ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্পেনকে হারাতে ইয়ামালকে থামানোই মূল লক্ষ্য: রাঙ্গনিক মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন রোটারী ক্লাব অব সোনারগাঁও ঢাকার সভাপতি নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও থেকে নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার গরীব ছাত্রের জন্য বরাদ্দ সাইকেল নাতিকে উপহার দিলেন জামায়াত নেতা ঈশ্বরদীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৬১ লেখক-সাংবাদিক এম দিলদার উদ্দিন আর নেই জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্বকাপে লাল কার্ডের আপিলের সুযোগ নেই, বাড়তে পারে শাস্তি শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ সংবাদ সম্মেলনেই বাবার মৃত্যুর খবর পেলেন কঙ্গো কোচ দেসাব্রে উচ্চতা নিয়ে উদ্বিগ্ন টুখেল রূপগঞ্জে তৌহিদী জনতার ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাঙামাটিতে ইয়াবাসহ সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য গ্রেপ্তার সরকার রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিদ্যুৎসংকটে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন: ইয়াও ওয়েন চট্টগ্রাম ওয়াসায় খুলেছে পদোন্নতির জট কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় যুবক নিহত তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা টানা দুই দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম নোয়াখালীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পড়ে পাওয়া গল্পের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ অপু গ্রুপের প্রধান গ্রেপ্তার ল্যামিনের আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ স্পেন কোচ ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আজ ফুটবল আসলেই এক নির্মম খেলা: সেনেগাল কোচ আইফোনে কাস্টম অ্যালার্ম টোন মাদারীপুরে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

বাজার থেকে কেনা প্লাষ্টিকের কৌটায় শিশুদের চিকিৎসা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
বাজার থেকে কেনা প্লাষ্টিকের কৌটায় শিশুদের চিকিৎসা
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটে প্লাস্টিকের কৌটা ব্যবহার করে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

পাঁচ মাস বয়সী ফাইজাকে ভর্তি করা হয়েছে ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে। তার প্রয়োজন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও অক্সিজেন হুড। তবে সরঞ্জামের অভাবে শিশুটির মাথায় পরানো হয়েছে বাজার থেকে কেনা প্লাস্টিকের কৌটা। সেই কৌটার ছিদ্র দিয়েই তাকে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। সন্তানের দিকে তাকিয়ে মা ভাবছেন, এভাবে তার সন্তানকে সুস্থ করা যাবে কি না। এটি কেবল ফাইজার একার চিত্র নয়, বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে এখন এভাবেই চিকিৎসা চলছে।
 
হাসপাতালের শিশু বিভাগে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৪০টি। গতকাল বুধবার পর্যন্ত সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৪৫ জন। বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে বিভাগটিতে প্রয়োজন অন্তত ১১ জন চিকিৎসক। কিন্তু সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র আটজন। এর মধ্যে আবার চারজন বদলির আবেদন করে রেখেছেন। হাসপাতালের সামগ্রিক চিত্রও ভয়াবহ। ১০০০ শয্যার এ হাসপাতালটি চলছে মাত্র ৫০০ শয্যার জনবল দিয়ে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রায় ৫৯ শতাংশ পদই শূন্য। ২৪৮টি বিশেষজ্ঞ পদের মধ্যে ১৪৬টিই খালি পড়ে আছে।
 
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামো ঘাটতিও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। শিশু বিভাগের অধীন স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটে (এসএনসিইউ) পর্যাপ্ত অক্সিজেন হুড নেই। বিকল্প হিসেবে বাজার থেকে আনা প্লাস্টিকের কৌটা ব্যবহার করে নবজাতকদের অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
 
গত সোমবার দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। একেকটি বেডে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে দুই থেকে চারজন শিশুকে। যাদের বেড জোটেনি, তাদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের ওয়ার্ডের স্যাঁতসেঁতে মেঝে কিংবা বারান্দা ফ্লোরে। সম্প্রতি হাম, নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেষ একদিনে শুধু হাম আক্রান্ত শিশুই ভর্তি হয়েছে ৪২ জন।
 
হাসপাতালে ভর্তি ফাইজার মা নাম প্রকাশ না করে জানান, তার সন্তানের আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু সুবিধা না থাকায় প্লাস্টিকের কৌটায় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে বাঁচাতে চাই, কিন্তু কীভাবে বাঁচবে জানি না।’ একই ওয়ার্ডে মেঝেতে চিকিৎসাধীন আবদুল্লাহর মা বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী দুজনই দিনমজুর। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এখানে আল্লাহ ও ডাক্তারদের ওপর ভরসা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
 
চিকিৎসকরা জানান, অক্সিজেন হুড নবজাতকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক চিকিৎসা সরঞ্জাম। এ যন্ত্রটি শিশুর শরীরের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে। হাসপাতালে অক্সিজেন হুড না থাকায় বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক কৌটা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিরাপদ বলা যায় না।
 
শিশু বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে শয্যা ৪০টি হলেও প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৪০ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।  একজন চিকিৎসককে একসঙ্গে অনেক রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট তো রয়েছেই। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
 
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, সে অনুযায়ী চিকিৎসক ও সরঞ্জাম বাড়েনি। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বলতে হয়, হাসপাতালটি আল্লাহর ওপর ভরসা করে চলছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবাই অভিযোগ করেন, কিন্তু জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না।’

তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা
ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হলো স্তনের ফাইব্রাস ও গ্রন্থিযুক্ত টিস্যুর অস্বাভাবিক কিন্তু নিরাপদ বৃদ্ধি।

স্তনে কোনো ছোট চাকা বা গাঁট অনুভব করলেই যেকোনো নারীর মনে প্রথম যে ভয়টি জাগে, তা হলো ক্যানসার। তবে আশার কথা হলো, স্তনের সব চাকা বা টিউমার ক্যানসার নয়। স্তনের অত্যন্ত সাধারণ এবং সম্পূর্ণ অ-ক্যানসারজনিত (Benign) একটি টিউমারের নাম ‘ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা’। সাধারণত এটি ক্ষতিকর নয় এবং সঠিক সময়ে সচেতন হলে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণী ও কিশোরীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা কী এবং কেন হয়?

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হলো মূলত স্তনের ফাইব্রাস (তুনাযুক্ত) ও গ্রন্থিযুক্ত টিস্যুর একটি অস্বাভাবিক কিন্তু নিরাপদ বৃদ্ধি। এটি কোনো ক্যানসার নয় এবং সাধারণত ক্যানসারে রূপান্তরিতও হয় না। এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানে অজানা, তবে হরমোনের তারতম্য (বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোন) এর জন্য প্রধানত দায়ী বলে মনে করা হয়। নারীদের প্রজননক্ষম বয়সে হরমোনের আধিক্যের কারণে এটি বেশি দেখা যায়। ফলে গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এর আকার বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় এটি আকারে ছোট হয়ে যেতে পারে।

কাদের এই সমস্যা বেশি হয়?

সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণী ও কিশোরীদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। কিশোরীদের স্তনে কোনো চাকা দেখা দিলে তার সিংহভাগই ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা। মেনোপজের পর অর্থাৎ বয়স বাড়লে এই টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

 

লক্ষণ ও উপসর্গ

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমার কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা হাত দিয়ে স্পর্শ করলেই খুব সহজে অনুমান করা যায়—
স্তনে একটি গোল বা ডিম্বাকৃতির সুনির্দিষ্ট সীমানাযুক্ত চাকা অনুভব করা।
এটি স্পর্শ করলে বেশ শক্ত কিন্তু কিছুটা রবারের মতো নরম ও মসৃণ অনুভূত হয়।
সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, হাত দিয়ে চাপ দিলে এটি স্তনের ভেতর সহজেই একস্থান থেকে অন্যস্থানে নড়াচড়া করে। এই নড়নশীলতার কারণে চিকিৎসাশাস্ত্রে একে রসিকতা করে ‘Breast Mouse’ বা ‘স্তনের ইঁদুর’ বলা হয়ে থাকে।
এটি সাধারণত সম্পূর্ণ ব্যথাহীন হয় এবং এক বা একাধিক হতে পারে।

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমার প্রকারভেদ

গঠন ও আকারের ওপর ভিত্তি করে এটি চার ধরনের হতে পারে–
Simple (সাধারণ): এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এতে ক্যানসারের কোনো ঝুঁকি থাকে না।
Complex (জটিল): এর ভেতরে ছোট সিস্ট বা ক্যালসিফিকেশন থাকতে পারে।
Giant (বিশাল): আকার ৫ সেন্টিমিটারের বেশি হলে একে জায়ান্ট বলা হয়।
Juvenile (কৈশোরকালীন): কিশোরীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

স্তনে চাকা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা (Physical Examination), তরুণীদের জন্য স্তনের আল্ট্রাসাউন্ড এবং বয়স ৪০-এর বেশি হলে ম্যামোগ্রাফি করার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়। কোনো সন্দেহ থাকলে সুঁই ফুটিয়ে টিস্যু পরীক্ষা বা বায়োপসি করা হতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত তিনভাবে করা হয়—
পর্যবেক্ষণ: টিউমারটি আকারে ছোট এবং কোনো উপসর্গ না থাকলে কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ডাক্তারের ফলো-আপে থাকাই যথেষ্ট। অনেক সময় এটি নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।
অস্ত্রোপচার: চাকাটি আকারে বড় হলে, দ্রুত বৃদ্ধি পেলে, ব্যথা বা অস্বস্তি তৈরি করলে অথবা কসমেটিক কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়।
আধুনিক পদ্ধতি: বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই ভ্যাকুয়াম-সহায়ক পদ্ধতির (Vacuum-assisted excision) মাধ্যমে এটি অপসারণ করা সম্ভব।

রোগীর সচেতনতা ও শেষ কথা

ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা নিয়ে প্যানিক বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এর পূর্বাভাস অত্যন্ত চমৎকার এবং ক্যানসারে রূপান্তরের হার খুবই বিরল। তবে প্রত্যেক নারীর উচিত প্রতি মাসে নিয়মিত নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা। যদি স্তনে নতুন কোনো চাকা দেখা যায়, চামড়ার রং পরিবর্তন হয় বা বোঁটা থেকে রক্ত কিংবা পুঁজ নিঃসৃত হয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

লেখিকা: সহকারী অধ্যাপক, জেনারেল অ্যান্ড কলোরেক্টাল সার্জন, চেম্বার আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

প্রস্রাবে ফেনা হওয়াকে অবহেলা নয়

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
প্রস্রাবে ফেনা হওয়াকে অবহেলা নয়
প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া।

প্রস্রাবের কারণে দেহের ভেতরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়। এতে যেমন বর্জ্য পদার্থ দেহ হতে বের হয়, তেমনি অনেক রোগের নীরব বার্তাও প্রদান করে। প্রস্রাব নিঃসরণে ফেনা দেখা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ফেনা কখনো কখনো কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও ধরা হয়। প্রস্রাব নিঃসরণের পর জমা প্রস্রাবের ওপর সাদা, ঘন ও স্থায়ী বুদবুদ দেখা যায়। একে আমরা ফেনা বলি। সাধারণত স্বাভাবিক প্রস্রাবেও অল্প সময়ের জন্য ফেনা দেখা যায়। যদি ফেনা বারবার হয় এবং অনেকক্ষণ স্থায়ী হয়, তা কিডনি রোগের সংকেত হিসেবে ধরা যায়।

সাধারণ কারণ

• দ্রুত বা জোরে প্রস্রাব বের হলে পানিতে বাতাস মিশে ফেনা তৈরি হয়, যা অল্প সময়েই মিলিয়ে যায়।
• সারা রাত জমে থাকা প্রস্রাব নিঃসরণের পর সামান্য ফেনা দেখা দিতে পারে।
• শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়। ঘন প্রস্রাব হলে ফেনা দেখা দিতে পারে।
• টয়লেটে জমে থাকা সাবান বা ডিটারজেন্টের ফলেও ফেনা তৈরি হতে পারে।

প্রধান রোগজনিত কারণ

• প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া। কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাব বের করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে রাখে। কোনো কারণে কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে। আর এ প্রোটিনের কারণে প্রস্রাব ঘন, সাবানের মতো ফেনা তৈরি হয়– যা কিডনি রোগের প্রধান কারণ।
• কিডনির ছাঁকনিতে প্রদাহ হলেও ফেনা তৈরি হয়। কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হয় এবং শরীর ফুলে যায়।
• নেফ্রোটিক সিনড্রোম রোগের কারণেও প্রস্রাবে ফেনা হয়।
• প্রস্রাবের প্রদাহের ফলে ফেনা, দুর্গন্ধময় প্রস্রাব, জ্বালা ও জ্বর দেখা দিতে পারে।
• অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালি নষ্ট করে। শুরুতে লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে ফেনা ও প্রোটিন দেখা দেয়। আমাদের দেশে কিডনি বিকলের প্রধান কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকে ধরা হয়।
• উচ্চ রক্তচাপ নীরবে কিডনির রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা কমে যায়। প্রস্রাবে প্রোটিন বের হয় এবং ফেনা দেখা দেয়।
• পুরুষদের ক্ষেত্রে রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন বা বীর্যজনিত সমস্যার কারণে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়।

 

কখন ঝুঁকিপূর্ণ?

প্রস্রাবে প্রতিদিন ফেনা হয়, সাদা, ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। চোখ, মুখ, পা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি। খাবারে অরুচি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয়

• প্রস্রাবের আরই প্রোটিন অ্যালবুমিন, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, অ্যালবুমিন ক্রিয়েটিনিন রেশিও।
• ইজিএফআর
• রক্তচাপ মাপা, রক্তে শর্করা পরীক্ষা
• ইউরিন এসিআর

করণীয়

পর্যাপ্ত পানি পান করা। অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া কমানো। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা। নিয়মিত ব্যায়াম করা। প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে না রাখা। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত চিকিৎসা করানো। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং শরীর হঠাৎ ফুলে গেলে, প্রস্রাব বন্ধ হলে, ফেনার  সঙ্গে তলপেটে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত হলে ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ফেনা দেখা দিলে অতিদ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

লেখক: চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

বিড়াল যদি কামড়ে দেয়

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
বিড়াল যদি কামড়ে দেয়
বিড়াল কামড় দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বিড়ালের কামড় বিপজ্জনক এবং এতে ত্বকের গভীরে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। যেহেতু বিড়ালের দাঁত খুব ধারালো ও সূক্ষ্ম, তাই এগুলো সুচের মতো কাজ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। অর্ধেকেরও বেশি বিড়ালের কামড়ে সংক্রমণ হয়।

তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসার পদক্ষেপ

১. ভালোভাবে ধুয়ে নিন: উষ্ণ, চলমান জলের নিচে মৃদু সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি কমপক্ষে ৫ মিনিট ধরে ধুয়ে ফেলুন।
২. রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করুন: একটি পরিষ্কার, শুকনো কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে সরাসরি ও দৃঢ়ভাবে চাপ দিয়ে রক্ত বন্ধে পদক্ষেপ নিন।
৩. ব্যান্ডেজ: সম্ভব হলে একটি জীবাণুমুক্ত ও আঠালো নয় এমন ড্রেসিং দিয়ে ক্ষতস্থানটি ঢেকে দিন।

 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিড়ালের কামড়ের জন্য গভীর টিস্যু বা জয়েন্টের সংক্রমণ রোধ করতে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জোরালোভাবে বাঞ্ছনীয়–
১. কামড়ে চামড়া ছিঁড়ে গেছে (ছিদ্রজনিত ক্ষত)।
২. কামড়টি হাত, পা, মুখ বা কোনো অস্থিসন্ধির কাছাকাছি হলে ।
৩. কামড়টি একটি ভবঘুরে বা বন্য বিড়ালের।
৪. আপনি গত ৫-১০ বছরে টিটেনাসের টিকা নেননি।
৫. বিড়ালটি আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল অথবা জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখাচ্ছিল (যেমন- মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া, বিনা উসকানিতে আক্রমণ)।

সংক্রমণের সতর্কীকরণ লক্ষণ

পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কামড়ের স্থানে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন–
১. ক্ষতের চারপাশে লালচে ভাব, ফোলা ভাব বা উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া।
২. কামড়ের স্থান থেকে পুঁজ বা তরল বের হওয়া।
৩. কামড়ের স্থান থেকে লাল দাগগুলো বাইরের দিকে চলে যাওয়া।
৪. জ্বর বা শরীরে ব্যথা।

প্রতিরোধ

বিড়ালের কামড় প্রতিরোধ করা যায়–
১. বিড়াল থেকে দূরে থাকা।
২. শিশুদের বিড়াল অথবা অন্য পশু থেকে দূরে রাখা।
৩. অপরিচিত বিড়ালকে সাবধানতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা।
৪.পরিচিত বিড়ালকেও সাবধানতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা।
৫. বিড়াল এবং বিড়ালছানার সঙ্গে খুব এলোমেলোভাবে খেলা না করা।

লেখক: কনসালন্ট্যাট, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা 

বিশ্ব শ্বেতী দিবস ২০২৬ শ্বেতী রোগে প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
শ্বেতী রোগে প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা
শ্বেতী রোগ বা ধবল রোগ হলো ত্বকের একটি অটোইমিউন সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা।

আজ ২৫ জুন বিশ্ব শ্বেতী দিবস। বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্বেতী বা ভিটিলিগো সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং সঠিক চিকিৎসা বিষয়ে মানুষকে অবহিত করা।
শ্বেতী একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগ, যেখানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাদা দাগ বা ছোপ দেখা যায়। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না। তবু অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ভুল ধারণার কারণে অনেক রোগী সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হন এবং মানসিক কষ্টে ভোগেন।
এই রোগে ত্বকের রং তৈরিকারী মেলানোসাইট কোষ ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে মেলানিন উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ ধীরে ধীরে সাদা হয়ে যায়।

শ্বেতী রোগ কী?

শ্বেতী রোগ বা ধবল রোগ হলো ত্বকের একটি অটোইমিউন সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের মেলানোসাইট কোষকে আক্রমণ করে। এই কোষগুলো ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বকের কিছু অংশ রং হারিয়ে ফেলে। শ্বেতী সাধারণত যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিসংখ্যান

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা যায়, শ্বেতী রোগ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ত্বকের সমস্যা। আনুমানিকভাবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৩ থেকে ০.৭ শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত। এ রোগে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় সমান। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০-১৮ বছর বয়সে শুরু হওয়ার প্রবণতা বেশি। 

বৈশ্বিক তথ্য
• বিশ্বে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষ শ্বেতী রোগে আক্রান্ত
• সব বর্ণ, জাতি ও অঞ্চলে রোগটি দেখা যায়
• দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক হার কিছুটা বেশি

শ্বেতী রোগের কারণ

শ্বেতীর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে–
• অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া (শরীর নিজের কোষকে আক্রমণ করে)
• বংশগত বা জিনগত প্রভাব
• দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
• ত্বকে আঘাত বা ঘর্ষণ
• কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ
• থাইরয়েডসহ অন্যান্য অটোইমিউন রোগ

 

শ্বেতী প্রাণঘাতী রোগ নয়।

 

লক্ষণ ও উপসর্গ

শ্বেতীর প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকে দুধ-সাদা দাগ দেখা দেওয়া। সাধারণত মুখ, ঠোঁট, চোখের চারপাশে দাগ থাকে। পাশাপাশি হাত, আঙুল, কনুই, হাঁটু ও পায়েও ছড়িয়ে পড়ে। 

অন্যান্য লক্ষণ

দাগ ধীরে ধীরে বড় হওয়া, নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়া, চুল, ভ্রু বা দাড়ি সাদা হয়ে যাওয়া। এসব দাগে সাধারণত ব্যথা বা চুলকানি থাকে না।

শ্বেতী রোগের প্রকারভেদ

১. ফোকাল ভিটিলিগো: শরীরের এক বা কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ দাগ।
২. সেগমেন্টাল ভিটিলিগো: শরীরের একপাশে বা নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে।
৩. অ্যাক্রোফেসিয়াল ভিটিলিগো: হাত-পা, আঙুল, ঠোঁট ও মুখে বেশি দেখা যায়।
৪. ভিটিলিগো ভালগারিস: সবচেয়ে সাধারণ ধরন, শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
৫. ইউনিভার্সাল ভিটিলিগো: বিরল ধরনের, যেখানে শরীরের অধিকাংশ ত্বক রং হারায়।

রোগ নির্ণয়

শ্বেতী নির্ণয়ে সাধারণত ত্বকের পর্যবেক্ষণ, উডস ল্যাম্প পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষা (থাইরয়েডসহ) করা হয়। প্রয়োজনে বায়োপসি করা হতে পারে।

জটিলতা

শ্বেতী প্রাণঘাতী রোগ নয়, তবে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া। এ ছাড়া মানসিক চাপ ও হতাশা, সামাজিক সংকোচ, সূর্যের আলোয় ত্বক সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যান্য অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

ঘরোয়া ও দৈনন্দিন করণীয়

• সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
• অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা
• ত্বককে আঘাত থেকে রক্ষা করা
• সুষম খাদ্য গ্রহণ
• পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক শান্তি বজায় রাখা
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ ব্যবহার না করা

সামাজিক সচেতনতা

শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং এটি কুষ্ঠ রোগও নয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবহেলা করা বা আলাদা করে দেখা উচিত নয়। সচেতনতা, মানবিক আচরণ এবং সঠিক তথ্য রোগীর জীবনকে সহজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, শ্বেতী একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগ হলেও প্রাণঘাতী কোনো রোগ নয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, সচেতনতা এবং সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

সাতক্ষীরায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
সাতক্ষীরায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরা পৌরসভার কামালনগর মালেকপাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। 

বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) ও সাতক্ষীরা এসডি হসপিটালের যৌথ উদ্যোগে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

এই মানবিক কর্মসূচির মিডিয়া পার্টনার দৈনিক খবরের কাগজ।

​দিনব্যাপী পরিচালিত এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে নারী-শিশুসহ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের পাশাপাশি পুষ্টি পরামর্শ দেওয়া হয়।

ক্যাম্পে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন সাতক্ষীরা এসডি হাসপাতালের আরএমও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপন কুমার।

​বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ অভিঘাতে এসব নিম্ন আয়ের মানুষ গ্রাম থেকে সবকিছু হারিয়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। শহরে এসেও তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নগরের নানা সংকটের মধ্যে তাপপ্রবাহ বস্তিবাসী মানুষের জীবন এবং জীবিকাতে ভীষণভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। একই সঙ্গে এই তাপপ্রবাহের কারণে তারা নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তারা দরিদ্র থেকে দারিদ্র্যের প্রান্তসীমায় পৌঁছে যাচ্ছেন। এই সংকটের মুহূর্তে ‘খবরের কাগজ’ মিডিয়া পার্টনার হিসেবে এগিয়ে আসায় এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ও প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

​ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আনোয়ারা খাতুন বলেন, আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। তারা ঠিকমত ডাক্তার দেখাতে পারেন না। বিশেষ করে মহিলারা রোগাক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে ডাক্তার দেখান না। আয়োজকদের এই উদ্যোগ আমাদের অনেক উপকারে আসবে।

​ক্যাম্প পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা করেন এসডি হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট মুজাহিদুল ইসলাম, বারসিকের যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের ফরিদ গাজী, সদস্য রাফিদ রাহী, মাসুদ হাসান প্রমুখ।

নাজমুল/খাদিজা রুমি/