টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অভিযুক্ত মির্জাপুর উপজেলার ১ নং মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
ছয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুরের এই মারধরের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার নুপুরের হাতে একটি লাঠি, কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। ওই নারী এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারেন। পরে ওই নারী ও তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাদের ও পেটাতে দেখা যায়।
জানা যায়, ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরের বাড়িও একই গ্রামে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মন্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তাঁর দুই মেয়ে রত্ম সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।
বাসন্তী রানী অভিযোগ করে বলেন, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাঁদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।
বাসন্তী রানী বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, বিভাষ সরকার নুপুরের ভয়ে এলাকায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, সামান্য বিষয় নিয়েও তিনি লোকজনকে মারধর করেন।
ছাওয়ালী বাজারের বাসিন্দা বিপুল দাস বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভাষ সরকার নুপুর তার লোকজন দিয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করিয়েছিলেন। তার মা বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়, তারপরও চার বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি বলেন, ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট থেকে এধরনের ঘটনা কখনো কাম্য নয়। তার উচিৎ ছিল আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, কে কাকে মারছে ভিডিও দেখে চেনার উপায় নেই। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুয়েল রানা/এসএন