চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব ডাকাতিয়ার পাড়ে আগে শত শত সাদা বক দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে থাকার জায়গা ও খাদ্যসংকটে বিলুপ্তির পথে এসব পাখি। খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এমন সংকটে পড়েছে সব বক।
শহরের সবচেয়ে বড় ময়লার ভাগাড় স্বর্ণখোলা এলাকায়। আর এখানে খাবারের খোঁজে আসে বকগুলো। এখানে প্রতিদিন শত শত বক জীবন বাঁচাতে খাচ্ছে বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা। ফেলে দেওয়া ময়লা-আবর্জনা আর নষ্ট-পচা খাবার খেয়ে অবাধে বিচরণ করছে বিলুপ্তপ্রায় পাখিরা।
জানা যায়, বকের প্রধান খাদ্য মাছ। এ ছাড়া ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ পোকা খেয়েও জীবন ধারণ করে থাকে। তবে এখন জীবন বাঁচাতে ময়লার ভাগাড়ে খাদ্যের সন্ধান করছে জলচর এই পাখিরা। বর্তমানে খাদ্যসংকটে বকের প্রজননও অনেক কমে গেছে। দেশে সাধারণত কানিবক, সাদাবক, গো-বকসহ বেশ কয়েক প্রজাতির বক দেখতে পাওয়া যায়।
পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, নদী-নালা, খাল-বিল, বন-জঙ্গল আগের মতো সংরক্ষণ করা হলে দেশীয় এই বক রক্ষা করা সম্ভব। তবে এভাবে বকের খাবারসংকট চলতে থাকলে অচিরে বিলুপ্ত হতে পারে এসব বকপাখি।
এ বিষয়ে শহরের বাসচালক ইসহাক মিজি বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডের পাশেই এই ময়লার স্তূপ। প্রতিদিন সকালে এই জায়গায় দলবেঁধে বকগুলো আসে। আগে পুকুর কিংবা খালে এসব বক দেখতাম। কিন্তু এখন আর দেখি না। মূলত খাবারের খোঁজে তারা এই জায়গাটি নিরাপদ মনে করছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামাল বলেন, ‘সারা জীবন জেনেছি বক মাছ, ব্যাঙ খায়। কিন্তু গেল কয়েক বছর ধরে দেখছি ময়লার এই ভাগাড়ে ঝাঁক বেঁধে বক খাবার খেতে আসে। আসলে আগের মতো খাল-বিল না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ময়লার ভাগাড়ে খাবারের সন্ধানে আসে।’
পরিবেশ সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমরা প্রকৃতির উপকার করতে না পারি। কিন্তু আমাদের দিয়ে যেন প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না হয়, এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে হবে।’
চাঁদপুর সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সুলতানা তৌফিকা আক্তার বলেন, ‘নগরায়নের কারণে এখন আর আগের মতো জলাশয় দেখতে পাওয়া যায় না। এর ফলে বকসহ অন্য পশু-পাখি খাদ্যের ঘাটতিতে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ময়লার ভাগাড় থেকে আবর্জনা খেয়ে জীবনধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ময়লার ভাগাড়ে অনেক বিষাক্ত পদার্থ থাকে। এর ফলে অনেক পশু-পাখি মারা যাচ্ছে। এদের বংশবিস্তার কমে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি জানতাম না। মূলত পশু-পাখি খাবারসংকটে থাকলে তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে টিকে থাকতে চায়। এটি প্রকৃতির জন্য ভালো কোনো লক্ষণ নয়।’