কক্সবাজারের পিএমখালী ইউনিয়নের (ইউপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে এক ধর্ষককে রেহাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ইউনিয়নের ফুরাকাটা রশিদের ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষকের নাম মো. রফিক।
বিষয়টি থানায় জানানোর কথা থাকলেও বিচার-সালিশের মাধ্যমে শেষ করার চেষ্টা করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতারা।
ভুক্তভোগী তরুণী ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, সৈয়দ নুরের ছেলে রফিক ও তরুণীর বাড়ির দূরত্ব এক কিলোমিটার। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তার বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করত রফিক। পরিচয়ের একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়। তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি দুই পরিবারকে জানায়। মেয়ের পরিবার মেনে নিলেও মানেনি রফিকের পরিবার। পরে তরুণীর পরিবার থানায় যেতে চাইলে হুমকি দেয় রফিকের পরিবার। একপর্যায়ে বিচার-সালিশে বসতে রাজি হয় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘বিচারে দুই পরিবারই ছিল। আমি রফিকের সংসার করতে চেয়েছিলাম। সে পুরো বিষয়টা স্বীকার করলেও বিয়ে করতে রাজি হয়নি। তখন স্থানীয় মেম্বার মিজান ও বিচারে উপস্থিত লোকজন দুই লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে রেহায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’
তরুণীর মা বলেন, ‘সৈয়দ নুর সন্ত্রাসী লোক। মেম্বার এ কথা বলায় আমরা দুই লাখ টাকায় রাজি হয়েছি। টাকা এখনো দেয়নি। মেম্বারের কাছে দেওয়ার কথা। বিয়েতে আমরা রাজি ছিলাম। গরিব মানুষ বলে তারা ভয় দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। তাই মানতে বাধ্য হয়েছি। এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কখন আবার হামলা করে। বাড়িটা একটু পাহাড়ের কিনারায়। যেকোনো মুহূর্তে হামলা করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় একটি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করিয়েছি। আমার মেয়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। টাকার জন্য এখনো রিপোর্টের কাগজ আনতে পারেনি। টাকার জন্য থানায়ও যেতে পারছি না।’
অভিযুক্ত পিএমখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আইনগতভাবে বিষয়টি আমি করতে পারি না। তবে সামাজিকতা রক্ষায় সালিশি বৈঠকে বসেছি। উভয়পক্ষের সম্মতিতে আমি বিচার করেছি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।’
পুলিশকে বিষয়টি জানাননি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর বলেন, ‘ছেলেটির পরিবারের সঙ্গে মেয়েটির পরিবার পেরে উঠবে না, তাই বিচার করে দিতে চেয়েছিলাম।’
অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিকের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক যাওয়ার খবরে তার বাবাও পালিয়ে যান। মুঠোফোনে দুজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ামাত্র ফোন কেটে দেয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান বলেন, ‘মেম্বার কখনো এ কাজ করতে পারেন না। কেউ তাদের থানায় আসতে না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট খীসা বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই বিচার করতে পারেন না। এটি সংশ্লিষ্ট থানার ব্যাপার। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব’।
মুহিববুল্লাহ/পপি/অমিয়/