ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী

পাহাড়বিধ্বংসী ইটভাটা

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৯ পিএম
আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১০ পিএম
পাহাড়বিধ্বংসী ইটভাটা
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার একটি অবৈধ ইটভাটার আগুন নিভিয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি : খবরের কাগজ

দেশের এক-দশমাংশ অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় এখন লোভের আগুনে পুড়ছে। উজাড় হচ্ছে আরণ্যক প্রকৃতি। বিবর্ণ ধূসর হচ্ছে পরিবেশ। অনেকটাই হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

দ্রুত অর্থ লাভের অসুস্থ দৌড়ে পরিবেশবিধ্বংসী প্রতিযোগিতায় অনেক স্থানেই আস্ত পাহাড় কেটে স্থাপন করা হচ্ছে ইটভাটা। এসব ভাটায় ইট তৈরির কাঁচামাল মাটির জোগান দিতে দেদার কাটা হচ্ছে পাহাড়। আর বনাঞ্চলের কচি গাছ কেটে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে এই ইট। ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনি। এসব ইটভাটা স্থাপনে জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও মানা হচ্ছে না। নেই পরিবেশ ছাড়পত্রও।

পার্বত্য তিন জেলার পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১২৪টি ইটভাটা। এর মধ্যে বান্দরবান জেলায় ৫৯, খাগড়াছড়িতে ৪০ ও রাঙামাটিতে রয়েছে ২৫টি ইটভাটা। বছরের পর বছর ধরে এসব ইটভাটায় কোটি কোটি ইট যেমনি পোড়ানো হচ্ছে, তেমনি বছর বছর বাড়ছে ইটভাটার সংখ্যাও। হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়েছে চিঠি।

শীত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিল বর্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত একটানা চলে ইট উৎপাদন। মাটির জোগান দিতে কাটা হচ্ছে পাহাড়-কৃষিজমি। জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে বনের গাছ। ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনি। স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানে মিলেছে এর সত্যতা। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনেককেই গুনতে হচ্ছে অর্থদণ্ড। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে অনেক ইটভাটার কার্যক্রম।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রণীত ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’-এ আইন লঙ্ঘনে এক বছর থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ আইনের ১৪ থেকে ১৮ পর্যন্ত ধারায় জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত করলে অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা কাটার দায়ে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আবার জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর দায়ে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। 

চলতি মৌসুমে গত দুই মাসে তিন জেলায় ৩১টি ইটভাটায় পাহাড় কাটা ও জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর অপরাধে ১৭ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রামমাণ আদালত। এদের মধ্যে রাঙামাটির চার উপজেলায় ৯টি ইটভাটাকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২০ জানুয়ারি কাউখালীর দুই ইটভাটাকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং নতুন কাঁচা ইট সম্পূর্ণ ধ্বংস করে নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে ইটভাটার আগুন।

একই দিন বাঘাইছড়িতে তিন ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৫ হাজার কাঁচা ইট ধ্বংস করে যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২১ জানুয়ারি লংগদু উপজেলার দুই ইটভাটাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ ইটভাটার ড্রাম চিমনি ভেঙে দিয়ে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৫ জানুয়ারি কাপ্তাইয়ের রাইখালীর ভালুকিয়া এলাকায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় একটি বন্ধ ইটভাটাকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩০ নভেম্বর লংগদুর আটারকছড়ায় একটি ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ড্রাম চিমনি ধ্বংস করে ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

খাগড়াছড়িতে ১৬টি ইটভাটায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ও চার হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি রামগড়ে তিন ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা, ২৯ জানুয়ারি মাটিরাঙ্গায় পাহাড় কাটার দায়ে এক ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২৪ জানুয়ারি রামগড়ে চারটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে চার হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়। ৯ ডিসেম্বর রামগড়ে জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর অপরাধে দুটি ইটভাটাকে ১ লাখ টাকা, ৬ ডিসেম্বর মাটিরাঙ্গায় আদর্শগ্রাম ও ইসলামপুরে দুই ইটভাটায় দেড় লাখ টাকা এবং ৩০ নভেম্বর গুইমারায় পাঁচটি ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বান্দরবানে ছয়টি ইটভাটায় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা ও একটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে ২৫ জানুয়ারি লামা উপজেলার আজিজনগরে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ১৫ জানুয়ারি থানচি উপজেলার একমাত্র এসবিএম ইটভাটাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর বান্দরবানে জেলা সদরের কুহালং ইউনিয়নের গুংগুরু পাড়ায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চারটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির সব লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার কার্যক্রম সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি রুলসহ এ আদেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিন জেলার বিভিন্ন ইটভাটার মালিকরা রিট পিটিশন করলে তা খারিজ ও আপিল বিভাগে দুটি আপিল করলে আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেন চেম্বার কোর্ট, স্থিতাবস্থা বৃদ্ধি করেননি।

হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও পাহাড়ে অবৈধ ইটভাটা চালু থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসায় সর্বশেষ গত ৯ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির সব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করতে তিন জেলা প্রশাসককে নোটিশ পাঠানো হয়। অন্যথায় জেলা প্রশাসকদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুসারে অসদাচরণের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এইচআরপিবির পক্ষে এ নোটিশ পাঠান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এর পরই এ অভিযানে নামে মাঠ প্রশাসন।

রাঙামাটির সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার জোয়ার্দার বলেন, জেলায় ২৫টি ইটভাটা আছে। এদের কোনোটিরই লাইসেন্স নেই। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, ইতোমধ্যে জেলার বেশ কিছু উপজেলায় কয়েকটি অবৈধ ইটভাটাকে আর্থিক জরিমানাসহ তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য জেলার সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সজীব মাতুব্বর। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। 

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার পূর্ব হাশামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর।

নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, ‘সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সুমন হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা আইন অনুযায়ী চলবে। এ মামলায় কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীবের শর্টগানের গুলিতে সুমন নিহত হন। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ওই এলাকায় দফায় দফায় আন্দোলন চলছে।

এনকেবি নয়ন/রিফাত/

মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শিশেরকুন্ডু গ্রামে মামার লাঠির আঘাতে ভাগ্নে নিহত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু বক্কর (৩০) ওই গ্রামের আলী আকবর’র ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার শিশেরকুন্ডু গ্রামের আবু বক্করের সাথে তার মামা সিরু মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। মঙ্গলবার রাতে বিরোধপুর্ণ ওই জমির বাঁশ কাটা নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মামা সিরু মিয়া লাঠি দিয়ে আবু বক্করের মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হলে প্রথমে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় রেফার্ড করে চিকিৎসক। শুক্রবার দুপুরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আবু বক্কর।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কলা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছর বয়সি মাদরাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জাকির হোসেন শেখ (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তারাইল সিমানার খাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মহিলা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ পাটগাতী সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

শিশুটির চাচা বলেন, শুক্রবার দুপুরে শিশুটি পানি আনতে গেলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন তাকে কলা খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার দিলে তার মা দরজায় ধাক্কা দেন। তখন জাকির হোসেন শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে।

শিশুটির বাবা বলেন, দুপুরে খাওয়ার সময় শিশুটিকে চাপকল থেকে পানি আনতে বলি। তখন সে পানি আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

বাদল/এএফ

সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি
নোবেল মীর। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নোবেল মীর। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উদ্ভবগঞ্জ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেন। 

তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা হামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজের দলের লোকজনের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দফায় দফায় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করছেন। পুলিশ সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি। 

তিনি দাবি করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিনিও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে জাহাঙ্গীর আলম কৌশলে ১৪ বছর আগের একটি চেক চুরি করে নিয়ে বর্তমানে ‘চেক ডিজঅনার’ মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তবে আমাকে তিনি উল্টো ইউনিয়ন পরিষদে সবার সামনেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ইমরান/রিফাত/

নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী
ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন এবং প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন নিশাত আক্তার নামে এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নিশাতের মা নাজমা আক্তার (৬০) জানান, পালানোর সময় তার ঘর থেকে ওই মেয়ে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, মেয়ে নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের পিতা খোরশেদ আলম ও মাতা কুলসুম আক্তারকে আসামী করে চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ জুন হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমাম রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। অন্যদিকে নিশাত আক্তার (৩০) চাটখিলের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। তার স্বামী দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিশাতের স্বামী কানাডা থাকার সুবাদে তিন সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। এ সুযোগে বাড়ির পাশে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনেস সঙ্গে নিশাতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে কৌশলে বাবার বাড়িতে রেখে যান।

নিশাতের মা নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত তার ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকার একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যান।’

এদিকে নিশাতে শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে রিয়াজ ও নিশাতের বিবাহের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। নোয়াখালীর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরেও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘এ ঘটনায় মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মজনু/রিফাত/