চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানের ব্যবসায়ী শাহ আলম। বর্তমানে পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় ব্যবসায়ী তিনি। কারণ, দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির সময়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন শাহ আলম। পণ্য কেনা ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে মাত্র এক টাকা লাভে বিক্রি করেন তিনি। পণ্য বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন এই ব্যবসায়ী।
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই খাদ্যপণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। রমজান মাস এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যের মজুত করে দাম বাড়িয়ে দেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে এসব ব্যবসায়ীর মাঝেও আছে ব্যতিক্রম। তেমনই একজন মানবিক ব্যবসায়ী শাহ আলম। তিনি মাহে রমজান উপলক্ষে মাত্র এক টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও এক টাকা লাভে পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন। স্থানীয়রা রমজানের আগাম পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার চরকুমিরা চালতাতলা সুপার মার্কেটে শাহ আলমের দোকানে। কম দামে পণ্য পাওয়ায় খুশি তারা।
আহসান উল্লাহ খান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘শাহ আলম একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়েও অনেক বড় কাজ করেছেন। সারা দেশে অন্য ব্যবসায়ীরা যেখানে রমজান এলে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন, সেখানে তিনি এক টাকা লাভে বিক্রি করছেন। এটি আমাদের জন্য আনন্দের। এই এলাকার মানুষ এখান থেকে পণ্য কিনে উপকৃত হচ্ছেন।’
অটোরিকশাচালক দেলোয়ার বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করি। শাহ আলম ভাই যে কাজ করেছেন, তা প্রশংসনীয়। কোথাও তার মতো কম দামে বিক্রির কথা শুনিনি। দূর থেকেও তার কাছে মানুষ আসে রমজানের কেনাকাটা করতে।’
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী খোরশেদ বলেন, ‘আমার পাশের দোকানি শাহ আলম। তিনি রমজান এলেই কম দামে দ্রব্যমূল্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। মানুষের কথা চিন্তা করে এক টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করছেন তিনি।’
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম বলেন, ‘মাহে রমজান মাসে মুড়ি, ছোলা (বুট), খেজুর, খেসারির ডাল, বেসন, সয়াবিন তেল, চিড়াসহ যাবতীয় মুদি মাল কম দামে বিক্রি করে থাকি। এসব পণ্য কেজিতে মাত্র এক টাকা লাভে বিক্রি করি। পণ্যের মূল্যতালিকাও দোকানে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরও একইভাবে পণ্য বিক্রি করেছি। গত বছরের মতো এবারও প্রতি কেজি পণ্য এক টাকা লাভে বিক্রি করাতে এলাকার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।’
শাহ আলম আরও বলেন, ‘রমজান মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলো বিপাকে পড়েন। তাই গরিব, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের কথা মাথায় রেখে মাহে রমজানে অল্প লাভে পণ্য বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন, তাদের কাছে আমার দাবি থাকবে, তারাও যেন মানুষের কথা চিন্তা করে সীমিত লাভ করেন।’