ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির ভুলের কোনো সুযোগ নেই: ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের ৭৪৫ পদ শূন্য

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৩৩ এএম
আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪৪ এএম
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের ৭৪৫ পদ শূন্য
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরের পাঁচ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয়ে ৭৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ৪৯১টি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক, মনিটরিং কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী ও ২৩৮ দপ্তরির পদ রয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

জানা যায়, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৩৭টি পদের মধ্যে ১৬টি পদই শূন্য রয়েছে। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৪৯১টি পদ শূন্য রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেই সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১১টি পদের মধ্যে ৬টি পদই শূন্য। দুটি সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ১টি সহকারী মনিটরিং কর্মকর্তার পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনটি পদ খালি পড়ে আছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৭টি অনুমোদিত পদ থাকলেও কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী ও নৈশপ্রহরীসহ কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। শূন্য পড়ে আছে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, অফিস সহায়কসহ তিনটি পদ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাসিক সমন্বয় সভাসহ জেলা অফিসের সব কার্যক্রম দায়িত্বরত একজন কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতায় একাই পরিচালনা করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। জনবলের অভাবে প্রতিদিনই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। 

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলা ও ৫ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং ৭৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও দপ্তরি কাম-প্রহরীসহ মোট ৫ হাজার ৬২৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৮৭৯জন। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ ৭৪৫টি পদই দীর্ঘদিন থেকে খালি পড়ে আছে। 

লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৬৩টি পদের মধ্যে ৩৭টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় খালি পড়ে আছে দুটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ। সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৪ জন, বাকি ১৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য হয়ে আছে। লক্ষ্মীপুর সদরে ১৩টি পদের মধ্যে ১০টি, রামগঞ্জে ৭টির মধ্যে ৪টি, রামগতিতে ৬টির মধ্যে ২টি, রায়পুরে ৫টির মধ্যে ২টি এবং কমলনগরে ২টি পদের মধ্যে ১টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়াও ৫ উপজেলায় উচ্চমান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক ৫টি, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১০টি, হিসাব সহকারী ৫টি ও অফিস সহায়ক ৫টিসহ অনুমোদিত ২৫টি পদের মধ্যে ১৬টি পদই শূন্য পড়ে আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মরত দুজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, শিক্ষা কর্মকর্তার অধিকাংশ পদ খালি থাকায় তাদের ওপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করতে পারছেন না।

কমলনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় ৬৯টি বিদ্যালয় রয়েছে। সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তদারকিসহ উন্নয়ন কাজের পরিদর্শনে ৬ থেকে ৭ মাস লেগে যায়। এতে অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও উপকূলে মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে সব কাজেই ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ১৩জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে মাত্র তিনজনকে। সদর উপজেলায় ২৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ১৩টি ক্লাস্টারের আওতায় এসব বিদ্যালয়ে শুধু মনিটরিং করতেই তিনজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সময় লেগে যায় ৯ থেকে ১০ মাস। কর্মকর্তার অভাবে বর্তমানে ভিডিওকলের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’ 

রামগতি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. ইউসুফ জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪জন, দুটি খালি, একজন হিসাব সহকারীর দায়িত্বে থাকলেও উচ্চমান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়কসহ তিনটি পদ শূন্য। তা ছাড়া মেঘনার তীরবর্তী এ উপজেলায় ৯৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৬৭২টি পদ থাকলেও খালি পড়ে আছে ৩৩টি প্রধান শিক্ষক ও ৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ। উপকূলে শিক্ষার গতি বাড়াতে শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের দাবি করেন তিনিও।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি গোলাম মাওলা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ জনবল সংকটের ফলে একদিকে নিয়মিত বিদ্যালয় তদারকি হয় না, অপরদিকে দাপ্তরিক কাজ সারতে গ্রাম থেকে শিক্ষকদের শিক্ষা অফিসে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তা ছাড়া শিক্ষক সংকটের ফলে চরম আকারে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকসহ শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানান তিনি। 

ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সজীব মাতুব্বর। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। 

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার পূর্ব হাশামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর।

নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, ‘সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সুমন হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা আইন অনুযায়ী চলবে। এ মামলায় কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীবের শর্টগানের গুলিতে সুমন নিহত হন। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ওই এলাকায় দফায় দফায় আন্দোলন চলছে।

এনকেবি নয়ন/রিফাত/

টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কলা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছর বয়সি মাদরাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জাকির হোসেন শেখ (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তারাইল সিমানার খাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মহিলা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ পাটগাতী সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

শিশুটির চাচা বলেন, শুক্রবার দুপুরে শিশুটি পানি আনতে গেলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন তাকে কলা খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার দিলে তার মা দরজায় ধাক্কা দেন। তখন জাকির হোসেন শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে।

শিশুটির বাবা বলেন, দুপুরে খাওয়ার সময় শিশুটিকে চাপকল থেকে পানি আনতে বলি। তখন সে পানি আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

বাদল/এএফ

সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি
নোবেল মীর। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নোবেল মীর। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উদ্ভবগঞ্জ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেন। 

তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা হামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজের দলের লোকজনের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দফায় দফায় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করছেন। পুলিশ সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি। 

তিনি দাবি করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিনিও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে জাহাঙ্গীর আলম কৌশলে ১৪ বছর আগের একটি চেক চুরি করে নিয়ে বর্তমানে ‘চেক ডিজঅনার’ মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তবে আমাকে তিনি উল্টো ইউনিয়ন পরিষদে সবার সামনেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ইমরান/রিফাত/

নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী
ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন এবং প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন নিশাত আক্তার নামে এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নিশাতের মা নাজমা আক্তার (৬০) জানান, পালানোর সময় তার ঘর থেকে ওই মেয়ে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, মেয়ে নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের পিতা খোরশেদ আলম ও মাতা কুলসুম আক্তারকে আসামী করে চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ জুন হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমাম রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। অন্যদিকে নিশাত আক্তার (৩০) চাটখিলের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। তার স্বামী দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিশাতের স্বামী কানাডা থাকার সুবাদে তিন সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। এ সুযোগে বাড়ির পাশে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনেস সঙ্গে নিশাতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে কৌশলে বাবার বাড়িতে রেখে যান।

নিশাতের মা নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত তার ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকার একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যান।’

এদিকে নিশাতে শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে রিয়াজ ও নিশাতের বিবাহের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। নোয়াখালীর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরেও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘এ ঘটনায় মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মজনু/রিফাত/

ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

খ্রিস্টান ধর্মের ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট‘ সম্প্রদায়ের দুইজন ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে প্রতি শনিবার স্বাভাবিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। তাই তাদের জন্য রাতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। 

সারাদেশে এরকম ১৬০ শিক্ষার্থী রাতে পরীক্ষা দেবেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছেন দুইজন। তাদের একজন নগরের হালিশহর ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্রী এঞ্জেলি সুয়ারি ত্রিপুরা। অন্যজন বান্দরবান থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন। 

খ্রিস্টান ধর্মাবলস্বী ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের মানুষের শনিবার দিনের বেলায় পড়াশোনা করার নিয়ম নেই। শনিবার ছাড়া অন্য দিনগুলোতে দিনের বেলায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা নেই। 

গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরমধ্যে শনিবার পরীক্ষা পড়েছে ছয়টি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী, শনিবারের দিনগুলির মধ্যে ৪ জুলাই বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, ৮ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক), ১৮ জুলাই ভূগোল (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, ২৫ জুলাই অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র, ১ আগস্ট মনোবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র ও কৃষি (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র এবং ৮ আগস্ট ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র এবং শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৯টায় দুইজন খ্রিস্টান ধর্মাবলস্বী পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলেও ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না। তারা প্রায় ৯ ঘণ্টা একটি কক্ষে অবস্থান করে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যায় পরীক্ষার উত্তরপত্রে লেখা শুরু করবেন। পরীক্ষা শেষ হবে রাত ১০টায়।  

তবে বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, এই পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করবেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের কাছে প্রবেশপত্র ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। কোনো অবস্থাতেই তারা কক্ষের বাইরে যেতে বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। পরীক্ষা চলাকালে পরিদর্শক থাকবেন। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সঙ্গে শুকনো খাবার নিয়ে আসতে পারবেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, দুই বছরে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এবার শনিবারও পরীক্ষা রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সেশনের পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনা যায়। এই পরীক্ষার্থীরা সকালে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হলে প্রবেশ করে একটা কক্ষে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের পর তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। 

এসএন/