চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা ভূমি অফিসে সেবার মান আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনের উন্মুক্ত গণশুনানিকেই সেবার গতি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সেবাগ্রহীতারা। এতে ভূমি অফিসের বিপক্ষে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর হয়ে আস্থা বাড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও। সেই সঙ্গে সেবাগ্রহীতারা সরাসরি অ্যাসিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে সেবা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। বাড়ছে ভূমি মালিকদের সন্তুষ্টিও।
সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগে এক কর্মদিবসে নামজারি ও অন্যান্য মিস মামলার (জমির মালিকানা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে মামলা) শুনানি হতো সাধারণত ১৫-২০টি। কিন্তু অফিস কক্ষের বাইরে উন্মুক্ত গণশুনানি হওয়ায় আবেদনকারীরা সরাসরি অ্যাসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। গণশুনানিতে নামজারি, মিস মামলা, আপত্তি ইত্যাদির শুনানি হচ্ছে শতাধিকের ওপরে। অনায়াসেই প্রতি গণশুনানিতে ৫০টিরও বেশি নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। বর্তমানে সপ্তাহের প্রতি সোম ও বুধবার গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সরেজমিনে সোমবার (২২ জানুয়ারি) সীতাকুণ্ড উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গোছানো, সজ্জিত পরিপাটি কার্যালয়ের বাইরের গোলঘরের সম্মুখের উঠানে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে আছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন। তার দুইপাশে নাজির ও অন্যান্য অফিস সহকারীরা ফাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পাশের একটি টেবিলে অনলাইনে ডিসিআর কাটা হচ্ছে। অন্য টেবিলে অনলাইনে খতিয়ান প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ডের অ্যাসিল্যান্ড আলাউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি কীভাবে খুব সহজে মানুষকে ভূমিসেবা দেওয়া যায়; কেননা মানুষকে তার কর্ম ঠিক রেখে সংসার চালাতে হবে। কালক্ষেপণ যেন না হয় এবং সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্তভাবে ভূমির নামজারি ও অন্যান্য সেবা যেন সবাই সহজভাবে পায় এটাই কাম্য। আমার অফিসকেও আমি সেভাবে তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ডিজিটাল রেকর্ডরুম তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। সব সেবা এখন অনলাইনে মিলছে। এছাড়াও স্মার্ট ভূমি অ্যাপ প্রস্তুত আছে। সরকারি জমির অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।