অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের স্লিপারসহ মূল্যবান জিনিস। রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি না থাকায় মালামাল চুরি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মালামাল চুরির মামলা দিয়ে সময় পার করছে। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে দেখভাল না করায় স্টেশন ঘরগুলো এখন দখলে নিয়েছেন প্রভাবশালীরা। পরিত্যক্ত ভবনে বসছে মাদকের আড্ডা।
ব্রিটিশ শাসনামলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে ১৯২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইন চালু করা হয়। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর লোকসান দেখিয়ে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট চিফ ট্রাফিক ম্যানেজারের (পূর্ব) লিখিত এক আদেশে বাংলাদেশের আরও কয়েকটি রেলপথের সঙ্গে ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেললাইনটি ২৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। এর মধ্যে ৮টি স্টেশন রয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘ এ লাইনের রেল, স্লিপার ও স্টেশনের মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে। আর পরিত্যক্ত ঘরগুলো রয়েছে অবৈধ দখলদারদের দখলে এবং এগুলো মাদকাসক্ত ও অসামাজিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। অথচ এই রেলপথ ছিল একসময় পণ্য পরিবহন ও যাত্রীদের পদচারণে ছিল সরগম। আর সেটি এখর বন-জঙ্গল ও প্রভাবশালীদের দখলে।
ফুলগাজীর বাসিন্দা শফিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন স্টেশনের ভবনগুলো বন্ধ থাকায় মাদকসেবীরা দখল করে নিয়েছে। ভবনগুলোতে প্রতিনিয়ত মাদকের আড্ডা হয়। বাধা দিলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা আমাদের ওপর তেড়ে আসেন। হুমকি-ধমকির মধ্যে রাখেন। এ জন্য ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।’
পরশুরাম বাজারের ব্যবসায়ী আবু আহাম্মদ জানান, অনেক প্রভাবশালী লাইনের ওপর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্থান তৈরি করেছেন। সরকারের এসব সম্পদ তদারকি না করার কারণে যে যেভাবে পারছেন সে সেভাবে দখল করছেন। কারও কোনো তদারকি নেই।
মাস্টার আব্দুল কাইয়ুম জানান, রেল চলাকালীন তিনি যাত্রী ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ফুলগাজী থেকে পরশুরাম পর্যন্ত রেললাইনের স্লিপার চুরি হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফেনীর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেললাইনের স্লিপারসহ মালামাল চুরির বিষয় জিআরপি ও সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে।
ফেনী ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, ‘রেলপথটি চালু হলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিলোনিয়া স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পারাপারে যোগ হবে নতুন মাত্রা।’
ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হারুন বলেন, ‘সর্বশেষ ২০১৯ সালে লাইনটি পুনঃস্থাপনের জন্য ভারতের হায়দারাবাদের আরভে অ্যাসোসিয়েটস ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্টস কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয় রেল বিভাগ। ওই সময় আনুষঙ্গিক জরিপ প্রতিবেদন দেয় তারা।’ কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে প্রক্রিয়াটি থমকে যায় বলে জানান তিনি।
এদিকে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরিন আখতার জানান, ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের বিলোনিয়া অংশে স্থলবন্দর করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এই বন্দরের ষোলআনা সুফল ভোগ করতে হলে বিলোনিয়া রেললাইনের বিকল্প নেই। তাই দ্রুত এই লাইনটি চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। হয়তো অল্প সময়ে এর সুফল ভোগ করবেন এলাকাবাসী।
রেলপথটি সচল হলে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন চাকা। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান এমটাই ধারণা ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের। ফেনী বিলোনিয়া রেললাইনের মালামাল চুরি বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াসহ এটি পুনরায় চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কমনা করছেন এলাকাবাসী।