আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক অংশের দলীয় কর্মসূচিতে বাধা ও তাদের কেক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৩ জুন) সকালে পৌরসদর বাজারের উপজেলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘সকালে আমার ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে যুবলীগ নেতা-কর্মীরা কেক ও মোমবাতিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন। সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যারা এসেছিলেন, তাদের অপমান করা হয়েছে। যারা কেক ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন তারা সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের অনুসারী।’
জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি একসময় তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। তবে বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম আল মামুন মনোনয়ন পাওয়ার পর সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের গ্রুপ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরে দিদারুল আলমকে আর সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে দেখা যায়নি। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের বলয় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অপর একটি অংশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রয়েছে। এবার আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপজেলা কমিটির বিভক্ত কর্মসূচি দেখা যায়। বেলা ৩টায় পৌরসদরের এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে এস এম আল মামুনকে প্রধান অতিথি কমসূচি ঘোষণা করা হয়। সেখানে বাকের ভূঁইয়াকে অতিথি করা হয়নি।
অন্যদিকে সকাল ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাঁশবাড়িয়ার সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল হকের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটার কর্মসূচি নেন। সেখানে উপজেলার সভাপতিকে প্রধান অতিথি করা হয়। পৌরসদর বাজারে আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার নিজস্ব মার্কেটে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আযোজন করা হয়। কিন্তু বাধার মুখে তারা সেখানে কেক কাটতে পারেননি। পরে আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে কেক কাটেন তারা। এতে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজুল হক, সহসভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা আবুল কালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাইমুন উদ্দিন মামুন, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল আহমেদ, সদস্য আইযুব আলী, রবিউল হোসেন, বিজয় চক্রবর্তী, আবুল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রেহান, উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি সেলিমসহ অন্যরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুন ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘সকালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটতে বাকের ভূঁইয়ার অফিসে এলে আমাকে কয়েকজন যুবক বাধা দেন। আমাকে অপমান করেন। আমাদের কেক নিয়ে চলে যান। পরে আমরা বাকের ভূঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে কেক কাটি।’
আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘উত্তর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান তার অনুসারীদের নিয়ে এসব করেছেন। আগের রাতে একজন সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। বর্তমান এমপির নির্দেশে তারা এসব করেছেন।’
এদিকে এসব অভিযোগ অসত্য দাবি করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘উনি (বাকের ভূঁইয়া) ভুল তথ্য দিচ্ছেন। আমি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে শহরে আছি। আমি জানি না তাদের প্রোগ্রাম কোথায় হয়েছে।’