চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় চিনির গুদামে লাগা আগুন এখনও পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৮ ঘণ্টায়ও এই আগুন পুরোপুরি নির্বাপন করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে নির্বাপনের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নির্বাপন করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে চারদিক থেকে ঘিরে কাজ করছে ফায়ার ফাইটাররা। বুধবার (৬ মার্চ) সকালের মধ্যে পুরোপুরি নির্বাপনে আনার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।
ফায়ার সার্ভিসের সূত্র মতে, আগুন নেভাতে দুপুর পর্যন্ত ১২টি ইউনিট কাজ করেছিল। পরে আগুনের চাপ কমে আসায় দুটি ইউনিট কমানো হয়েছে। বর্তমানে কর্ণফুলী মডার্ন ফায়ার স্টেশন, পটিয়া ফায়ার স্টেশন, চন্দনপুরা ফায়ার স্টেশন, হাটহাজারী ফায়ার স্টেশন, বায়েজিদ ফায়ার স্টেশন, লামারবাজার ফায়ার স্টেশন ও রাউজান ফায়ার স্টেশনের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। আগুন লাগার রাতে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করেছিল।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানায়, ২৫ থেকে ৩০ হাজার বর্গফুট জায়গার উপর এই চিনির গুদামটি তৈরি করা হয়। গোডাউনটির উচ্চতা ৫ তলা ভবনের সমান। আগুনের কুণ্ডলী এবং তাপ এত প্রখর ছিল পানি দিলে তা বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছিল। পরে সোমবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু এখনও পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। তবে আগুনের চাপ আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোন ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তারা।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দীনমনি শর্মা খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে আমাদের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। আমরা আগুন নেভাতে ফোম ব্যবহার করছি। পাশাপাশি আমাদের একটা রিমোর্ট কন্ট্রোল বিশেষ গাড়ি আছে। সেটা ব্যবহার করে আমরা আগুনের মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে এনেছি। আশা করছি বুধবার সকালের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া চিনি গলে লাভার মতো গড়িয়ে বের হওয়ার কারণে আমাদের কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। পরে এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে ট্রাকে করে বালি ফেলে বাঁধ দেওয়া হয়। মূলত আগুন লাগার পর থেকে আমরা গুদামটিকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছি, যাতে আগুন বাইরে ছড়াতে না পারে। এতে আশপাশের স্থাপনাগুলো বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। পাশে থাকা একই কোম্পানির মালিকানাধীন চিনি পরিশোধনের মূল মেশিনারিজ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। আমরা আগুন লাগার কারণ এখনও জানতে পারিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) কর্ণফুলী চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর এলাকায় গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদ।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগুন নেভানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। আগুন নিভে গেলে আগামী দুদিনের মধ্যে মিল পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। তখন চিনির সরবরাহে কোন প্রকার ঘাটতি হবে না বলে জানান তিনি।
এর আগে সোমবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে কর্ণফুলী চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর এলাকায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলস লিমিটেডের গুদামে আগুন লাগে। চিনির গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক লাখ টন অপরিশোধিত চিনি (র সুগার) পুড়ে গেছে।
তারেক মাহমুদ/এমএ/