ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘বিড়ালের অভিশাপে’ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র মেসি ও সালাহর সামনে রেকর্ডের হাতছানি জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সদাচারী জ্ঞানসাধক আবুল কাসেম ফজলুল হক কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র অবিরাম বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বান্দরবান, খোলা হলো ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র কারণ জানুন বিশ্ববাজারে ব্যবসা বাড়াতে নতুন রূপে ‘টিপসই’ মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী কম্বোডিয়ায় মানবপাচার ও তরুণ নিহতের ঘটনার মূলহোতা গ্রেপ্তার লাকড়ির স্তূপে বিষধর সাপ, প্রাণ গেল নারীর পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের রাতের রানিতে সেজেছে পেকুয়ার পাহাড় নোয়াখালীর ২ হাসপাতালকে জরিমানা লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি ৭৩১ জনকে চাকরি দেবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বিমা খাতকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর ব্রাজিলিন্টিনা টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে পতেঙ্গা সৈকতসংলগ্ন সড়কে ধস জাদুঘরে ফিরল ১১৯ বছরের পুরোনো তিমির কঙ্কাল ‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’

রিমালের ক্ষত নিয়ে নিঝুমদ্বীপে বাস, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ হাজার পরিবার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১০:২১ এএম
রিমালের ক্ষত নিয়ে নিঝুমদ্বীপে বাস, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ হাজার পরিবার
লুবনা বেগমের ঘরটি ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ভেঙে যায়। এখন তার কোনো আশ্রয়স্থল নেই। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সম্প্রতি তোলা/ খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে নোয়াখালীতে বেশি ক্ষতি হয়েছে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায়। এ ছাড়া বিচ্ছিন্ন নিঝুমদ্বীপের বেশির ভাগ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ ইউনিয়নের ৩৩ হাজার পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত ২৫ দিনেও ওই এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের কোনো লোক না যাওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সরেজমিনে নিঝুমদ্বীপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. দিনাজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘রিমালের তাণ্ডবে অর্ধশত বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, চার শতাধিক বাড়িঘরের ভিটার মাটি জোয়ারে ভেসে গেছে। ৩৭টি নতুন করা সড়কের প্রায় ১৮০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিঝুমদ্বীপে প্রধান সড়কের চার স্থানে ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী ঘূর্ণিঝড়ের আগের দিন থেকে খোঁজখবর রাখছেন। উপজেলা পরিষদ থেকে ১০০ প্যাকেট ত্রাণ, ১০ বান্ডিল ঢেউটিন ও দুই লাখ নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে নিঝুমদ্বীপে আসতে দেখিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক আলীর আশ্বাসে আমি স্বেচ্ছাশ্রমে লোকজন নিয়ে প্রধান সড়কের ভাঙনের চারটি স্থানে মাটি দিয়ে এবং কয়েকস্থানে অস্থায়ী কাঠের সেতু ও সাঁকো দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।

নিঝুমদ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম ও লুবনা বেগম দম্পতি শূন্য ভিটায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, পাঁচটি সন্তান নিয়ে আমরা এখন কোথায় যাব। কীভাবে থাকব। ঘর নাই, খাবার নাই, পরনের কোনো কাপড় নাই। সব সর্বনাশা রিমাল কেড়ে নিয়েছে।

লুবনা বেগম বলেন, ‘এখানে আমাদের ঘর ছিল। পাঁচটি ছাগল ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র আঘাতে দিশেহারা হয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পরনের কাপড় দিয়ে পেঁছিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে কোনো মতে জীবন রক্ষা করেছি। ঘর-দরজা, ছাগল, হাড়িপাতিল, ঘরের আসবাবপত্র সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের পরে আমাদের চেয়ারম্যান ৯ কেজি চাল ও নগদ দুই হাজার টাকা দিয়েছে। এ দিয়ে সাতজন মানুষ কীভাবে চলি’, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মোল্লা গ্রামের তাসলিমা বেগম একমাত্র আশ্রয়স্থল বসত ঘর হারিয়ে চার সন্তান নিয়ে এখন পাশের গ্রামে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ঘরের চাল ও বেড়া পড়ে আছে ভিটির ওপর। ঘরের মালামাল ও ভিটার মাটি নিয়ে গেছে মেঘনার জোয়ারের পানি। ঝড় থেমে গেলেও দুর্ভোগ থামেনি তাসলিমা বেগমের পরিবারের। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, আমরা গরিব অসহায়। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নাই। 

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে প্রবেশ করা জোয়ারের পানি আটকে থাকায় এখন স্থানীয়রা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দ্বীপের বাসিন্দাদের গায়ে এলার্জিসহ শরীরের চামড়ায় নানা ধরনের ফোস্কা পড়েছে। স্থানীয়ভাবে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় এলাকাবাসী কোনো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনও আসছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমালে দ্বীপের ১৯১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আধাপাকা ২৭০টি ও কাঁচা ৩ হাজার ২২৮টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩ হাজার পরিবার কমবেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবাদিপশু, হাঁসমুরগি ভেসে গেছে ৪ হাজার ৮৭৬টি, ৮ হাজার ৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ৩৮০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার রাস্তাসহ ১১টি কার্লভাট ও ১৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। ৬০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৩৫ টিউবওয়েল ও ২৮৫টি নৌকা-ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ চাকমা খবরের কাগজকে বলেন, দ্বীপের ১১ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার মধ্যে পাঁচটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এগুলো হলো নিঝুমদ্বীপ, সুখচর, নলচিরা, হরনী ও চানন্দী। উপজেলায় মোট ২১১ কোটি ৪৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৮৩ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। 

অন্যদিকে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এলাকায় না যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ইউএনও শুভাশীষ চাকমা বলেন, আপনারা খোঁজখবর নিয়ে দেখেন আমাদের লোকজন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে আবারও যাব।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, আমরা নিঝুমদ্বীপে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছি। তবুও কোথাও না পৌঁছালে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান রাজুকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, হাতিয়াসহ উপকূলীয় সব ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো এবং দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে হাতিয়া দ্বীপের সাত লাখ মানুষ। এবারের ঘূর্ণিঝড় রিমাল সব ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। এখানকার মানুষ ত্রাণ নয়, স্থায়ী বেড়িবাঁধ চান। বিষয়টি আমি উচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছি।

রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র
ছবি: খবরের কাগজ

অতিবর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলা শহরসহ ১০ উপজেলায় পাহাড়ধসের সতর্কতা জানিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে প্রচার চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলায় ৪৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যেই শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুইক রেসপন্স টিম ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রাখার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল আটটার দিকে জেলার বাঘাইছড়ি লাইল্যাঘোনা এলাকায় গড়িয়ে পড়া গাছের গুড়ির আঘাতে লক্ষিবিলাশ চাকমা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে রাঙামাটির কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বালুচরা এলাকায় সকালে পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে মাটি ও গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল থেকে জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। থেমে থেমে চলছে মাঝারি ও ভারী বর্ষণ। তবে সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। আজও করা হয়েছে মাইকিং। ভারী বৃষ্টিপাত দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন, তাদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেতে বলা হয়েছে। 

এরমধ্যে মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ২১টি পরিবারের শিশুসহ ৭০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসন থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্হা করা হয়েছে।

আশ্রয় নেয়া নুরজাহান বেগম( ৫০) বলেন, 'আমরা পাহাড়ের নীচে থাকি। টাকা পয়সা নাই। না হলে সমতলে থাকতাম। বৃষ্টিবাদল আসলেই আমরা এখানে আশ্রয় নেই'।

গৃহিনী রহিমা বেগম( ৫০) বলেন, ঘরের মধ্যে মাটি এসে পড়ছে। এজন্য আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। বৃষ্টি হলেই এখানে আসা লাগে। কী করব, গরীব মানুষ। সরকার স্থান (অন্য জমি) না দিলে কোথায় যাবো?

এরআগে দুপুর দুইটার দিকে শহরের লোকনাথ মন্দির এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নসজমা আশরাফী। এসময় ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। 

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানোকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। মানুষকে সচেতন করছি। যাতে পাহাড় ধস কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন জীবনহানি না হয়। উদ্ধার ও নিরাপত্তার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ ও রেসপন্স টিম আছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে'। 

জেলা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্যাচিংনু মারমা জানান, জেলায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই সকাল ৬ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৯.৩০ মিলিমিটার ও সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১৯০.৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি আরও বাড়তে পারে।

রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ৫ হাজার পরিবারে অন্তত ২০ হাজার মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে শহরের লোকনাথ মন্দির, বেতার এলাকার নতুনপাড়া, শিমুলতলী, টিভি স্টেশন এলাকার রূপনগর, যুব উন্নয়ন এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে রাঙামাটি জেলায় কী পরিমাণ মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বাস করছেন তার পরিসংখ্যান নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। জেলায় লক্ষাধিক মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। 

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫
দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বনখুর এলাকায় ট্রাক ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাট-পাঁচবিবি আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, অটোচালক পাঁচবিবি উপজেলার কাদেরপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে তৌহিদ হোসেন। তবে নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি, তার বাড়ি বীরনগর বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে বীরনগর এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা জয়পুরহাট শহরের দিকে আসছিল। পথে সদর উপজেলার বনখুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ এক নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আহত হন আরও ৫ জন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স আব্দুল্লাহ রানা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে এক নারী ও এক পুরুষকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। অন্য ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছে। ঘটনার পর চালক ও ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে।

সাগর/নাঈম

কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে মিউজিক্যাল পারফর্মেন্সের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে মিউজিক্যাল পারফর্মেন্সের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে থাকা একটি মিউজিক্যাল টিম বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণ মুখড়িত করে।

এই মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাথে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত থেকে পরিবেশনা উপভোগ করেন।

এর আগে সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নগর ভবনে সিসিক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সিসিক প্রশাসক রাষ্ট্রদূতকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। তিনি সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিকসেবা এবং নগর উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এর হাতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চা-পাতার রেপ্লিকা এবং সিলেটের বিখ্যাত চা উপহার হিসেবে তুলে দেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের জন্য ঐতিহ্যবাহী সাত রঙের চা প্রস্তুত ও পরিবেশন করেন এর কারিগর।

রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এরিক গিলান, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর মনিকা এল. সাই, ডেপুটি ডিরেক্টর রিচার্ড ব্রুনার এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা ফিরোজ আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

সাক্ষাৎকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত)রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, জনসংযোগ কর্মকর্তা (অ.দা.) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ সহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শাকিলা ববি/এসএন

চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে প্রবল বৃষ্টিতে দেয়ালধসে একজন নিহত হয়েছে এবং শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে পূর্ব নাসিরাবাদ রহমান নগর বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের মাথায় প্রবল বৃষ্টির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। আরও তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে দেয়ালটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হঠাৎ ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মোহাম্মদ মামুন বলেন, বিকেল সাড়ে দিনটার দিকে বিকট শব্দে একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে। এতে একজন দেওয়ালের নীচে চাপা পড়েছে। তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস। অন্যদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

নাঈম/

টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল লাইনে পানি ওঠা ও গাছ পড়ায় পর্যটন এক্সপ্রেসসহ দুটি ট্রেন আটকে গেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে প্রবল বৃষ্টিতে পানি ওঠায় চট্টগ্রামের জানালী হাট স্টেশনের কাছে রেললাইনের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সেখানে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়েছে। অপরদিকে রেল লাইনে গাছ পড়ায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেস আটকে গেছে দোহাজারিতে। 

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ষোলশহর স্টেশন থেকে ছাড়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস। ট্রেনটি ঢাকা থেকে এসেছিল সকালে।  কিন্তু সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় রেললাইন পানির নিচে থাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। ট্রেনটিতে প্রায় ৮০০ জন যাত্রী ছিলেন। 

জানালী হাট স্টেশনের স্টেশনমাস্টার নিজাম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে, দোহাজারিতে প্রবাল এক্সপ্রেস আটকে আছে। সেখানে রেল লাইনে গাছ পড়েছিল। এতে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানি সরে গেলে রেললাইন নিরাপদ হলে ট্রেন ছাড়বে।

এসএন/