শখ থেকে কোয়েল পাখি পালন করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী আবির হাসান ইফতি। সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাসের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তিনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার নিজ বাড়িতে এ খামার গড়ে তুলেছেন ইফতি। প্রথমে শখ করে শুরু করলেও এর বাজার চাহিদা থাকায় পরে বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পালন শুরু করেন ইফতি। কোয়েল অল্প খাবার ও অল্প জায়গাতেই লালন-পালন করা যায়।
বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৪ হাজার কোয়েল পাখি রয়েছে। মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করছেন ইফতি।
ইফতির বাবা সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম রূপন বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে ইফতি পাখি খুবই পছন্দ করে। প্রথমে শখ করে ও পরে বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখি লালন-পালনের কথা জানালে আমরা তাকে সমর্থন দিই। এখন সে ভালো করছে। নিজেই উপার্জন করতে শিখেছে।’
উদ্যোক্তা আবির হাসান ইফতি বলেন, ‘আমি পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। প্রথমে শখ করে ১৫-২০টি কোয়েল পাখি পালন করি। তখন এর ডিম বিক্রি হতো এবং বাজারে অনেক চাহিদা লক্ষ করি। তারপর ৫০০ কোয়েল পাখি নিয়ে আড়াই বছর আগে খামার তৈরি করি। এখন আমার খামারে ৩ হাজার ৫০০টির বেশি পাখি আছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০টি ডিম পাই। প্রতিটি ডিম এখন পাইকারি বিক্রি করি ২ টাকা ৫০ পয়সা এবং কোয়েল পাখির বাচ্চাও বিক্রি করি। শীতের সিজনে খামারে প্রায় ১০ হাজার পাখি থাকে। শীতের সিজনে ডিমের পাইকারি দাম থাকে ৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৪০ পয়সা। মাত্র দুজন লোক দিয়ে সম্পূর্ণ খামার পরিচালনা করি। শুধু ডিম বিক্রি থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা মাসিক আয় হয়। কোয়েল পাখির বাচ্চা বিক্রির টাকা তো আছেই। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হয়। শীতের সিজনে খামারে আয় অনেক বৃদ্ধি পায়।’
ডিম বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ইফতির ফার্ম থেকে প্রায় দুই হাজার কোয়েল পাখির ডিম মোগরাপাড়া চৌরাস্তার বাজারে এনে বিক্রি করি। বাজারে এ ডিমের অনেক চাহিদা, বিক্রিও ভালো। তবে শীতের সিজনে অনেক বেশি চাহিদা থাকে।’
একটি কোয়েল পাখি ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার আর ওজন ১২০ থেকে ১৫০ গ্রাম হয়। স্ত্রী কোয়েল পাখি বছরে ২০০ থেকে ২৫০টি ডিম দেয়। প্রতিটি ডিমের ওজন ৮ থেকে ১২ গ্রাম হয়। কোয়েল পাখি ১৭-১৮ দিনের মধ্যে বাচ্চা দেয় এবং ৬ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ডিম দিয়ে থাকে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. ফারুক আহাম্মেদ জানান, কোয়েল পাখির ডিমে অত্যন্ত পুষ্টিগুণে ভরপুর পটাশিয়াম, জিংক, ভিটামিন বি১২, বি৬, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ই থাকে। এর উপকারিতা অনেক। এ ডিম অ্যালার্জির লক্ষণ ও মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, সর্দি-কাশি, হাঁপানি কমাতে সাহায্য করে, ত্বক কোমল রাখে, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে, বাচ্চাদের মেধা বিকাশে সাহায্য করে, ডায়বেটিস প্রতিরোধ করে। কোয়েল পাখি খাদ্য ও টিকা মেনটেইন করে লালন-পালন করলে অনেক লাভজনক। অল্প খরচে ও অল্প জায়গাতেই কোয়েল পাখি লালন-পালন করা যায়।
তিনি বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে আমরা খামারিদের সহযোগিতা করে থাকি। কোয়েল পাখির খামারিদের সরকারি রাজস্বে ভ্যাকসিন ও টিকা বিতরণ করে থাকি। যেকোনো রোগ-বালাইয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি।’
সোনারগাঁও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে জানানো হয়, সোনারগাঁওয়ে প্রায় পাঁচটি বড়ো কোয়েল পাখির খামারি নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও কোয়েল পাখির খামার আছে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে।