কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। এ সময় উখিয়ার লাল পাহাড়ের আস্তানা থেকে মজুতকৃত অস্ত্রসহ আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
তারা হলেন, আরসার গান কমান্ডার উসমান, মাইন বিশেষজ্ঞ নেছার এবং শুটার ইমাম হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) ভোর রাত থেকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২০ এক্সটেনশনসংলগ্ন লাল পাহাড়ের ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগকারী আরসা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র্যাব এ অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের মিডিয়া কর্মকর্তা আবু সালাম চৌধুরী।
র্যাব কমান্ডার সাজ্জাদ হোসেন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আরসা প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনি ও মাস্টার খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লাল পাহাড়ে আস্তানা গেড়ে সেখানে অস্ত্র মজুত করে আরসা সন্ত্রাসীর একটি গ্রুপ। আতাউল্লাহ ও খালেদের নির্দেশে সেসব অস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে তারা। এই আস্তানায় ৬-৭ জনের একটি দলের অবস্থান করছে, খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এতে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি, বাকিরা পালিয়ে যায়। আটকদের কাছ থেকে ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক শর বেশি গোলবারুদ উদ্ধার করা হয়।’
গ্রেপ্তার উসমান হলেন আরসার গান গ্রুপের কমান্ডার। কয়েক মাস আগে আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার সমিউদ্দিন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলে পরবর্তী সময় উসমানকে গান গ্রুপ কমান্ডার নিযুক্ত করে আরসা। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে একটি একে-৪৭ নিয়ে পরিবারসহ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে উসমান। পরবর্তী সময় মাস্টার খালেদের সঙ্গে আরসায় যোগ দেন। র্যাব আরও জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উসমান নিজের হাতে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করেছে।
আরেক আরসা সদস্য নেছার হলো মাইন বিশেষজ্ঞ। যার হাত দিয়ে তৈরি করেছে পাঁচ শর বেশি মাইন। র্যাব জানায়, আরসার মাইন গ্রুপের ১০ সদস্যের একজন হলেন নেসার। এ ছাড়াও গ্রপ্তার ইমাম হোসেন দক্ষ শুটার। তিনি উসমানের গান গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য বলে জানান র্যাব কমান্ডার। গ্রেপ্তার হওয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।