কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় ঈদুল আজহার দিন সংঘটিত লিপি আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব-১১। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও মামলার প্রধান আসামি মো. সুমনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন লিপি আক্তার। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আব্দুল জলিলের মেয়ে। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
ঈদুল আজহার দিন (২৮ মে) বিকেলে মেয়ে শান্তা আক্তার মায়ের সঙ্গে দেখা করে নিজ বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে মুঠোফোনে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে খাটের ওপর লিপি আক্তারের নিথর দেহ দেখতে পান।
ঘটনার পর নিহতের মেয়ে শান্তা আক্তার বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে র্যাব।
শনিবার (৩০ মে) ভোরে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ সিপিসি-২ ও র্যাব-১-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গাজীপুর সদর থানার ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শাহাগোদা গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তে জানা গেছে, সুমন ছিলেন লিপি আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন।
ঘটনার রাতে সুমন লিপি আক্তারের বাসায় অবস্থান করেন। পরদিন ভোরে নিহতের মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যাওয়ার সময় লিপি আক্তার বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন তাকে বিছানায় ফেলে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সুমন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
র্যাব-১১ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এসএন/