মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম ছাড়ছেন ঘরমুখী মানুষ। ফলে বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে বেড়েছে যাত্রীদের সরব উপস্থিতি। তবে মহাসড়কগুলোতে যানজট প্রতিবছরের তুলনায় অনেকটাই কম। এতে স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।
ঈদের পর শুক্র, শনিবার এবং পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় এবার স্বস্তি নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন ঘরমুখী মানুষ। ঈদের আরও কয়েক দিন বাকি থাকলেও যারা সুযোগ পেয়েছেন তারা বাড়ি যেতে শুরু করেছেন।
জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ থেকে যাত্রীদের মাঝে আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এবার স্পেশালসহ আন্তনগর ট্রেনে করে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ হাজার যাত্রী বাড়ি যেতে পারবেন।
সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ঈদের আগে ৮ ও ৯ এপ্রিল, ঈদের পরদিন থেকে তিন দিন দুটি স্পেশাল ট্রেন চলবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চারটি ট্রেন, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে দুটি ট্রেন, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে দুটি ট্রেন চলবে। এসব ট্রেন ৫ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ও ঈদের পরের দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন পর্যন্ত চলবে।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে কথা হয় গৃহিণী সালেহা বেগমের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় যাব। আমার স্বামী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ১০ এপ্রিল থেকে তার ছুটি শুরু হবে। ততদিন অপেক্ষা করলে মানুষের ভিড় বাড়বে। তাই ট্রেনের আগাম টিকিট কাটায় এখন স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারছি।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আবু তালেব বলেন, ‘আমি ১০ দিন আগে ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছি। সামনে আরও দুই দিন অফিস খোলা থাকায় এখনো মানুষের ভিড় বাড়েনি। তাই এ সুযোগে স্বস্তিতে বাড়ি ফেরা সম্ভব হবে।’
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, গত ৩ এপ্রিল থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটে ঘরমুখী যাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছে। বুধ, বৃহস্পতিবার যাত্রীদের তেমন ভিড় ছিল না। শুক্রবার থেকে যাত্রীদের উপস্থিতি বেশ ভালো লক্ষ্য করা গেছে। সামনে আরও বাড়বে।
এদিকে নগরের এ কে খান, অলংকার ও গরীবুল্লাহ শাহ এলাকার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ভালোই লক্ষ্য করা গেছে।
নগরের গরীবুল্লাহ শাহ এলাকায় শ্যামলী বাস কাউন্টারে কথা হয় ষাটোর্ধ্ব আজিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। ১০ এপ্রিল থেকে তার ছুটি শুরু হবে। নাতি-নাতনিরা এখনো ছোট। ছেলের জন্য অপেক্ষা করলে দেরি হয়ে যাবে। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম। মহাসড়কে যানজটও নেই বলে শুনেছি। আশা করছি আমাদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।’