চট্টগ্রামের বৃহত্তর ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলীতে ক্রেতাসংকট সত্ত্বেও মোটা চাল, দেশি পেঁয়াজ ও চায়না আদার দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদ শেষে গ্রাম থেকে না ফেরায় দোকান খোলেননি অনেক ব্যবসায়ী। ক্রেতারও রয়েছে সংকট। জমে ওঠেনি বেচাকেনা। তবে যারা দোকান খুলেছেন তারা ওই তিন পণ্য বিক্রি করছেন বাড়তি দরে।
খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী বাজার সরেজমিন দেখা গেছে, খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আছদগঞ্জ ও পাহাড়তলী এলাকায় কিছু দোকান খুলেছে। তবে অধিকাংশ দোকান এখনো বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়ির তেমন কোনো জটলাও চোখে পড়েনি। ক্রেতার আনাগোনাও তেমন দেখা যায়নি। যারা দোকান খুলেছেন তারাও পার করছেন অলস সময়।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অফিস-আদালত খুললেও কারখানাগুলো এখনো পুরোদমে চালু হয়নি। রেস্টুরেন্ট ও হোটেলগুলো বন্ধ রয়েছে। আবার ঈদের আগে অনেক খুচরা দোকানদার ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ের জন্য প্রচুর মালামাল সংগ্রহ করে নিয়েছেন। তা ছাড়া ঈদের ছুটিতে যাওয়া মানুষজন এখনো পুরোপুরি শহরে ফিরে আসেননি। ফলে ক্রেতাসংকট দেখা দিয়েছে। তবে আগামীকাল রবিবার থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকার মেসার্স লাল মিয়া সল্টের স্বত্বাধিকারী মো. আসাদ আসিফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঈদের পর অনেক ব্যবসায়ী এখনো গ্রাম থেকে ফিরের আসেননি। অন্যদিকে যারা ঈদ করতে বাড়ি গিয়েছেন, তারাও এখনো শহরে ফিরে আসেননি। তাই বাজার এখনো চাঙা হয়ে ওঠেনি, বিক্রিও জমে ওঠেনি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আগের রূপে ফিরে যাবে।’
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ব্যাংক খোলা ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অনেকেই গ্রাম থেকে ফেরেননি। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়নি। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর খোলা থাকায় পণ্যের সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। খাতুনগঞ্জে এখনো যথেষ্ট পরিমাণে ভোগ্যপণ্য মজুত রয়েছে।’
জানা গেছে, ঈদের তিন দিন আগে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়। বর্তমানে পণ্যটি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এদিকে ঈদের আগে প্রতি কেজি চায়না আদা ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে পণ্যটিতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে দাম ঠেকেছে ২৬০ টাকা।
খাতুনগঞ্জে হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ‘কৃষকরা ঈদের দুই দিন আগে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। আগে আমরা মণপ্রতি (৪০ কেজি) দেশি পেঁয়াজ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে কিনেছিলাম। ফলে আমরা ৭৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেছিলাম। ঈদের দুই দিন আগে মণপ্রতি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৩ হাজার টাকা দরে। আর পরিবহন খরচ যোগ করে সে পেঁয়াজ এখন আমরা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। অন্যদিকে চায়না আদার বুকিং খরচ বেড়েছে। আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় আদার দামটা আরও বেড়েছে। তবে ক্রেতা না থাকায় বেচাবিক্রি নেই।’
এদিকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারে মোটা সেদ্ধ চালের বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে প্রতি বস্তা মোটা সেদ্ধ চালের বস্তায় নতুন করে ৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে অন্য জাতের চালগুলো আগের দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি বস্তা স্বর্ণা চাল ২ হাজার ৪৫০ টাকা, নূরজাহান চাল ২ হাজার ৬০০, মিনিকেট ২ হাজার ৬৫০, জিরাশাইল সেদ্ধ চাল ৩ হাজার ৪৬০, নাজিরশাইল সেদ্ধ ৩ হাজার ৬৫০, মিনিকেট আতপ চাল ২ হাজার ৮৫০, পাইজাম ২ হাজার ৬৫০, বেতি ২ হাজার ৭০০, কাটারি আতপ চাল ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সরকার চাল মজুত করেছে, তাই মোটা চালের সংকট রয়েছে। এ কারণে মোটা চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্য জাতের চালগুলো আগের দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাহাড়তলী বাজারে এখনো অনেক দোকান বন্ধ রয়েছে। ক্রেতাও নেই। শনিবার (আজ) থেকে এখানে কার্যক্রম শুরু হবে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঈদের আগে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগে অনেকে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এটা দুঃখজনক। আমরা আশা করব, প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সদস্যরা কঠোরভাবে বিভিন্ন বাজার তদারকি করবেন। কত দিয়ে কিনে, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেটা যাচাই করা জরুরি। শুধু তা-ই না, খুচরা দোকানগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করতে হবে।’