চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে সার বহনকারী এমভি আল বাখেরাহ জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় হাইমচর থানায় অজ্ঞাতনামা ডাকাত দলকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে মামলাটি করেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মুর্শেদ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জাহাজে খুনের ঘটনায় ৩৯৬/৩৯৭ ধারায় মামলা করেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মর্শেদ এবং মামলা নম্বর হচ্ছে (১৭/১৬৬)।
বাদী মাহবুব মুর্শেদ মামলার এজাহারে জাহাজে খুন হওয়া সাতজন ও আহত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। খুনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন- মাস্টার গোলাম কিবরিয়া, গ্রিজার মো. সজিবুল ইসলাম, লস্কর মো. মাজেদুল ইসলাম, সালাউদ্দিন, আমিনুর মুন্সী ও বাবুর্চি রানা কাজী। এ ছাড়া আহত ব্যক্তি হলেন- সুকানি মো. জুয়েল। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সেকান্দার প্রকাশের ছেলে।
তিনি এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, আহত জুয়েল গলায় কাটা রক্তাক্ত জখম হওয়ায় কথা বলতে না পারায় ডাকাত দলের বিস্তারিত বিবরণ দিতে পারেনি। সে সুস্থ হলে ডাকাত দল দেখলে চিনবে বলে ইশারায় জানায়। তবে জুয়েলের সঙ্গে নয়জন ছিল বলে লিখে জানায় এবং নয় নম্বর ব্যক্তি হচ্ছেন ইরফান। তবে তার ঠিকানা দিতে পারেনি।
নৌপুলিশ জানিয়েছে, আহত জুয়েল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে জাহাজে খুন হওয়া ৬ জনের মরদেহ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসক মহসীন উদ্দিন ও নৌপুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।
এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের স্বজনদের ২০ হাজার টাকার চেক ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তবে বাবুর্চি রানা কাজীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত না হওয়ায় তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি।
ফয়েজ/তাওফিক/