জারাদের বাড়ির পেছনে ছোট্ট বাগান। ও প্রতিদিন বাগানে যায়। জারার খেলতে ভালো লাগে। পাখি দেখতে ভালো লাগে। ফুল ভালো লাগে। তবে অঙ্ক? একটুও ভালো লাগে না!
সেদিন আব্বু বললেন, ‘জারা, ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনে শোনাও তো।’
জারা গুনতে শুরু করে, ‘১, ২, ৩...তারপর...তারপর...আমি ভুলে গেছি।’ এই বলেই এক দৌড়। কই আর যাবে, গেল বাগানে।
জারার বড় আপু তিনু। পড়ালেখায় খুব ভালো। জারা গেল আপুর কাছে।
‘আপু, আমি গোনা শিখতে চাই।’
‘এ তো খুব ভালো কথা। আমরা খেলতে খেলতে গোনা শিখব।’
জারাকে নিয়ে বাগানে গেল আপু।
‘জারা, আমরা মজার একটি খেলা খেলব। এই খেলায় তুমি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারবে।’
জারা খুশি হয়ে বলল, ‘কীভাবে?’
আপু ওকে গাছের কাছে নিয়ে গেল। গাছের নিচে লাল ফুল পড়ে আছে।
‘জারা, এখানে কয়টা ফুল?’
জারা হেসে বলল, ‘একটা! এটা তো সহজ, ১!’
ওরা এবার গেল একটি ঝোপের কাছে। সেখানে খরগোশ ঘাস খাচ্ছিল।
আপু জিজ্ঞেস করল, ‘এখানে কয়টা খরগোশ?’
জারা আঙুল তুলে বলল, ‘এক, দুই! ২টা খরগোশ!’
এবার গেল ফুল গাছের কাছে। সেখানে প্রজাপতি উড়ছে।
জারা রঙিন প্রজাপতি দেখে খুশি হয়ে বলল, ‘এক, দুই, তিন! ৩টা প্রজাপতি!’
আপু হেসে বলল, ‘দারুণ! চলো আরও
সামনে যাই।’
ওরা হাঁটতে হাঁটতে দেখল, পাখিরা গাছের ডালে গান গাইছে।
জারা তখনই আঙুল গুনে গুনে বলল, ‘এক, দুই, তিন, চার! ৪টা পাখি! তাই না আপু?’
‘হ্যাঁ, তুমি সঠিক বলেছ।’
আপু ও জারা গেল আমগাছের কাছে। গাছে পাকা আম ঝুলছে।
জারা লাফ দিয়ে বলল, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ! ৫টা আম!’
জারা আরও বলে, ‘আমরা এখন আম খাব।’
আপু বলল, ‘আগে খেলাটা শেষ করি। তারপর আম খাব।’
আমগাছের পাশেই পুকুর। পুকুরে পদ্মফুল ফুটে আছে।
জারা বলল, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়! ৬টা ফুল!’
পুকুর পাড়ে ঘাসের ওপর ফড়িং নাচছে। জারা কয়েকবার আঙুল গুনল। তবে কয়টা ফড়িং, তা বলতে পারল না।
আপু বলল, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত! ৭টা ফড়িং!’
জারা জোরে জোরে বলে, ‘হ্যাঁ, তাই তো ৭টা ফড়িং, ৭টা ফড়িং…’
ওরা অনেক হেঁটেছে। বিশ্রাম নিতে আমগাছের নিচে বসল। জারা দেখল, পিঁপড়া সারি করে হাঁটছে।
ও বলল, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট! ৮টা পিঁপড়া!’
আপু বলে, ‘ঠিক ঠিক। আমাদের জারা ঠিক গুনেছে।’
আমগাছের পাশেই ছিল তালগাছে। তালগাছে বাসা বেঁধেছে বাবুই পাখি। বাবুইয়ের বাসা বাতাসে দুলছিল। জারা কয়েকবার বাসা গুনল। তবে বলতে পারল না।
আপু বলল, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়! ৯টা বাসা।’
আপুর সঙ্গে সুর করে জারা বলে, ‘৯টা বাসা, ৯টা বাসা। ৮ এর পরে ৯।’
জারার দুই হাত ঘাসের ওপর রাখল আপু।
তারপর বলল, ‘জারা, এবার আঙুলগুলো গোনো। তারপর বলবে, তোমার দুই হাতে কয়টা আঙুল?’
জারা গুনতে শুরু করে, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ! ১০টা।’
ও লাফাতে লাফাতে বলল, ‘আমার দুই হাতে ১০টা আঙুল। আমি পেরেছি... ১০ পর্যন্ত গুনতে পেরেছি। হে হে ৯ এর পরে ১০ হয়।’
জারার আনন্দ দেখে আপু খুশি।
‘দেখলে তো গল্পে গল্পে গুনতে শেখা কত সহজ!’
জারা এখন বাগানে যায়। তারপর যা দেখে তাই গোনে।
জারা এখন ১০ পর্যন্ত গুনতে পারে। এখন জারার অঙ্ক ভালো লাগে।