বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় আয়ের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এখন ঘরে বসে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। যারা আধুনিক বিশ্বের খোঁজখবর রাখেন না, তাদের কাছে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ধারণাটি পরিষ্কার নয়। সহজভাবে বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো, আপনি যে কাজের বিষয়ে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ বা দক্ষ, সেই কাজটি অন্যদের জন্য করা এবং তার বিনিময়ে টাকা নেওয়া।
ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বাধীন। কেননা এখানে আপনি আপনার ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবেন।
বেকারত্ব বা লেখাপড়া কমপ্লিট হচ্ছে না- এসবে হতাশ না হয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন। পেশাদার ফ্রিল্যান্সার হতে হলে যে বিষয়গুলো আপনাকে বিবেচনা করতে হবে-
ধৈর্যের বিকল্প নেই
ফ্রিল্যান্সিং সবার জন্য নয়। খুব কম মানুষই এর জন্য উপযুক্ত। দেখা যায়, অনেকে এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করেন, আবার অনেকে সারা মাস পরিশ্রম করে ২০ হাজার টাকাও আয় করতে পারেন না। একজন ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই সঙ্কল্পিত, উৎসাহী এবং ধৈর্যশীল হতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সময় সংকল্প, উৎসাহী এবং ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। খুব কমসংখ্যক মানুষই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন। আপনি যদি স্ব-প্রণোদিত হন এবং কোনো কাজ গুরুত্বসহকারে শুরু করার ক্ষমতা আপনার থাকে, তবে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য একটি আদর্শ কাজ হতে পারে। আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উত্থান ও পতন থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। এর সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা আপনার মধ্যে থাকতে হবে।
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার সময় আপনি সুসময় ও দুঃসময় উভয়েরই মুখোমুখি হবেন। আপনি যখন ভালো সময় পার করবেন, তখন আপনি চমৎকার ক্লায়েন্টের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো প্রকল্পের কাজ পেতে পারেন। আবার ভালো কাজের ফলস্বরূপ আপনি বোনাসও পেতে পারেন। তেমনি এমন অনেক সময় আসবে যখন আপনার কাছে কোনো কাজ আসবে না বা আপনার অর্জিত টাকা পেতে দেরি হবে। এমন অবস্থায় আপনাকে টিকে থাকতে হবে।
নিজের পারদর্শিতা খুঁজে বের করুন
প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো বিষয়ে বিশেষভাবে পারদর্শী। আপনি কোন কোন বিষয়ে পারদর্শী, সেটা আপনার থেকে অন্য কেউ ভালো জানে না। আপনি যদি আপনার পারদর্শিতার কথাগুলো প্রচার করতে পারেন, তবে আপনার কাজের কোনো অভাব হবে না। কেননা বর্তমানে অনলাইনে এজেন্সিগুলো বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী লোকগুলোকে ভাড়া করার মাধ্যমে তাদের কাজ করিয়ে নেয়। এ জন্য আপনি যেটা করতে পারেন তা হলো- কোন বিষয়ে আপনি বেশি অভিজ্ঞ, কোন বিষয়ে আপনি বেশি পারদর্শী সেটা খুঁজে বের করা।
আপনার দক্ষতা বাড়াতে নিজের কাছে নিজেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। খুঁজে বের করুন কোন বিষয়গুলো আপনাকে শিখতে হবে। সেই বিষয়গুলো শেখার জন্য সেরা পন্থা অবলম্বন করুন। আপনি চাইলে অনলাইন থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন। কাজ নিয়ে কখনো গড়িমসি করবেন না। কেননা ফ্রিল্যান্সিং করার সময় আপনার কাজ দেখভাল করার জন্য কোনো বস থাকবে না।
আপনার পারদর্শিতার বিষয়টি খুঁজে বের করার পর আপনি সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।
যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং বাড়ান
একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত সফল হবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ আপনাকে পুনরায় কাজের জন্য ডাক না দেয়। এ জন্য যে বা যারা আপনাকে এর আগে কাজ দিয়েছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ভালো পরিমাণ আয় করার মূলমন্ত্র হচ্ছে- বিভিন্ন ক্লায়েন্ট এবং বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা। আপনি যদি তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখতে পারেন, তবে আপনি বিভিন্ন ধরনের কাজ পাবেন।
লিঙ্কডইন প্রোফাইলে আপনার দক্ষতার কথাগুলো লিখুন এবং আলোচনা করতে থাকুন। এর মাধ্যমে সবাই আপনার দক্ষতার কথা জানতে পারবে এবং আপনাকে দিয়ে কাজ করাতে ইচ্ছা পোষণ করবে। এভাবে আপনি প্রচুর পরিমাণ কাজ পাবেন এবং আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের উন্নতি করতে পারবেন। আপনার এলাকায় যদি অন্য কোনো ফ্রিল্যান্সার থেকে থাকে, তবে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি যারা তাদের কাজে নিয়ে থাকে, সেসব নিয়োগদাতাদের চেনার চেষ্টা করুন।
এ ছাড়া আপনি ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার অনেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটবে এবং আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
তারেক