ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’ কেপ ভার্দেকে নিয়ে ডি পলের সতর্কবার্তা গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস কোচের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছেন এনড্রিক রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী ‘মাদক ছাড়ুন, না হলে বিপদে পাশে কাউকে পাবেন না’ শিয়াল ও ছাগল বিশ্বকাপের তারকা ট্রিওন্ডা

আকুতি ও বেদনা ভরা রোহিঙ্গাদের কোরবানি ঈদ

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
আকুতি ও বেদনা ভরা রোহিঙ্গাদের কোরবানি ঈদ
ছবি : সংগৃহীত

২০১৭ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এখন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে চরম অনিশ্চয়তা, বঞ্চনা ও সংকটের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে।

বর্তমানে এই দুই উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখে বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

চারদিকে যখন পবিত্র ঈদুল আজহার আমেজ, তখন কাঁটাতারের বেড়ায় বন্দি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উৎসবের আনন্দ যেন থমকে গেছে। আনন্দ-উদযাপনের বদলে সেখানে বিরাজ করছে দীর্ঘশ্বাস, অনিশ্চয়তা ও সীমাহীন বঞ্চনার হাহাকার।

এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও বিপন্ন হয়ে উঠছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা নজু মিয়া দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, আমরা একসময় মিয়ানমারে জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলাম। কিন্তু সংঘাতের কারণে বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে। আল্লাহ ছাড়া এখন আমার পরিবারের দেখভাল করার মতো কেউ নেই। যাদের পরিবারের সদস্য বিদেশে আছেন, তারা গরু কিনে কোরবানি দিচ্ছেন। আর আমরা খুব কষ্টে দিন পার করছি। একটি মুরগি কিনে খাওয়ার মতো টাকাও নেই। কেউ সাহায্য করলে তবেই হয়তো গরুর মাংস খেতে পারব।

ক্যাম্প গুলোতে একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। আসন্ন কোরবানির ঈদ ঘিরেও তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অথচ নিজ দেশে থাকাকালে এমন দুঃসময় কখনো দেখেননি বলে জানান অনেকে।

লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মাহামুদা খাতুন বলেন, আগে আমাদের পরিবারে সদস্য ছিল ৭ জন, বর্তমানে মাত্র দুজন একসঙ্গে বসবাস করছি। আগে প্রতি মাসে ১২ ডলার করে সহায়তা পেতাম। কয়েক মাস ধরে তা কমে ৭ থেকে ১০ ডলারে নেমে এসেছে। এতে খুব কষ্টে দিন কাটছে। কোরবানির ঈদ এলেও ঘরে মাংসের দেখা মেলে না। বিশেষ করে লেদা পুরাতন ক্যাম্পে আমরা তেমন কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও পাই না।

টেকনাফ উপজেলায় বর্তমানে ৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। সেগুলো হলো নয়াপাড়া মোচনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্প, জাদিমুড়া ২৭ নম্বর ক্যাম্প, শালবাগান ২৬ নম্বর ক্যাম্প, লেদা ২৪ নম্বর এলএমএস ক্যাম্প, আলীখালী ২৫ নম্বর ক্যাম্প, হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং ২১ নম্বর ক্যাম্প এবং চাকমারকুল ২২ নম্বর ক্যাম্প। এসব ক্যাম্পে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

জানা যায়, গত বছরের ১৪ মার্চ শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে এসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের আশার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে একের পর এক ঈদ এলেও মাতৃভূমির সেই চেনা উঠোনে ফেরা হয়নি তাদের।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুর বলেন, মিয়ানমারে থাকাকালে আমরা গরু-ছাগল পালন করতাম। তখন যখন যা ইচ্ছা হতো, সেটিই কোরবানি দিতাম। কিন্তু মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে এখন ৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। এখানে আসার পর অনেক ঈদ কোরবানিতে গরুর মাংস পর্যন্ত দেখতে পাইনি। অনেক কষ্ট করে কাজকর্মের মাধ্যমে কিছু টাকা জমিয়ে ১০ পরিবার মিলে ৬৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি ছোট গরু কিনেছি। খুব কষ্টের মধ্য দিয়েই দিন পার করছি।

লেদা এলএমএস ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, আমার ক্যাম্পে মোট জনসংখ্যা ৩৬ হাজার ৪৫৩ জন। এখানে ৭ হাজার ৮৭৩টি পরিবার রয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সরকার বা কোনো এনজিওর পক্ষ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। ১০ থেকে ১৫টি পরিবার মিলে নিজেদের অর্থায়নে কয়েকটি গরু কিনেছে। অনেকেই কষ্ট নিয়ে ঈদ পালন করেছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আশ্রয় শিবিরে বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী অনেক এনজিও বর্তমানে তহবিল সংকটে রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এবারের কোরবানির আয়োজনেও। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা কমে গেছে।

তিনি বলেন, গত বছর প্রতিটি পরিবারকে দেড় কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয়েছিল। তবে এবার উখিয়া ও টেকনাফ এর ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে এক কেজি করে মাংস বিতরণ করা হবে।

রোহিঙ্গা নেতাদের ভাষ্য, ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঈদুল আজহা উপলক্ষে আশ্রয়শিবিরে থাকা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা পাঁচ থেকে ছয় হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল সরবরাহ করত। তবে বর্তমানে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছালেও কোরবানির পশুর সংখ্যা কমে প্রায় দুই হাজারে নেমেছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দুবাই, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের আত্মীয় স্বজনদের পাঠানো টাকায় আশ্রয় শিবিরে কিছু কিছু পরিবার গরু কিনে কোরবানি দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। 

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার ২৭৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। এছাড়া ভাসানচরে রয়েছেন আরও প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫০ জন রোহিঙ্গা। ফলে বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৪ হাজার ১২৩ জন।

এসএন/

একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

একই মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম, একই আঙিনায় বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরের কত শত স্মৃতি জড়িয়ে থাকে যে পৈতৃক ভিটায়, সেই চেনা আঙিনাই আজ পরিণত হলো এক রক্তস্নাত যুদ্ধক্ষেত্রে। সম্পত্তির লোভ আর ক্ষণিকের অন্ধ আক্রোশ মুছে দিল আজন্মের ভাইয়ের বাঁধন। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে গাছ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম (৫৩)।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই বুকফাটা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। যে পৈতৃক ভিটা একসময় দুই ভাইয়ের মেলবন্ধনের সাক্ষী ছিল, আজ তা-ই রঞ্জিত হলো আপন ভাইয়ের রক্তে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক জায়গাজমির ভাগ–বাঁটোয়ারা নিয়ে খুটাখালীর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আবদুর রহিমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মনের ভেতর জমে থাকা সেই পারিবারিক ক্ষোভ আজ রূপ নেয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

সকালে দক্ষিণপাড়ার পুরোনো বসতভিটায় গিয়ে আচমকা গাছ কাটতে শুরু করেন ছোট ভাই আবদুর রহিম। পৈতৃক ভিটার গাছ কাটার খবর পেয়ে পূর্বপাড়া থেকে মনস্থির রাখতে পারেননি বড় ভাই নুরুল ইসলাম। রক্তের টানে আর পৈতৃক স্মৃতি রক্ষার্থে দ্রুত ছুটে যান সেই পুরোনো ভিটায়। কিন্তু তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি, এই যাওয়াই হবে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে ক্ষোভ ও অভিমানে নুরুল ইসলাম নিজেও দুটি গাছ কাটেন। আর এতেই যেন ছোট ভাই আবদুর রহিম ও তাঁর পরিবারের ভেতরের সুপ্ত হিংস্রতা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বড় ভাইয়ের ওপর চড়াও হন আবদুর রহিম ও তাঁর স্বজনরা। চারপাশের আকুতি আর রক্তের সম্পর্ককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবদুর রহিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বড় ভাই নুরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। কোপের পর কোপ বসতে থাকে নুরুল ইসলামের শরীরে আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে দক্ষিণপাড়ার আকাশ। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নুরুল ইসলাম। আর তখনই অপরাধবোধহীন হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

রক্তের সাগরে ভেসে যাওয়া নুরুল ইসলামকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে যখন তার মরদেহ পড়েছিল, তখন উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সামান্য কিছু গাছের জন্য একটা তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে, তা যেন কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, জায়গাজমি ও গাছ কাটার বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পিঠে, পায়ে ও গলার নিচে একাধিক মারাত্মক কোপের আঘাত রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ জানায়, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আবদুর রহিম ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এসএন/

চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় জেতার পর গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে মাহিদুল (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নগরীর হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিদুল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কোনোপদিয়া এলাকার রাসেল গাজীর ছেলে। সে নগরের কলসির দীঘিরপাড় এলাকায় তার ভগ্নিপতির সাথে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন।

মাহিদুলের ভগ্নিপতি মো. রবিউল বলেন, শুক্রবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে যান মাহিদুল। খেলার এক পর্যায়ে গোল করার পর আনন্দ প্রকাশ করতে গোলপোস্টের ওপর ঝুলে পড়েন। তখন লোহার গোলপোস্টটি ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এএফ/

৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি ইয়াবা কারবারি জলমনি চাকমা তিন হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। 

শ্রক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটি শহরের মারী স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সহযোগী জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ধোপ্পাছড়া এলাকার নতুন বাবু তঞ্চঙ্গ্যা (৩৬)কেও গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে জলমনি চাকমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্হা নিলো গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় 'গণঅধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার সহ সভাপতি এস আই জলমনি চাকমাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে'। রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জলমনি চাকমা সদর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী বিশেষ এই অভিযান  পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুই আসামির হেফাজতে থাকা তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুজনই মাদক কারবারে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের স্হানীয় মূল্য সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারেক সেকান্দার বলেন, 'আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে'। 

'মাদক কারবার নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে' বলেও যোগ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

 

গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি
মানিক মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন- গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া মহল্লার শোয়েব মুন্সি, অলি মুন্সি, নুহ মুন্সি, রাইশিমুল গ্রামের আল ইমরান খান, সাতুতী গ্রামের হাদিস, উজ্জ্বল এবং তারাকান্দা থানার বিসকা গ্রামের রিফাত খান।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সি, ছাত্রদল গৌরীপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা জানান, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল কিনতে গেলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক মানিককে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে সতিষা এলাকার একটি রাস্তায় নিয়ে দফায় দফায় নির্মম নির্যাতন ও মারধর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে শোয়েব মুন্সির লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’ এমন একটি বক্তব্য মুঠোফোনে রেকর্ড করিয়ে নেয়। এরপর গুরুতর আহত মানিককে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বজনরা প্রথমে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মানিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে তার পা ও ঊরুর হাড় ভেঙে গিয়েছিল।

নিহতের ভাই সুখ মিয়া জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুন্সি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মানিককে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রিফাত/

রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ঐতিহাসিক পদ্মা নদীসহ দেশের সব নদ-নদী রক্ষা, নাব্যতা সংকট দূর, নদীদখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৬টায় নগরের লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

মিনি ম্যারাথনটি লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে আবার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৫৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৩৫ জন ছিলেন নারী প্রতিযোগী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের উপদেষ্টা লিয়াকত আলী, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা মামুন, উপদেষ্টা রিক্তা পারভীন, আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন বিন মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানিসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

আয়োজকরা জানান, ‘রান ফর পদ্মা’ কেবল রাজশাহীর নয়, বরং বাংলাদেশের পরিবেশ, নদী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার একটি গণসচেতনতামূলক উদ্যোগ। নদী রক্ষার দাবি শুধু পরিবেশগত নয়, এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই এ মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।

এনায়েত/এএফ