চট্টগ্রামেও হাম রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত দশদিনে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২৪ জন ভর্তি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকরা সন্দেহ করছেন এই রোগে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে জানিয়েছেন হাম আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি। ঢাকায় পরীক্ষা না করে হামে মৃত্যু হয়েছে একথা বলার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে ১২ শিশু ভর্তি আছে। আগের ডেঙ্গু কর্নারকে এখন হাম কর্নার করে তাদেরকে সেখানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী কক্সবাজার অঞ্চলের বলে জানা গেছে। ভর্তি হওয়া ১২ শিশুর মধ্যে ২ জনের বয়স ৬ মাসের কম, বাকিদের বয়স ৭ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখেই রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে যাদের শনাক্ত করা হয়, তাদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই পরীক্ষার পরে হাম ধরা পড়ে।
এদিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে (আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল) দুইজন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১০ দিনে তিনজনের মৃত্যু হয়। একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছে ছয়জন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিআইএমসিএইচ) এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন দুইজন।
সিআইএমসিএইচ এর অধ্যক্ষ ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ খবরের কাগজকে বলেন, এখানে কয়েকদিন আগে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে দুইজন ভর্তি আছে। যেসব শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ পান করানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভালভাবে দুধ পান করলে শিশু শঙ্কামুক্ত থাকতে পারে। তিনি বলেন, পুষ্টিহীন বাচ্চারা আক্রান্ত হলে ঝুঁকিটা বেড়ে যায়। তাই দেশের গরীব পুষ্টিহীন শিশুরাই বিপদে বেশি পড়ছে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মিশু তালুকদার বলেন, শিশু হাসপাতালে গত দশদিনে অন্তত ১৫ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু এবং বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি আছে ছয়জন। বাকিরা সুস্থ হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়াদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের কারো কারো দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কারো কারো উন্নতি হচ্ছে। রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আক্রান্তদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট খিচুনিসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাদের জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে ভর্তি দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে কিছু রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে কিছু রোগীর উপসর্গ দেখা গেলেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবুও তাদেরকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুরো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি আছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে হাম টিকার কোনো সংকট নেই। এটি স্বাভাবিক নিয়মে চলছে।
তিনি জানান, বোয়ালখালী উপজেলায় একজন এবং হাটহাজারী উপজেলায় একজন হামের রোগী পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকসাস ডিসিজের (বিআইটিআইডি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, বিআইটিআইডি সরকারের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। সরকারি নির্দেশনা মতে এখানে ছয় শয্যার একটি পৃথক ব্লক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে কোন রোগী ভর্তি নেই। হাম জটিল কোনো রোগ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকটাপন্ন হলে দ্রুত চিকিৎসা দিলে রোগী সুস্থ হয়।
এসএন/