ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আটটি বিদ্যালয়ের পুরাতন পাকা ভবন বিক্রি করা হয়েছে মাত্র এক লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকায়! সংশ্লিষ্টরা আগেই কম দামে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রকাশ্যে নিলাম ডেকে এসব ভবন বিক্রি করা হয়।
তারা আগেই আটটি পুরাতন ভবনের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করে রেখে ছিলেন এক লাখ ৬৮ হাজার ১১৬ টাকা মাত্র। পরে সামান্য বেশি দর দেখিয়ে ভবনগুলো প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কম দাম দেখিয়ে ভবনগুলো নিলামে তুলে। অথচ কিছু সময় পরই ভবনগুলো ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি দামে নিলামে ডাক উঠে। এতে সরকার প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ছয়ঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুরপুর ক্যাপ্টেন মাহাবুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাটামাথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনগুলো বিক্রি করা হয়।
ভবনগুলো ভিত্তিমূল্যের চেয়ে আটশত থেকে তিন হাজার টাকা বেশিতে বিক্রি করা হয়।
এর মধ্যে আনোয়ারপুর বিদ্যালয় ভবন ৯ হাজার ৫০০ টাকা, ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ভাটামাথা বিদ্যালয় ভবন, নুরপুর ক্যাপ্টেন মাহাবুব বিদ্যালয় ভবন ১৩ হাজার টাকা, রাধানগর বিদ্যালয় ভবন ৩০ হাজার টাকা, নুরপুর বিদ্যালয় ভবন ২৮ হাজার টাকা, নয়াদিল বিদ্যালয় ভবন ৩০ হাজার টাকা, ছয়ঘরিয়া বিদ্যালয় ভবন ২৪ হাজার টাকা ও জাঙ্গাল বিদ্যালয় ভবন ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রকাশ্যে নিলাম ডেকে এসব ভবন বিক্রি করা হয়। নিলামে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সব ঠিকাদারকে একত্রিত করে সমঝোতা করেন। তারা যেন বেশি দামে ভবন না কেনেন। পরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সামান্য বেশি দামে কেনা হয়। পরে আবার ফিরতি ডাকে বেশি দামে ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। তারা লাভের টাকা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেন।
আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা ফেরদৌসী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি যে দামে বিক্রি করা হয়েছে তা খুবই কম। তবে কিভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল তা আমার জানা নেই। তাই কিছু বলতে পারছি না।’
এ ব্যাপারে চলতি দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। নিলাম হওয়া বিদ্যালয়ের ভবনগুলো সম্পর্কে আমার খুব একটা ধারণা নেই। উপজেলা প্রকৌশলী দাম নির্ধারণ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’
তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম সুমনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। রবিবার দুপুরে তার কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিলাম ডাকের নিয়ম মেনেই সব কিছু করা হয়েছে।’
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিলাম কমিটির সভাপতি রাবেয়া আক্তার বলেন, ‘ভিত্তিমূল্যের চেয়ে বেশি দরে বিক্রির যে নিয়ম সেটা মেনেই সব করা হয়েছে। প্রকাশ্যে নিলাম ডাকের বাইরে কি হয়েছে সেটা আমার জানা নেই।’
জুটন বনিক/সাদিয়া নাহার/অমিয়/