প্রবন্ধ: বায়ান্নর দিনগুলো
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন-৫. ‘নাশতা খাবার ইচ্ছা আমাদের নাই’ যিনি যে প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন, তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনার উপরোক্ত উক্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাশতা করার বাহানায় সহকর্মীদের নিজের অবস্থান জানানোর উদ্দেশ্যে যেভাবে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারই প্রকাশ ঘটেছে।
‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৌশলে নাশতা করার কথা বলেছিলেন। শাসকগোষ্ঠীর অপশাসন ও বিনা বিচারে রাজবন্দিদের আটক রাখার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমদ ঢাকা জেলে অনশন ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানতে পেরে কাউকে কিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে জেল কর্তৃপক্ষ তাদের ফরিদপুর জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ফরিদপুর পৌঁছে মহিউদ্দিন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে নাশতা করতে পাশের দোকানে যান। আসলে নাশতা করা মূল বিষয় ছিল না। বঙ্গবন্ধু মনে করেছিলেন, তাদের জেল-স্থানান্তরের কথাটি ফরিদপুরের নেতাকর্মীদেরও জানানো আবশ্যক। তাই তিনি নাশতা করতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, যদি ফরিদপুরের কারও সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে কৌশলে তিনি সফল হন।
আরো পড়ুন : বায়ান্নর দিনগুলো প্রবন্ধের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন-৬. শেখ মুজিবুর রহমান যে কারণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি কাটিয়েছিলেন তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনা থেকে জানা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ২১ ফেব্রুয়ারি সারা দিন উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছিলেন।
পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে সারা দেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান জানতেন বাংলার প্রতিবাদী ছাত্র-জনতা এ নির্দেশকে অমান্য করে মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। তাই তিনি কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন। আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে দিনটি অতিবাহিত করেন। সে সময় সারা দেশ কারাগারে পরিণত হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে মানুষ বিক্ষুব্ধ হলে পাকিস্তান সরকার চরম অমানবিকভাবে তা দমনের প্রস্তুতি নেয়। দেশের দুরবস্থার কথা ভেবেই বঙ্গবন্ধু কারাগারে থেকেও বিচলিত হয়ে পড়েন।
প্রশ্ন-৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতে মুসলিম লীগ সরকার কী অপরিণামদর্শিতার কাজ করেছিল? তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলনে গুলি করে মানুষ হত্যা করাকে মুসলিম লীগ সরকারের অপরিণামদর্শী কাজ বলে মনে করেন, কারণ এর প্রতিফল কী হবে তা মুসলিম লীগ সরকার ভাবেনি।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ১৯৪৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা আন্দোলনে ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল চূড়ান্ত ক্ষোভের দিন। সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার না করে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। পৃথিবীতে আর কোথাও এমন হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। বঙ্গবন্ধুর মতে, এটি মুসলিম লীগ সরকারের অপরিণামদর্শী কাজ। কারণ সরকার বুঝতে পারেনি এর ফলাফল কত মারাত্মক হতে পারে। শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের জন্য তা খারাপ ফল বয়ে আনে; কারণ পূর্ব বাংলায় আর কখনো মুসলিম লীগ রাজনৈতিকভাবে প্রাধান্য সৃষ্টি করতে পারেনি।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কবীর