ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’ কেপ ভার্দেকে নিয়ে ডি পলের সতর্কবার্তা গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস কোচের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছেন এনড্রিক রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী ‘মাদক ছাড়ুন, না হলে বিপদে পাশে কাউকে পাবেন না’ শিয়াল ও ছাগল বিশ্বকাপের তারকা ট্রিওন্ডা প্রজাপতির অভিমান মেসির গল্প এখনো শেষ হয়নি: কার্লোস তেভেজ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় দুই বন্ধু নিহত পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য মাত্র ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় খুন, অবশেষে ধরা মূল আসামি

রাজৈরে কাগজ নিয়ে খেলা করায় ৭ মাদ্রাসাছাত্রকে পিটিয়ে আহত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম
রাজৈরে কাগজ নিয়ে খেলা করায় ৭ মাদ্রাসাছাত্রকে পিটিয়ে আহত
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরের রাজৈরে কাগজ নিয়ে খেলা করায় সাত মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতে আহত করার অভিযোগ উঠেছে শাকিল মোল্লা নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

শনিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার বাজিতপুরের বাসাবাড়ি মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত শিক্ষার্থীরা হলো- মোস্তাকিম ফকির, মাহিম, গোলাম আব্দুল্লাহ্, সাইফুল, সুলাইমান, আব্দুল্লাহ বেপারী ও জুয়েল।  শিক্ষার্থীদের বয়স পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে।

স্বজন ও আহত শিক্ষার্থীরা জানায়,  সকালে বাসাবাড়ি মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষে আসতে দেরি করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকের দেরি হওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসার সামনের মাঠে কাগজের কয়েকটি টুকরা নিয়ে খেলছিল। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন সহকারি শিক্ষক শাকিল মোল্লা। পরে ওই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে বেত্রাঘাত করেন। স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের চিৎকারে ছুটে আসলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিল মোল্লা। পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । এই ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

আহত মোস্তাকিম ফকির জানায়, মাদ্রাসার বাইরের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে কাগজ নিয়ে খেলছিল তারা। সঙ্গে দুষ্টুমিও করছিল। এমন সময় তাদের শাকিল স্যার ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করেন। সবাই ভয়ে প্রথমে চুপ থাকলেও পরে চিৎকার করে। আহত অবস্থায় তাদের সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

আহত শিশু সুলাইমানের মা সালমা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে এভাবে পিটিয়ে আহত করবে এটা আসলেই বুঝতে পারিনি। ঘটনার পর অফিসে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছেন শিক্ষকরা। এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

প্রতিবেশী জাকির হাওলাদার বলেন, ‘শিশুদের ইচ্ছামতো বেত দিয়ে পিটিয়েছেন শিক্ষক শাকিল মোল্লা। তার মানসিক সমস্যা রয়েছে। তা না হলে এভাবে অবুঝ শিশুদের মারধর করতে পারত না।’

এদিকে মুঠোফোনে কথা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিল মোল্লা বলেন,  ‘শিশুদের খেলা দেখে রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতেই ঘটেছে এমন ঘটনা। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। মাদ্রাসা থেকে চলে আসার পর ওই শিশুদের আত্মীয়-স্বজন আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকেও ব্যাপক মারধর করে।’

বাসাবাড়ি মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন,  ‘শিশুদের মারধরের সময় আমি মাদ্রায় উপস্থিত ছিলাম না। পরে আমি মাদ্রাসায় আসি, ততক্ষণে ওই শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। বিষয়টি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ খান বলেন, ‘শিশুদের মারধরের বিষয়টি সম্পর্কে এরইমধ্যে পুলিশ অবগত হয়েছে। আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য এক সপ্তাহ আগে এই মাদ্রাসায় সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন পশ্চিম রাজৈরের বাসিন্দা শাকিল মোল্লা।

রফিকুল ইসলাম/সুমন/ 

৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি ইয়াবা কারবারি জলমনি চাকমা তিন হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। 

শ্রক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটি শহরের মারী স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সহযোগী জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ধোপ্পাছড়া এলাকার নতুন বাবু তঞ্চঙ্গ্যা (৩৬)কেও গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে জলমনি চাকমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্হা নিলো গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় 'গণঅধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার সহ সভাপতি এস আই জলমনি চাকমাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে'। রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জলমনি চাকমা সদর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী বিশেষ এই অভিযান  পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুই আসামির হেফাজতে থাকা তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুজনই মাদক কারবারে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের স্হানীয় মূল্য সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারেক সেকান্দার বলেন, 'আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে'। 

'মাদক কারবার নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে' বলেও যোগ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

 

গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি
মানিক মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন- গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া মহল্লার শোয়েব মুন্সি, অলি মুন্সি, নুহ মুন্সি, রাইশিমুল গ্রামের আল ইমরান খান, সাতুতী গ্রামের হাদিস, উজ্জ্বল এবং তারাকান্দা থানার বিসকা গ্রামের রিফাত খান।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সি, ছাত্রদল গৌরীপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা জানান, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল কিনতে গেলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক মানিককে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে সতিষা এলাকার একটি রাস্তায় নিয়ে দফায় দফায় নির্মম নির্যাতন ও মারধর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে শোয়েব মুন্সির লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’ এমন একটি বক্তব্য মুঠোফোনে রেকর্ড করিয়ে নেয়। এরপর গুরুতর আহত মানিককে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বজনরা প্রথমে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মানিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে তার পা ও ঊরুর হাড় ভেঙে গিয়েছিল।

নিহতের ভাই সুখ মিয়া জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুন্সি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মানিককে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রিফাত/

রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ঐতিহাসিক পদ্মা নদীসহ দেশের সব নদ-নদী রক্ষা, নাব্যতা সংকট দূর, নদীদখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৬টায় নগরের লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

মিনি ম্যারাথনটি লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে আবার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৫৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৩৫ জন ছিলেন নারী প্রতিযোগী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের উপদেষ্টা লিয়াকত আলী, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা মামুন, উপদেষ্টা রিক্তা পারভীন, আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন বিন মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানিসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

আয়োজকরা জানান, ‘রান ফর পদ্মা’ কেবল রাজশাহীর নয়, বরং বাংলাদেশের পরিবেশ, নদী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার একটি গণসচেতনতামূলক উদ্যোগ। নদী রক্ষার দাবি শুধু পরিবেশগত নয়, এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই এ মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।

এনায়েত/এএফ

হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি
ইকরামুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর। 

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা উকিল উদ্দিন বাদী হয়ে গত শুক্রবার (৫ জুন) অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের নামে হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

একই মাদরাসার শিক্ষক ছাত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলেও এখনো ওই ছাত্রীর সন্ধান পায়নি পরিবার।

জানা গেছে, উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একই মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইশিতা আক্তার ইভাকে (১৪) উত্ত্যক্ত করতেন। প্রেমের প্রস্তাবও দিতেন বলে পরিবারের দাবি।

ছাত্রীর পরিবার জানায়, ঈদুল আজহার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইভা তার বান্ধবী সাদিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। অনেক সময় পার হলেও বাড়ি না ফেরায় তারা সাদিয়ার বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। এ সময় সাদিয়ার মা জানান, ইভা তাদের বাড়িতে আসেনি। পরে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, উপজেলার মান্দিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় ইভাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলে তুলে ঝিনাইদহ শহরের দিকে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইকরামুল ইসলাম যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

এ বিষয়ে মাদরাসার পরিচালক মুফতি বুরহান উদ্দীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে দীর্ঘ ৩৫ দিন পার হলেও মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ইভার সন্ধান এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের অভিযোগ, থানায় মামলা করার পরও তাদের মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হরিণাকুণ্ডু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক জাহিদ বলেন, ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের যশোরের কেশবপুরের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ট্র্যাকিং করতে সমস্যা হচ্ছে।

তবে দ্রুতই নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাওয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মাহফুজুর রহমান/রিফাত/

সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে
ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামে শামসুদ্দিন ওরফে সাম্বু (৪৮) নামে এক রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে বাড়ির অদূরে নিজের লাগানো পেঁপে খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

নিহত শামসুদ্দিন ওরফে সাম্বু মৃত আমজাদ হোসেন ওরফে আমনের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করতেন।

নিহতের স্ত্রী কাঞ্চনমালা জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর রাতে আর ফিরে আসেননি। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা পেঁপে খেতে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই নানা পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন শামসুদ্দিন। বিভিন্ন পারিবারিক সংকটে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল করে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আসাদ/এএফ