ঈশ্বরদীতে সন্ত্রাসী হামলায় ইমরান হোসেন সোহাগ (২৭) হত্যার চারদিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ হত্যা মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) নিহত সোহাগের বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রী ইমানুল প্রামাণিক (এনামুল) বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় খুনের মামলাটি দায়ের করেন। নিহত ইমরান হোসেন সোহাগ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ও জিয়া সাইবার ফোর্স উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন।
মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সাঁড়া গোপালপুর এলাকার মৃত কুরমান আলীর ছেলে মো. রাজন (২৪)কে। নামীয় অন্য আসামিরা হলেন-একই এলাকার মো. শাজাহানের ছেলে মো. রুবেল (২৭), মৃত কুরমান আলীর ছেলে মো. স্বপন (৪০), মো. শাজাহানের ছেলে মো. নয়ন (৩০), মৃত আজাহারের ছেলে মো. শাজাহান (৬৫), মৃত কুরমান আলীর ছেলে মো. সুমন (২৬) ও মো. স্বপনের ছেলে মো. সাজিম (১৯)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার।
মামলার এজাহারে বাদী ইমানুল প্রামাণিক উল্লেখ করেন, আসামিদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২ এপ্রিল কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে জানতে পারি, দুপুরে আড়াইটার দিকে ছেলে ইমরান হোসেন সাঁড়া গোপালপুর আখ সেন্টারে গিয়েছে। সেখানে তার বন্ধু অন্তর হোসেন, মো. শান্ত, মো. রিশাদসহ স্থানীয় অন্য বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়। পরে সোহাগ অন্তর, রিশাদকে মোটরসাইকেলে করে ঈশ্বরদী বাজারে আসে। বাজারে রিশাদকে নামায়ে দিয়ে অন্তরকে সঙ্গে করে পুনরায় গোপালপুর আখ সেন্টারে ফিরে আসে।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, একইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপালপুর আখ সেন্টারের পিছনে মো. মিজান নামে একজন তালতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বলে সোহাগের কাছ থেকে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের জন্য অপেক্ষমান থাকা অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে সাঁড়া গোপালপুর স্কুল মাঠের পেছন থেকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা হেলমেট পরিহিত অবস্থায় গুলি করতে করতে রেল লাইনের উপরে আসে। গোলাগুলির শব্দ শুনে ছেলে ও তার বন্ধু অন্তরসহ দৌড়ে পালানোর সময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলে ইমরান হোসেনকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করতে থাকে। আসামিরা গুলি করে সোহাগের মাথার বাম পাশের কপাল হতে ডান পাশের গাল ও মাথার খুলি ক্ষত-বিক্ষত করে এবং ডান পাশের বুকের উপর ও গলার নিচে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার বলেন, ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত সোহাগের বাবা। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করবে।
জাহাঙ্গীর হোসেন/অন্তরা