ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফ্রন্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না? বন্যাদুর্গত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র কোকা-কোলা বাংলাদেশে ফ্রন্ট লাইন মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারে আইএমএফ সম্মত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তি হবে না: নৌপরিবহনমন্ত্রী ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির রোল মডেল হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন? শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে পানি নামলেও কমেনি দুর্ভোগ মারিয়ানো রাখয়ের বর্ণবাদী মন্তব্যে যা বললেন স্পেন ডিফেন্ডার সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা আখাউড়ার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেক্সিকোতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই শিশুসহ নিহত ১০ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন প্রস্তাব দিলো ইইউ হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের স্তূপ ধস, ৯ শ্রমিক নিহত ‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই

লক্ষ্মীপুরে আঞ্চলিক মহাসড়কে ইট-সলিং!

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৪২ এএম
লক্ষ্মীপুরে আঞ্চলিক মহাসড়কে ইট-সলিং!
নোয়াখালী-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশে ইট-সলিংয়ের কাজ চলছে। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশ খানাখন্দে ভরে গেছে। এ কারণে এই অংশে জনভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনা। এর ফলে সড়কটির টেকসই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও উল্টোপথে হাঁটছে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগ। 

তারা সড়কটির বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং তুলে সেখানে ইট-সলিংয়ের কাজ করছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। 

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানান, নোয়াখালী-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর জেলার ৩৬ কিলোমিটার অংশের বেশির ভাগ এলাকা খানাখন্দে ভরে গেছে। এর ফলে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এ সড়ক।

এ অবস্থায় এই সড়কের নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর সিনেমা হল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের পথ পার হতে যানবাহনগুলোর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এতে চালক ও যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া খানাখন্দের কারণে প্রায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো ইটের খোয়া ও বালি ফেলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগ।

সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ সড়কের নোয়াখালী অংশ পুনর্নির্মাণ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে লক্ষ্মীপুর অংশে সম্প্রতি ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং তুলে সেখানে ইট-সলিংয়ের কাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। এর মধ্যে সড়কের লক্ষ্মীপুর শহরের ইসলাম মার্কেটের সামনে ও মান্দারী বাজারের পশ্চিম পাশের কার্পেটিং তুলে নিয়ে ইট-সলিং করে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। 

স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ আগে জকসিন বাজার এলাকায় ইট-সলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে যানবাহন চলাচলের কারণে ইটগুলোর বেশির ভাগ গুঁড়ো হয়ে গেছে। আর ইটের গুঁড়ার কারণে পুরো এলাকা ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এর ফলে মোটরসাইকেলসহ খোলা যানবাহন নিয়ে এই মহাসড়কে যাতায়াত করা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। 

চাঁদপুর-নোয়াখালী যাতায়াতকারী আনন্দ পরিবহনের চালক মোহাম্মদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন খুলনা-চট্টগ্রাম, ভোলা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-ঢাকা রুটে কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। চাঁদপুর ও নোয়াখালী সড়ক বিভাগ এ মহাসড়ক মেরামত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনলেও লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগ ইট-সলিং করে তামাশা করছে। 

মো. স্বপন নামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক খবরের কাগজকে বলেন, ‘খানাখন্দের কারণে এই সড়কে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক বিভাগ সড়কটি মেরামত না করে ইট-সলিংয়ের নামে সরকারের টাকা লোপাট করছে। 
সোনালী ব্যাংক লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি যাতায়াত করি। খানাখন্দ ও ধুলোবালির কারণে আমি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি।’ 

লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সড়ক বিভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সড়কটি মেরামত করে যাচ্ছে। ফলে সড়কটিতে বর্তমানে খানাখন্দ নেই। সড়কটির কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানি জমে যায়। সেসব স্থানে ইট-সলিং করা হচ্ছে।’ 

তবে কত কিলোমিটার সড়ক ইট-সলিং করা হবে এবং এ জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।

দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পাহাড়ি ঢলের কারণে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি-৩৫)।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাথরের চর এলাকার ৩০টি পরিবারকে বিজিবির পক্ষ থেকে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান নদী ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন, পাথরের চর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অন্যতম মানবিক দায়িত্ব। আপদকালীন সময়ে বিজিবি সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। দুর্যোগময় ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ লিটার তেল, ১ কেজি মুড়ি, লবণ, স্যালাইন, গ্যাস লাইট ও মোমবাতি প্রদান করা হয়। বিজিবির ত্রাণ সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

রিফাত/

ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুর শহরের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন কোয়েল চৌধুরী (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। ফ্লাট থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর খবর কানাডিয়ান প্রবাসী একমাত্র বোন ও স্বজনদের জানালেও কেউ এগিয়ে আসেননি।

পরে তার মরদেহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শহরের আলীপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে অচেতন অবস্থায় ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার চৌধুরী ভিলা নামক একটি ভবন থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে থানা পুলিশ। প্রথমে তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কোয়েল চৌধুরী ওই ভবনের মালিক ও ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত হাশমত আলী চৌধুরীর ছেলে ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ওই বাসায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বসবাস করে আসছিলেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে কোয়েল চৌধুরীর বাবা তিনতলা ওই ভবনটি ক্রয় করে বসবাস করে আসছিলেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে একমাত্র মেয়ে বর্তমানে কানাডিয়ান প্রবাসী। এছাড়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে কোয়েল চৌধুরী ও তার বড় ভাই বাবু চৌধুরী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। এরমধ্যে কোয়েল চৌধুরী বিয়ে করলেও মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে ছেড়ে চলে যান তার স্ত্রী। তবে দুই ভাই ভবনটিতে থাকলেও প্রায় দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরী মারা যান। তখন থেকেই নিঃসঙ্গভাবে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন কোয়েল চৌধুরী। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, কোয়েল চৌধুরীর বাবা-মা দুজনেই সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছোট সময়ে তারা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে দুই ভাইকে নিয়মিত ঘুমের ওষধ খাওয়াতেন। যার ফলে তারা আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। 

এক প্রতিবেশী আশিকুর রহমান খান বলেন, ওই দুই ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাদের দুই ভাইকে শহরের অনেকেই চিনতেন। তাদের মধ্যে খুব মিল ছিল। তারা যেখানেই যেতেন এক সঙ্গে হেটে আবার কখনও হাত ধরে রাস্তার একপাশ ধরে হেটে চলতেন। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে তাকে তাদের ভাড়াটিয়ারা খাবার দিতেন। 

তিনি বলেন, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো ওই ভবনের এক ভাড়াটিয়া কোয়েল চৌধুরীকে খাবার দিতে যান, তখন ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রতিবেশীদের জানান। প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে ঘরের দড়জা ভেঙে তাকে অচেতন অবস্থায় পায়। পরে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি আরও বলেন, মারা যাওয়ার পর তার বোনকে জানানো হয়। তবে তার বোন মরদেহ দাফন দিয়ে দিতে বলেন। এমনকি তার কোনো স্বজনও তার দাফনে আসেনি। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে আলীপুর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে অচেতন অবস্থায় তাকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। 

নয়ন/নাঈম 

ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ফোন করার অভিযোগ উঠেছে। ফোন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা চাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেসেজ পাঠিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

মেসেজে বলা হয়, একটি নম্বর থেকে ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে বন্যাদুর্গতদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই নম্বরের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ যেন ওই নম্বরে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রদান না করে, সে সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং বিষয়টি অন্যদেরও জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, প্রতারক এখনও টাকা পয়সা চায়নি, তবে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমি বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়েছি। তারা এই ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং সাধারণ ডায়রি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে। নম্বরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাইনি। ইউএনও মহোদয় বিষয়টি জানিয়েছেন। এ চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের কোনো অপরাধ ঘটলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিব।’

উপজেলা প্রশাসন জানায়, সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে কেউ তথ্য চাইলে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত। সন্দেহজনক কোনো ফোনকল পেলে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

আতিকুল হা-মীম/থিওটোনিয়াস/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের বর্তমান অবস্থা। ছবি: খবরের কগজ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন কালন্দি খালে পানি বেড়ে বন্দরের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে ভারতের ত্রিপুরা থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে। কয়েকটি ঘর-বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া বন্দরের কালন্দি খালের পানি বাড়ার ফলে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তবে পানি এখনও বন্দরের মূল সড়কে না উঠায় যাত্রী পারাপার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে ঢলের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকলে স্থলবন্দর সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, এখনও পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নদ-নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে ৷ তবে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/আজহার/

শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার
নাজমুন নাহার স্বপ্না

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার দোয়াভাঙ্গা এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমুন নাহার স্বপ্না (৩৩) নামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে দোয়াভাঙ্গা এলাকায় নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শমশেদ হোসেন। 

স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তার সন্তানরা বাসায় ছিল। 

নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্নার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর ইউনিয়নের বাংলাইস গ্রামের বাসিন্দা। তার বড় ভাই মোতালেব হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত স্বপ্নার মোট তিনটি বিয়ে হয়েছিল এর মধ্যে দুটি বিচ্ছেদ হয়েছে। সবশেষ তিনি প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজুর স্ত্রী ছিলেন।

পরে তিনি শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে 'কলস' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে তিনি নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলায় দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি বাসা ভাড়া নেন। সোমবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে তার শিশু সন্তানদের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। পরে বাসার একটি কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেন।

বাসার মালিকপক্ষের সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, চার দিন আগে রাসেল চৌধুরী রাজু নামে এক প্রবাসী এই নারীর স্বামী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ’প্রাথমিকভাবে এটি ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

ফয়েজ আহমেদ/খাদিজা রুমি/