ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের লৌহজংয়ে পদ্মাপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন

কাজিপুর-শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ১০:২৫ এএম
কাজিপুর-শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি
কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া গ্রামের রবিরারের ছবি

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনে বসতবাড়িসহ বহু ফসলিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে।

 গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে আরও দুই সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যমুনার বিভিন্ন স্থানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

যমুনার ভাঙনে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া গ্রামে অন্তত ১০০টি বসতবাড়ি, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয় ও ভেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। নদী-সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় যমুনা পাড়ের মানুষ এখন বন্যার আশঙ্কা করছে। 

যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ি, চৌহালী উপজেলার খাষকিউলিয়া জনতার স্কুল এলাকা, উমারপুর, স্থল, তেঘরি, কুড়াগাছা, লাঙ্গলমুড়া, ঘোড়জান, ফুলহারা, চালুহারা, শাহজাদপুর উপজেলার গোপালপুর, সোনাতনী, ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, মাকড়া, ভাটদিঘুলিয়া, চর ঠুটিয়া, বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। আর এই ভাঙনে ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলের আখ পাট ও বাদামসহ বহু ফসলিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, এ ভাঙনের বিষয়ে  স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে  না। প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বর্ষণে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং সেই সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়ছে। ভাঙনের মুখে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক স্থানে ভাঙনও শুরু হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। 

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, কয়েকদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বাড়ছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সেরকম বন্যার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার ২৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এলাকাবাসী জানান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা, কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন, চৌহালী উপজেলার জনতার স্কুল এলাকা, উমারপুর ইউনিয়ন, স্থল ইউনিয়নের তেঘরি, কুড়াগাছা, লাঙ্গলমুড়া, ছোট চৌহালী ও ঘোড়জান ইউনিয়নের ফুলহারা ও চালুহারা গ্রাম, শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গোপালপুর, সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, মাকড়া, ভাটদিঘুলিয়া ও কৈজুরী ইউনিয়নের চর ঠুটিয়া গ্রাম এবং বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘নদীতে পানি বাড়ার কারণে প্রবল স্রোত বইছে। এ কারণে নদীতীরের বেশ কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী ও বাহুকা এলাকায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নদীতীরে সর্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নদীতে পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে বন্যার আশঙ্কা নেই।’

 

মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাটে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মো. ফারুক ওরফে শহিদ নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।

এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফারুক ওরফে শহিদ উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। 

গ্রেপ্তার দুজন হলেন, একই গ্রামের মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪) ও দুলালের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন (১৯)।

নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন বলেন, আকাশ আগে মাঝেমধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। তার বেপরোয়া মাদকসেবনের প্রতিবাদ করেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবন নিয়ে কথা উঠে। এ সময় আকাশ বেপরোয়া আচরণ করে ছাত্রদল নেতা জহিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি তার মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার কে? তখন ওই দোকানে থাকা তার বাবা ফারুক তাকে বলেন, ‘তুমি কাউকে মানো না।’ একপর্যায়ে তিনি আকাশকে ঘাড় ধরে দোকান থেকে বের করে দেন।

তিনি আরও বলেন, পরদিন বুধবার সকালে আকাশ কয়েকজনের কাছে তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। পরে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পেছন থেকে তার বাবার মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত করেন আকাশ।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।

ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের ত্রিমুখি সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে উপজেলার জলসুখা নতুন ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বানিয়াচং ইউনিয়নের আমিরখানী গ্রামের নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (২৩), আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহারপুর গ্রামের চন্দনের ছেলে অন্তর (২৫) এবং একই গ্রামের ফুল মিয়া ঠাকুরের ছেলে তানবীর ঠাকুর (১৮)।

আহতরা হলেন- চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া (২৫) এবং গুছাপাড়া এলাকার থৈগাঁও গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. মিজান মিয়া (২২)।

পুলিশ জানায়, দুটি মোটরসাইকেল বিপরীত দিক থেকে আসা-যাওয়ার সময় জলসুখা নতুন ব্রিজ এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তানবীর ঠাকুর নিহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত চারজনকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের নিয়ে যান।

এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিদুল লস্কর ও অন্তরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাচ্চু মিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অপর আহত মিজান মিয়া হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন বলেন- মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১ জন নিহত হয়েছেন ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আরও ২ জন মারা গেছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কাজল সরকার/এসএন

শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের দেবরবধূ কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দুপুরে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের আদালতে কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা (বেপারী বাড়ি) এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলের আলামত সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ১৫ জুলাই নিহত রিগান আক্তার মিমের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মামলাটি রুজুর পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে ওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের দেবরবধূ কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া প্রতিহিংসার কারণে নিজেই বড় জা রিগান আক্তার মিমকে গলা চেপে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আসামি কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে তার বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে তিনি ডাকাতির একটি সাজানো গল্পও তৈরি করেছিলেন।

নিহত রিগান আক্তার মিম মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সি কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সি ছেলে সিরাজের জননী। ঘটনার সময় তার স্বামী রনি চাকরিসূত্রে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য (দাদা-শ্বশুর) নুরুল ইসলাম এবং তিন শিশু অবস্থান করছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ অন্যান্য আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফয়েজ/রিফাত/

মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক বিরোধী র‍্যালি করায় ইমাম হাসান নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৬ জুলাই) রাত দেড়টায় মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ উঠেছে। আহত যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত যুবকের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার কাবিলগঞ্জ এলাকায় গত বুধবার বিকেলে মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ইমাম হাসানের নেতৃত্বে একটি  মাদক বিরোধী র‌্যালী বের করে। র‌্যালীতে ওই এলাকার যুব সমাজসহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। র‌্যালী বন্ধ করার জন্য কাবিলগঞ্জ এলাকায় আলী আহাম্মদের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া ইমাম হাসানকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। হুমকি উপেক্ষা করে ইমাম হাসান গতকাল বুধবার বিকেলে ওই এলাকার লোকজন মিলে মাদক বিরোধী র‌্যালী বের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর নেতৃত্বে তিশা মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, সজিব মিয়া, নেয়াব হোসেনসহ৭-৮জনের একটি দল রাত দশটার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা চলাকালে একই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছাদে দেখতে পেয়ে ৩-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে ছাদে থাকা লোকজন ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটাছুটি করে পালিয়ে যায়। 

পরে ইমাম হাসানকে একা পেয়ে লোহার রড, হকিস্টক, রামদা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। এসময় তারা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

আহতের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন জানান, কাবিলগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মিন্টুর নেতৃত্বে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন করে এলাকার যুব সমাজকে নষ্ট করছে। সম্প্রতি তার ভাই মাদক সেবী ও মাদক বিক্রেতারদের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন নিয়ে স্বেচ্ছার হয়ে উঠে। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্টুর ও তার লোকজন তার ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার পর তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। এসময় আতঙ্ক তৈরি করতে ৩-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। মিন্টুর বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।

অভিযুক্ত মিন্টুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে নিয়মিত মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইমরান/এসএন

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে একজন মুসলমান মানুষ সরকারের কাছ থেকে যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ঠিক তদ্রূপ সুযোগ-সুবিধা সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের সব সমস্যা সমাধানে সরকার চেষ্টা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার চানপাড়া মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার অসাম্প্রদায়িক সরকার। আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি, সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করি। ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার- এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকার আগামীতে এগিয়ে যাবে।’

এ সময় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভিন, পুলিশ সুপার আবু সাইমসহ বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নারী-পুরুষরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে চানপাড়া মন্দির থেকে একটি রথযাত্রা বের করা হয়।

উল্লেখ্য, কথিত আছে, আষাঢ় মাসের শুক্ল দ্বিতীয়ায় বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ। মাসির বাড়ি অর্থাৎ ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ি। সেখান থেকে আবার সাতদিন পর মন্দিরে ফিরে আসেন জগন্নাথ। এটাকেই জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাওয়া বলে। পরপর তিনটি সুসজ্জিত রথে চেপে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে যান জগন্নাথ। এই যাওয়াকে সোজা রথ আর ফিরে আসাকে উল্টো রথ বলে। এরপর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই রথযাত্রা পালন করে আসছেন।

রনি মিয়াজী/রিফাত/