বড় বড় ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে এবং ব্যাংকিং লেনদেনের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ডাকাতি করত একটি চক্র। সম্প্রতি মারামারির নাটক সাজিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ডাকাতি করে নেওয়ার একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে দলের প্রধান মিরাজ আহমেদকে (২৬) গ্রেপ্তারের পর এ কথা জানান চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়দুল হক।
ওসি খবরের কাগজকে বলেন, ‘মিরাজ সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্রের মূলহোতা। সে তার সহযোগীদের সহায়তায় বড় বড় ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে এবং ব্যাংকিং লেনদেনের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে থাকে। ব্যবসায়ীদের টাকা কে, কখন, কোন ব্যাংকে জমা দিতে যায়। কে উত্তোলন করতে যায় তাদের টার্গেট করে তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখে। একপর্যায়ে যে ব্যক্তি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যায় কিংবা উত্তোলন করে তাকে টার্গেট করে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা স্থানে পৌঁছানো মাত্রই মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাতে কোনো পথচারী বাঁচানোর চেষ্টা না করে। মারামারির একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা বেশির ভাগই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে।’
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় নগরীর ব্রিজঘাট বিআইডব্লিউটিএ এলাকা থেকে মিরাজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল। মিরাজ নগরীর জুবিলী রোড এনায়েত বাজার এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি নগরীর নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি ভবনে বসবাস করত।
ওসি জানান, গত ৯ জুলাই দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে জুবিলী রোডে রয়েল টাওয়ারের সামনে রাস্তায় মারামারির নাটক সাজিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায় একটি চক্র। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে পাঁচ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দি ও মামলার তদন্তকালে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী মিরাজ আহমেদের নাম ওঠে আসে।
এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তারে কোতোয়ালি থানা দীর্ঘদিন নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে গতকাল ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে মিরাজ ডাকাতির কথা স্বীকার করে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সিএমপির ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলাসহ নগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
মনির/সাদিয়া/অমিয়/