বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক ঘোষিত ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সময়সূচিকে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ দাবি করে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
জামাল খান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত কর্মসূচিতে তারা বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করা হলে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারবেন না। বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে।
দাবি পূরণ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুমিয়ারি দেন। পিএসসি পরীক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরীক্ষার্থীদের অনুভূতি, প্রস্তুতির বাস্তবতা এবং পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা করছে না বলে তাদের অভিযোগ।
বিসিএস পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুস্পষ্ট নীতিমালা করারও দাবি জানান তারা। যাতে পূর্ববর্তী ব্যাচের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে নতুন ব্যাচের পরীক্ষা শুরু না হয়।
পরীক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পিএসসি দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক বিসিএস ব্যাচের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে শেষ না করে নতুন ব্যাচের পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা পরীক্ষার মান ও ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই তারা যৌক্তিক সময়ের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
তারা বলেন, অতীতে যারা লিখিত পরীক্ষায় বসেছেন ন্যূনতম সময় পেয়েছেন সাত মাস। আমাদেরকে দেয়া হচ্ছে ৫০ দিন। এই ৫০ দিনে সিলেবাস কভার করা সম্ভব না। কোন প্রার্থীর পক্ষেই এটা সম্ভব না।
আমরা পরীক্ষায় বসবো যারা গত বিসিএস এ অংশগ্রহণ করেছে তাদের সাথে। তারা প্রস্তুতির জন্য এক থেকে দেড় বছর সময় পেয়েছে। তারা এখন রিভিশন দিচ্ছে। প্রস্তুতির দিক দিয়ে আমরা অনেক বেশি পিছিয়ে পড়বো। যারা ঢাকায় আছেন তারা সেখানে কর্মসূচি করেছেন। আজ আমরা চট্টগ্রামে করছি। এভাবে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আন্দোলন কর্মসূচি হবে।
ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত পোস্টার হাতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, পরীক্ষার মূল্যায়ন এবং নিয়োগের ধাপগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগেই নতুন ব্যাচের লিখিত পরীক্ষার ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করছে। এতে কেবল বিভ্রান্তি বাড়ছে না, একইসঙ্গে বিসিএস পরীক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
পরীক্ষার্থী জুলফিকার বলেন, বিসিএস একটি দীর্ঘ প্রস্তুতির বিষয়। হঠাৎ করে সময়সূচি ঘোষণা করার কারণে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, যা আসলে যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়।
পরীক্ষার্থী সামিয়া জাহান বলেন, পিএসসির সিদ্ধান্তহীনতা এবং সময়সূচি নির্ধারণে অসঙ্গতি দেশের লাখো পরীক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পরীক্ষার্থী ইমরান এবং জামিন জানিয়েছেন, বিসিএসের প্রস্তুতি এক বা দুই মাসের বিষয় নয়। এখানে বিশাল সিলেবাস, বিশ্লেষণমূলক পড়া, রেফারেন্স বই সবকিছু মিলিয়ে প্রস্তুতি দীর্ঘ সময় ধরে করতে হয়। পিএসসি যদি সময় কমিয়ে দেয়, তাহলে যারা চাকরির পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নষ্ট হবে। বিসিএসের মতো বড় পরীক্ষায় সময় বাঁচানোর নামে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়।
এসএন/