ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা টানা দুই দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম পড়ে পাওয়া গল্পের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ল্যামিনের আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ স্পেন কোচ চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আজ ফুটবল আসলেই এক নির্মম খেলা: সেনেগাল কোচ আইফোনে কাস্টম অ্যালার্ম টোন মাদারীপুরে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানিসংকট ঢাকার যানজট কমাতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনোনীত হলেন আজিজ আল কায়সার জেলেনস্কির সতর্কবার্তার পর কিয়েভে হামলা, নিহত ৮ মংডুতে জান্তা সরকারের বিমান হামলা, কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত দেশের বাজারে আসছে অনারের ম্যাজিক ভি৬ ফোন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিইউবি ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্পন্ন ইউল্যাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের পেকুয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা ঢাকা পড়েছে বর্জ্যে মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে রাজবাড়ীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে জমি তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন পদ্মার চরে রক্তাক্ত আধিপত্যের লড়াই: আট মাসে ৮ খুন, আতঙ্কে চরবাসী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

কোরবানি ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্স বাড়ছে

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম
কোরবানি ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্স বাড়ছে
প্রতীকী ছবি

দেশে বৈধপথে বাড়ছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ। বিশেষত, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া লাগে। প্রবাসী আয়ে একের পর এক রেকর্ড হতে থাকে। এর মধ্যে দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে যথাক্রমে গত মার্চ ও এপ্রিলে।

চলতি মে মাসও রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারায় নতুন রেকর্ডের হাতছানি দিচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬১ কোটি ডলারের। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে আসছে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার বা ১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মের প্রথম ১৭ দিনে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলারের বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে, কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক এবং সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে- হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এরপর আগস্টে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার এবং সবশেষ এপ্রিলে রেমিট্যান্স আসে ২৭৫ কোটি ডলারের।

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য
ছবি: খবরের কাগজ

ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করলেও দেশের মাটিতে এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা কম নয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ১১ জুন থেকে শুরু হ্ওয়া এ বিশ্বকপের জন্য দেদার বিক্রি হচ্ছে ফেবারিট দলগুলোর পতাকা ও জার্সি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টেলিভিশনের বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তবে নতুন করে যোগ হয়েছে বড় পর্দা তথা প্রজেক্টরের ব্যবসা। অন্যদিকে অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে জার্সি ও পতাকা। এর পর্দা নামবে ১৯ জুলাই।

বেড়েছে পতাকা ও জার্সি বিক্রি

নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, ষোলশহর দুই নম্বর গেট এবং মুরাদপুর এলাকায় প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা বিক্রি করেন ওসমান গণি। ফুটপাতে সারা বছর গার্মেন্টসের রিজেক্টেড কাপড় বিক্রেতা ওসমান খবরের কাগজকে জানান, ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই তিনি পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি মূলত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা বেশি রাখেন। এই দুই দেশের পতাকার চাহিদাও বেশি। তবে এবার ইরানের জাতীয় পতাকাও রেখেছেন। বেশ কয়েকটি বিক্রিও করেছেন। এ ছাড়া অতীতে বিশ্বকাপজয়ী বেশ কয়েকটি দলের জাতীয় পতাকাও তিনি রেখেছেন। তবে সেসব দেশের পতাকার তেমন কাটতি নেই বলে জানান তিনি।

নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানে জার্সি কিনতে আসা ক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মূলত ভালোবাসা এবং আবেগের কারণে তারা অন্য দেশের জার্সি ও পতাকা কিনছেন। দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসার বিন্দুমাত্র কমতি নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা সুযোগ নিচ্ছেন। মানুষের ভালোবাসা এবং আবেগকে জিম্মি করে জার্সি ও পতাকার বাড়তি দাম আদায় করছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বাড়তি দাম আদায়ের এই ঘটনা যেহেতু চার বছর পর একবার ঘটে। তাই প্রশাসনেরও এদিকে খুব একটা নজর থাকে না। দাম বেশি নিলেও তারা প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনতে পিছপা হচ্ছেন না।

এম এ আজিজ মার্কেটের প্লেয়ার্স স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, বাংলাদেশের মানুষ খেলা অন্তঃপ্রাণ। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এলে মানুষের মাঝে উন্মাদনা আরও বেড়ে যায়। তখন তারা প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কেনেন। এটি হলো ওই ফুটবল টিমের প্রতি ভালোবাসা। গত বছরের তুলনায় এবার জার্সি ও পতাকার বিক্রি বেড়েছে। ভক্তরা তাদের প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা ও জার্সি। ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামের মধ্যে যেসব জার্সি রয়েছে তার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খেলা শুরু হওয়ার পর জার্সি ও পতাকার চাহিদা আরও বেড়েছে। পতাকার দাম নির্ভর করে সাইজের ওপর। ১০০ টাকা থেকে শুরু। যত বড় হয়, দাম তত বাড়ে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার অনলাইনেও প্রচুর পরিমাণে জার্সি ও পতাকা বিক্রি হচ্ছে। তরুণ-তরুণী এবং শিক্ষার্থীরা জার্সি ও পতাকার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এ ছাড়া ফুটবল বিক্রিও বেড়েছে। 

আর্জেন্টিনার সমর্থক মোহাম্মদ হাসিব খবরের কাগজকে জানান, খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জার্সির দাম বেড়ে গেছে। তাই তিনি নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে গিয়েও না কিনে ফেরত এসেছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি জার্সির দাম দেখতে গিয়েছিলেন। যখন খেলা শুরু হবে তখন কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু খেলার শুরুর দিন দোকানে গিয়ে তিনি হতভম্ব। প্রতি জার্সিতে দাম বেড়ে গেছে ২০০ টাকা। খেলা শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ আগেও একদম সাধারণ মানের জার্সির দাম ছিল ২৫০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। আর ৪০০ টাকায় যেসব জার্সি বিক্রি হতো। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। ৬০০ টাকার জার্সি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি জার্সিতে দাম বেড়েছে ২০০ টাকা।

তুলনামূলক কমেছে টিভি বিক্রি

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিকস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হক পাটোয়ারী খবরের কাগজকে বলেন, অতীতে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে টেলিভিশন বাজারে ব্যাপক চাঙাভাব দেখা যেত। সাধারণত বিশ্বকাপ শুরুর এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই টেলিভিশনের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেত। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যেমন বিশ্বকাপের উন্মাদনা থাকত, তেমনি নতুন টেলিভিশন কেনার আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।

তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিশ্বকাপ শুরু হলেও বাজারে সেই প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম ও বিক্রির গতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, টেলিভিশন ব্যবসা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বর্তমানে অনেক দর্শক মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের মাধ্যমে খেলা উপভোগ করছেন। পাশাপাশি পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে টেলিভিশনে খেলা দেখার সংস্কৃতিও আগের তুলনায় কমে এসেছে। তবে বড় পর্দা তথা প্রজেক্টরের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।

ইকরামুল হক পাটোয়ারী আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে অনেকেই নতুন টেলিভিশন কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন। তার ভাষায়, ‘মানুষের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে তারা অবশ্যই ব্যয় করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা অনেক বেশি সতর্ক।’

তিনি জানান, এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবে এবারের বিশ্বকাপ মৌসুমে টেলিভিশন বিক্রি অতীতের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বেড়েছে প্রজেক্টরের ব্যবসা

দর্শকরা বড় পর্দায় খেলা দেখতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন বেশ ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক তরুণরা টাকা তুলে প্রজেক্টর ভাড়া করছেন। কেউ কেউ একেবারে কিনে ফেলছেন। যে কারণে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রজেক্টরের চাহিদা বেড়েছে। তবে এই চাহিদার সুযোগও নিচ্ছেন অনেক বিক্রেতা। বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার আমতল সিডিএ মার্কেটের মুনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মজিবুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেড়েছে। কিশোর-যুবকরা দলবেঁধে এসে প্রজেক্টর কিনে নিয়ে যাচ্ছে ফুটবল খেলা দেখার জন্য। বিভিন্ন মান এবং দামের প্রজেক্টর রয়েছে। খুবই সাধারণ মানের প্রজেক্টরের দাম ৫ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের প্রজেক্টরও তার কাছে আছে। পাইকারিতে দাম বাড়েনি। চাহিদা বাড়লেও তিনি দাম বাড়াননি বলে জানান।

আরও একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, প্রজেক্টরের চাহিদা বেড়েছে এ কথা সত্য। তবে খেলার ফিকশ্চার দেখলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মানুষের ঘুমের সময়ে খেলাগুলো পড়েছে। খেলা গভীর রাতে এবং ভোর না হয়ে দিনে কিংবা সন্ধ্যার পর হলে প্রজেক্টরের ব্যবসা আরও বেড়ে যেত। তবু তাদের ব্যবসা জমজমাট। তবে একথা সত্য, কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বেশি। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা এবং আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

শুধু জুন মাসেই রাজস্ব আদায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় জুনে অতিরিক্ত আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এদিকে, বকেয়া ও ডেকোরেট, ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে চলতি অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে মোট ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে ৫৯০ কোটি টাকা এবং ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে ৪২৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা থেকে কোনো বকেয়া আদায় হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া ২৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা থেকে কমে ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যেখান থেকে আদায় হয়েছে ২৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে পাওয়ার গ্রিড থেকে ১০৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, সামিট এলএনজি থেকে ৩৭ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ পুলিশ থেকে ২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের অনুমানিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ বা ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে দেশের বৃহত্তর এ শুল্ক স্টেশনের। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারি কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন খবরের কাগজকে বলেন, দেশে নানা সংকটের মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা খুবই সন্তোষজনক। এতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা খুবই খুশি। তবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বকেয়া রাজস্ব আদায় করা গেলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তো। সামনে আমাদের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা বকেয়া আদায়ের জন্য। 

এসএন/

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
ছবি: এআই

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর আগের অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। তবে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এর আগে গত মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা এক মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

এ ছাড়া গত মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা ওই সময় পর্যন্ত কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল।

এসএন/

সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

রাজস্ব ও অন্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে ‘এ’ চালান (অটোমেটেড চালান) বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার ১ জুলাই থেকে এটি বাধ্যতামূলক বলে গতকাল মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালানব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ‘এ’ চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ‘এ’ চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে ‘এ’ চালানব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। সাত অর্থবছরে এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগের মতে, ‘এ’ চালানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এ’ চালানব্যবস্থায় অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালান রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হওয়ায় হিসাব মিলানোর সময় ও ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এ ছাড়া ‘এ’ চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর রিয়েল-টাইমে রাজস্ব আদায় ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। চালান যাচাইব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে চালানের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল ও রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও কমছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

‘এ’ চালান বা অটোমেটেড চালান হলো সরকারি রাজস্ব, কর এবং বিভিন্ন সেবা ফি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার একটি ওয়েবভিত্তিক পদ্ধতি। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রবর্তিত এই সিস্টেমের মাধ্যমে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা এড়ানো যায়।

চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা
বিক্রির জন্য সরবরাহে রাখা হয়েছে চিনিগুঁড়া চাল। ছবিটি নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি মুদি দোকান থেকে তোলা মোহাম্মদ হানিফ

চট্টগ্রামে মাসের ব্যবধানে পাইকারিতে চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ৭০ টাকা বেড়েছে। এমন অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ায় অবাক হয়েছেন চট্টগ্রামের খোদ পাইকারি চাল বিক্রেতারা। তারা এমন পরিস্থিতির জন্য মিলার ও করপোরেট খাতের সাত প্রতিষ্ঠানের সিন্ডেকেটকেই দায়ী করছেন।

অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি চায় ক্যাব। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার এই সংগঠনটির নেতারা। 

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও চাক্তাই এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের আগে পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের পর চড়ে যায় বাজার। ঈদের পরপরই পাইকারিতে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। সম্প্রতি খবরের কাগজের বাজারদর তদারকিতেও পণ্যটিতে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ২৪ জুন পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ১৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত ২৫ জুন কেজিতে দাম আরও বেড়ে ঠেকে ১৭০ টাকায়। বর্তমানে পাইকারি বাজারে একই দাম বহাল রয়েছে। 

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী ও চাক্তাই এলাকায় পাইকারি দামে চাল বিক্রি হয়। চিনিগুঁড়া চালের বর্তমান দাম দেখে অবাক খোদ পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যবসায়িক জীবনে দাম এতটা বাড়তে দেখেননি বলে জানান। এই পরিস্থিতির জন্য তারা কিছু মিলমালিক, করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন। 

কারসাজির নেপথ্যে সাত প্রতিষ্ঠানকে দায়ী 

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজা খান দাবি করছেন, নওগাঁর মেসার্স হাজি আবদুর রহমান অটো রাইসমিল ও বেলকন গ্রুপ, কুষ্টিয়ার মজুমদার গ্রুপ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাব অটো রাইসমিল এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিডি, প্রাণ, ইস্পাহানি সিন্ডিকেট করে চালটির দাম বাড়াচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘আমার এই ৪০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এভাবে হঠাৎ করে এত বেশি দাম বাড়তে দেখিনি। কিছু শিল্প গ্রুপ ও মিলমালিক মিলে একটা বড় ধরনের ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। এরপর আমাদের পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, লাভ ইত্যাদি বিবেচনায় নিতে হয়। তখন দাম আরও বেড়ে যায়।’ 

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজারে চিনিগুঁড়া চালের সরবরাহ আছে, তবে পরিমাণে কম। কিন্তু কিছু মিলার ও করপোরেট গ্রুপ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। তাই এর প্রভাব আমাদের এখানে পড়েছে। দাম কমার তো কোনো লক্ষণই দেখছি না। বরং দিনে দিনে পণ্যটির দাম বাড়ানো হচ্ছে।’ 

চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চাল কয়েকটি গ্রুপ মিলে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে যেভাবে খুশি দাম বাড়াচ্ছে। এক কথায়, সুযোগ বুঝে তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। 

দাম বাড়ার কারণ ও সিন্ডিকেটের কারসাজির বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁর মেসার্স হাজি আবদুর রহমান অটো রাইসমিলের মালিক মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এই চাল রপ্তানি হয়েছে। এ কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, দাম বাড়তি। আগামী পৌষ মাসে নতুন চাল বাজারে উঠবে। এই সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে চালটি বিক্রি করতে হয়। এ কারণে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়। এটিকে সিন্ডিকেট বলা যাবে না, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এমনটা করা হয়। কারণ ব্যবসায়ীকে তো সারা বছর ব্যবসা করতে হবে। যখন মজুত শেষ হয়ে যায়, তখন সবাই কম বিক্রি করার জন্য দাম বাড়িয়ে দেন। 

বেলকন গ্রুপের মালিক বেলাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, সরকার রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। তাই সব চাল রপ্তানি হয়েছে। আর কোনো কারণ নেই। চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীদের তোলা সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। 

প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চালের উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়। তাই এই চাল রপ্তানিতে অনেক সময় সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাঝে মাঝে বছরে এক থেকে দুবার নির্ধারিত পরিমাণ চিনিগুঁড়া চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়। রপ্তানি বাজারে এই চালের ভালো একটা চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ায় এই চালের চাহিদা বেশি। 

তিনি বলেন, যেহেতু এটা উৎপাদন কম হয়, কৃষকপর্যায়ে ধানের দামের ওপর নির্ভর করে চালের দাম নির্ধারিত হয়। আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করেছি। এখন বাজারে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, ধানের দাম বেড়েছে। ফলে সবাইকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নই। আপনি যদি পুরো বাজার দেখেন, করপোরেটের হাতে চালের বাজার যায়নি। পুরো বাজারের ২ থেকে ৩ শতাংশ চাল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। তাহলে করপোরেট প্রতিষ্ঠান তো চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের স্বাভাবিক একটা চর্চা রয়েছে, অন্যের দিকে আঙুল তুলে নিজে ভালো হয়ে যাওয়া। এখানেও তাই হয়েছে। বাংলাদেশে চালের বাজারে কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে। লাইসেন্সিং, রিপোর্টিংয়ের ইস্যু আছে। আমরা কতটা চাল মজুত করতে পারব, সবকিছু খাদ্য অধিদপ্তরকে হিসাব দিতে হয়।’ 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, সরকার বাজার তদারকি না করলে সমস্যা আরও জটিল হবে। করপোরেট গ্রুপ বারবার সিন্ডিকেট করছে। অবশ্যই তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশের বাইরে আছেন বলে জানান।

পরে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। পণ্যের দামে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পেলে অবশ্যই বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায় যে-ই করুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’