুক মাঝে মাঝে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এতে রাজি না হওয়ায় রোববার বিকেলে ফুফুর বাড়ি যাওয়ার পথে আমাকে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সোনাপুর নিয়ে যায়। সেখানে তাদের কথামতো না গেলে ইজ্জত নষ্ট করার ভয় দেখায়। পরে বাসে তুলে আমাকে ঢাকা নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাসায় অন্য মহিলাদের সঙ্গে রাখে। এ ঘটনায় মামলার খবর শুনে আসামিরা আমাকে আবারও নোয়াখালী নিয়ে আসে।
পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালানোয় অপরাধীরা ভুক্তভোগীকে এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এমএ/