পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় তীব্র শীতের সঙ্গে সঙ্গে কানটুপির চাহিদা বেড়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ - সবাই কানটুপির দিকে ঝুঁকছেন।
কয়েক দিন ধরে ঈশ্বরদী শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কানটুপি কেনার ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্টেশন সড়ক, বাজার এলাকা ও বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে থাকা দোকানগুলোতে সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় করছেন। অনেকেই একসঙ্গে একাধিক টুপি কিনছেন-নিজের জন্য, আবার পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও।
দোকানিরা জানান, শীত শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে গরম কাপড়ের বিক্রি ধীর ছিল। কিন্তু তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির নিচে নামার পর থেকেই কানটুপির চাহিদা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে কান ঢেকে রাখার প্রয়োজন অনুভব করছেন মানুষ। ফলে সোয়েটার বা জ্যাকেটের পাশাপাশি কানটুপিও এখন প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শহরের স্টেশন সড়কের স্মৃতি স্টোরের বিক্রেতা সীয়াম আলী বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে কানটুপি বিক্রি অনেক বেড়েছে। শিশুদের টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বয়স্কদের জন্য উলের ও মোটা কাপড়ের টুপিও ভালো বিক্রি হচ্ছে।’ তিনি জানান, দোকানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা দামের বিভিন্ন ডিজাইনের কানটুপি রয়েছে। ক্রেতারা রং, কাপড় ও আরামের দিক দেখে টুপি কিনছেন।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতের কারণে কানে ব্যথা ও অস্বস্তি বেড়ে যাচ্ছে। তাই অনেকেই আগে যেখানে শুধু মাথার টুপি ব্যবহার করতেন, এখন আলাদা করে কানটুপি কিনছেন। এক ক্রেতা বলেন, ‘শীত বেশি পড়ছে। বাচ্চাদের কানে ঠাণ্ডা লাগলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই আগেভাগেই কানটুপি কিনে রাখছি।’
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমছে। দিনের বেশির ভাগ সময় কুয়াশা থাকায় শীত আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, শীত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহ কানটুপির চাহিদা আরও বাড়বে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে এখন কানটুপি শুধু ফ্যাশনের বিষয় নয়, বরং শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি জরুরি উপকরণ হয়ে উঠেছে।