চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথের ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের ঘটনায় তার স্ত্রী বনশ্রী নাথ বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) তিনি চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুরাল আদালতে মামলাটি করেছেন।
আদালতের বিচারক জহিরুল কবির মামলাটি গ্রহণ করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তের জন্য দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়শ্রী দে খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাদীর ছেলে নক্ষত্র দেব নাথের পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনটি অন্য কেউ করেছে। আমরা জানতে পেরেছি যে রেফারেন্স আইডি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি বোর্ডের সাবেক সচিব আবদুল আলীমের। এটি দুরভিসন্ধিমূলক। এ ছাড়াও মানহানি করে যেসব বক্তব্য গণমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে আমরা সেসব মামলায় উল্লেখ করেছি।’
এ মামলায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল আলীম ও মো. ইদ্রিস আলীকে আসামি করা হয়েছে। আবদুল আলীম চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ির ২ নম্বর গলির বাসিন্দা এবং ইদ্রিস আলী চকবাজারের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও পরিবেশবিদ হিসেবে পরিচিত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে আসামি আবদুল আলীম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথকে হেনস্তা করে আসছেন এবং সুনাম ক্ষুণ্ন করতে নানাভাবে অপকৌশল প্রয়োগ করছেন। কুমতলবে অপকৌশল খুঁজে আসছেন। আর দ্বিতীয় আসামি ইদ্রিস আলী, আবদুল আলীম এসব কূটকৌশলকে সহযোগিতা করে আসছেন। ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর আবদুল আলীম অবসরে যান। বিদায়ের সময় তিনি নারায়ণ চন্দ্র নাথকে অপমান অপদস্ত করার হুমকি দেন এবং অতঃপর তার পরিবারের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ গেল বার এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। তার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় অভিযোগকারী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে যান। কিন্তু দেখেন যে, কে বা কারা সেই আবেদন করে দিয়েছে। পরে টেলিটকে আবেদন করলে সেখান থেকে জানানো হয়, আবেদনের রেফারেন্স নম্বরটি ১ নম্বর আসামি আবদুল আলীমের। এমনকি পাঁচলাইশ থানায় করা জিডির তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছেও ১ নম্বর আসামি তার মোবাইলের ওই সিমে ম্যাসেজ যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানাননি কিংবা নিজেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি। আর ২ নম্বর আসামি সম্মানহানি করে বিভিন্ন টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন নিউজ সম্মানহানিকর ক্যাপশন দিয়ে শেয়ার করে যাচ্ছেন। দুজনই ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ সালে ১৮/২৪/২৬/৩৩ ধারায় অপরাধ করেছেন। আসামিরা আইনগত অধিকার না থাকলেও ইচ্ছেকৃতভাবে ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে এটি করেছেন। এ মামলায় বাদী ও তার পরিবারের ২ সদস্যসহ মোট ৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এমএ/