নগরের মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় বিএনপি-পুলিশ-বিজিবি সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রের দরজা-জানালা ভাঙচুর, রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ী ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করায় বিএনপির অন্তত ২৫০ নেতাকর্মীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) নগরের চাঁন্দগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, মো. রাকিবুল ইসলাম (২৫), মো. আজিম উদ্দিন (২৫), মফিজুল আলী (২৫), মঞ্জুর আলী (৫০), মো. হেলাল (২২), মো. হোসাইন (৩৩), মো. মানিক (২৯), মো. মহিন (২১), মো. রিয়াদ (২২), মো. আজম (২০), মো. মোবারক হোসেন (২০) ও মো. মামুন (৩৫)।
সংঘর্ষের ঘটনায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এরশাদ উল্লাহসহ মোশারফ হোসেন প্রকাশ ছোট মোশারফ (৪৩), রিয়াদ (৩০), আফছার (২৮), আব্দুর রহমান আলফাজ (২৭), নওশাদ আল জাশেদুর রহমান (৩৫), জামাল (৪২), হারুন (৪৫), মো. আরিফ (৪০), এরশাদ, রুবেল, রাশেদ, মনছুর, আসমান, মো. নাসির উদ্দিন, আকবর প্রকাশ বদি, মো. ওসমান, তুষার, নুর হোসেন, মো. আরিফ, জয়নাল আবেদিন সাকিব, জুনায়েদ হোসেন জিনুক, মানিক, রুবেল, আমজাদ, আরিফ মহিউদ্দিন, ইরফান, নাজিম, মো. হারুন, আনোয়ার হোসেন বাপ্পি, সাদ্দাম, সেলিমসহ সুনির্দিষ্ট ৪৫ জন এবং আরো ২০৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
চাঁন্দগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে ইটের ভাঙ্গা টুকরা, গাড়ীর কাচের ভাঙ্গা টুকরা, লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো তিনটি জর্দ্দার কৌটা দিয়ে তৈরি ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ উদ্ধার করেছি। সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন সকাল ৮টার পরে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা চাঁন্দগাওয়ের আরাকান সড়ক বন্ধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয়। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ সদস্য কম থাকায় তারা ভোটকেন্দ্রটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে পালিয়ে যায়। সেখানে দফায় দফায় ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত ৯টার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় চট্টগ্রামে ওয়েল গ্রপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা সৈয়দ নুরুল ইসলামের গাড়িতে হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় তার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হলেও তিনি গাড়ির ভেতরে থাকায় আহত হননি। পরে থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি।
এমএ/