যৌতুক, মাদক, জঙ্গিবাদ ও নারী নিপীড়ন থামাতে সম্মিলিত কণ্ঠে না বলার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম।
শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রজভীয়া নূরীয়া কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে নগরের লালদীঘি চত্বরে আয়োজিত যৌতুক ও মাদকবিরোধী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পেয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘যৌতুক, মাদক, নারী ও শিশু নিপীড়ন থামাতে সম্মিলিত কণ্ঠে না বলুন। সামাজিক এই দুষ্টক্ষতের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন। যৌতুক দেওয়া-নেওয়া দেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক ঘৃণ্য অপরাধ। যৌতুক দিতে না পেরে দেশে প্রতিদিন শত শত দরিদ্র পরিবারে ঘোর অমানিশা নেমে আসছে। যৌতুকের অভিশাপ ও গ্লানি থেকে দরিদ্র পরিবারগুলোকে বাঁচাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’
মহাসমাবেশের উদ্বোধক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদুল আলম সুজন বলেন, ‘আল্লামা আবুল কাশেম নূরীর মতো দেশের আলেম, পীর ও ওলামা মাশায়েখ যৌতুক মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে আশাতীত সুফল মিলতে পারে। তরুণদের বিপথগামিতা রুখতে বড়দেরকেও আজ দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’
মূখ্য আলোচক ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন, ‘যৌতুক-মাদক-জঙ্গিবাদ আজ দেশের জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন সামাজিক দুষ্টক্ষত নির্মূলে দেশজুড়ে সামাজিক জাগরণ গড়ে তুলতে সাবাইকে আল্লামা আবুল কাশেম নূরীর পাশে দাঁড়ানো দরকার। মসজিদে ওয়াজ মাহফিলে ইমাম ও আলেম সমাজ যদি উক্ত সমস্যাগুলোর ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করেন, তবে অচিরেই সুফল মিলবে।’
চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, ‘যে দায়িত্ব সরকার ও সুশীল সমাজের পালন করার কথা- তা আল্লামা আবুল কাশেম নূরী একাই পালন করে যাচ্ছেন। এতে তিনি বরেণ্য সর্বমহলে সমাদৃত গণ্য হবেন। যৌতুক-মাদক-জঙ্গিবাদ ও নারী-শিশু নিপীড়ন আজ সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে সজাগ ও সোচ্চার না হলে বিদ্যমান পরিস্থিতি কখনো বদলাবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে যৌতুক ও মাদকবিরোধী আন্দোলনের রূপকার পীরে তরিক্বত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী বলেন, ‘আজ আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যৌতুক, মাদক জঙ্গিবাদসহ নারী ও শিশু নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। সবাই আমার পাশে দাঁড়ালে অচিরেই দেশ এসব সামাজিক দুষ্টক্ষত থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারে।’
মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী, জেনারেল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ দৌলতী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, নাফিস স্টিলসের স্বত্বাধিকারী আলহাজ মুহাম্মদ নঈমুল ইসলাম পুতুল ও ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলী হোসেন আরিফ।
সমাবেশ শেষে যৌতুক ও মাদকবিরোধী বিশাল র্যালি নগরের লালদীঘি আন্দরকিল্লা চেরাগী পাহাড় হয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এসে সমাপ্ত হয়। পরে দেশ জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি-কল্যাণ এবং ফিলিস্তিনসহ নিপীড়িত মানবতার কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়।
ইফতেখারুল/পপি/অমিয়/