ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আলাস্কার পাগল স্ল্যাকে১ ফুটবল খেলা চলছে টেড হিউজ ও মিরোস্লাভ হোলুবের কবিতা কৌতুকপ্রিয়তা আর সমাজ-নিরীক্ষণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করবে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গ্রামে আমাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পদ্মার নৌকাভ্রমণ খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া দেশে বন্যা হতে পারে জুলাই-আগস্টে: এফএফডব্লিউসি ‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ রস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুই জনের মৃত্যু ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আশায় দীপ্যমান শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

ভারতে পাঁচ রাজ্যে বাজি ফেটে কয়েক শ শিশু আহত

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০২ এএম
ভারতে পাঁচ রাজ্যে বাজি ফেটে কয়েক শ শিশু আহত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পাঁচ রাজ্যের অন্তত কয়েক শ শিশু-কিশোর দীপাবলির সময় নতুন ধরনের এক বাজি ফাটাতে গিয়ে চোখে আঘাত পেয়েছে। ‘কার্বাইড গান’ নামের ওই নতুন বাজিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এ কারণে শিশু-কিশোরদের সেটিকে ঘিরে তৈরি হয় আগ্রহ। কিন্তু কিনে আনার পর বাজিটি ফাটাতে গিয়ে ঘটতে শুরু করে দুর্ঘটনা। আহত অনেকে চোখের দৃষ্টিও হারিয়েছে।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ঘরোয়াভাবে তৈরি ওই বাজিটি মূলত একটি পাইপের ভেতরে ভরে রাখা বিস্ফোরক। অনেক সময় দেরিতে ফাটছে সেটি। বাজি কেন ফাটছে না, সেটি দেখতে গিয়ে উৎসুক শিশু-কিশোররা পাইপের ভেতর উঁকি দিতে যাওয়ার ঘটনা থেকেই ঘটছে বিপত্তি। দেখা যাচ্ছে, তখন সশব্দে ফেটে যাচ্ছে বাজি।

বাজিটির ভেতরে ব্যবহার করা হয়েছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড। ওই উপাদানটির কেনাবেচা ভারতে নিয়ন্ত্রিত। তবে কৃষক ও দোকানিরা অনেক সময় কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর জন্য ওই রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকেন।

গত সপ্তাহে এত বেশি সংখ্যায় আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্তও ভারতের বেশির ভাগ মানুষই ওই উপাদানের নাম শোনেনি। বিবিসির খবর বলছে, মধ্য প্রদেশের শুধু ভোপালে ‘কার্বাইড গান’ ফেটে এক শরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের চোখে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। অন্য তিন জেলা থেকেও এক শর বেশি ঘটনা সামনে এসেছে।

বিহারের রাজধানী পাটনার রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অপথালমোলজির প্রধান ড. বিভূতি প্রসন্ন সিনহা জানান, বিহারে একই ধরনের বিস্ফোরণে ১৭০ জন আহত হয়েছে। ৪০ জনের চোখে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আহতদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। 

ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও  রাজধানী দিল্লিতেও একই ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি রাজ্য এরই মধ্যে ওই ‘কার্বাইড গান’ বাজি হিসেবে ব্যবহারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজন বিক্রেতাকেও। সূত্র: বিবিসি

খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়েছে। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) তার মরদেহটি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) সেখানে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। 

যুদ্ধের বহু হিসেব-নিকেশ শেষে ৪ মাস পর খামেনির জানাজা ও দাফনের আয়োজন করেছে তেহরান। আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে যার আনুষ্ঠানিকতা।

টানা ৬ দিন ধরে চলবে ঐতিহাসিক এই জানাজার আনুষ্ঠানিকতা। যার পদচিহ্ণ বহন করবে ৫টি শহর। তবে খামেনির জানাজার নামাজ কে পড়াবেন তা এখনও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। তার ছেলে মোজতবা খামেনির অংশগ্রহণ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

৪টি শহর ঘুরে জন্মস্থান মাশদাদে দাফনের জন্য আনা হবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ। যেখানে ইমাম রেজার মাজারের পাশে সমাহিত করা হবে তাকে।

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দেবেন হাজারো মানুষ। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশসহ অন্তত ৩০টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও ৯০টি দেশের ধর্মীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, খামেনির জানাজা ও দাফনে দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

অন্তরা/

৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
প্রতীকী ছবি

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভূমিকম্পের এ ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর মালুকু প্রদেশের তোবেলো শহরের ৫৮ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১২০ কিলোমিটার।

উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ১১৪ কিলোমিটার দূরের তেরনাতে শহরের বাসিন্দা উমর আব্বাস এএফপিকে বলেন, ‘আমি রাস্তার পাশের একটি কফির দোকানে বসে কফি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার চেয়ার দুলতে শুরু করে। আগের ভূমিকম্পগুলোর আতঙ্ক এখনও কাটেনি। তাই মুহূর্তের জন্য আমি ভীষণ ভয় পেয়ে যাই।’

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) জানায়, এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এ অঞ্চলটি তীব্র ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সূত্র: এএফপি

সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে বাংলাদেশসহ ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং ৩০টিরও বেশি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যোগ দেবেন। কয়েক দিনব্যাপী এই চিরবিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানজুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার ডন নিউজ, প্রেস টিভি ও তাসনিম নিউজসহ একাধিক ইরানি সংবাদসংস্থা এ কথা জানিয়েছে। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, খামেনির জানাজাকে সামনে রেখে ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের সীমান্তজুড়ে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়িয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির আকাশসীমার ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি রাখছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আলি খামেনির চিরবিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সম্পাদক আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া এবং কিউবাসহ ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাতে আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রয়াত নেতার বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

শেষ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান তেহরান, কোম, মাশহাদ এবং প্রতিবেশী ইরাকে অনুষ্ঠিত হবে। তেহরান, কোম ও খোরাসান রাজাভি প্রদেশে প্রাদেশিক সমন্বয় কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। বাগদাদ অথবা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার আয়োজন শেষে নাজাফ ও কারবালার পবিত্র শহরে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এর পরদিন ৯ জুলাই পবিত্র নগরী মাশহাদে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। সেখানে ইমাম রেজার মাজারের পাশে আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করার কথা রয়েছে।

ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি ৮৬ বছর বয়সে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসী যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত হন। 
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমও খামেনির জানাজায় অংশ নিতে গতকাল সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হন।

ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের
ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের নিয়মিত আয়ের একমাত্র উৎস ছিল মাসে ১১৩ ডলারের সেনা পেনশন। পরে তিনি লিখেছিলেন, প্রেসিডেন্টের পদমর্যাদা ও মর্যাদাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কয়েক দশক পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে নিজের বিনিয়োগ ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্টে’ দিয়েছিলেন, যেন দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের প্রশ্ন না ওঠে। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারা থেকে একেবারেই ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। ইতিহাসবিদদের মতে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রে এমন নজির আগে দেখা যায়নি। এটি প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলার দীর্ঘদিনের রীতিকেও ভেঙে দিয়েছে।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার সেন্টারের প্রেসিডেন্ট বিষয়ক ইতিহাসবিদ বারবারা পেরি বলেন, ‘এমন কোনো নজির নেই। প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে আমরা এর মতো কিছু কখনো দেখিনি।’ 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি। শুধু এই খাত থেকেই তিনি প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে ‘ডলার চিহ্ন খচিত ট্রাম্প’ মিম কয়েনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেলিব্রেশন কয়েনস থেকে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন। এ ছাড়া তার দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের সহপ্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ব্যবসা থেকে ৫০ কোটির বেশি ডলার আয় দেখিয়েছেন।

ট্রাম্পের ২০২৫ সালের এই আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ। ২০২৪ সালে তিনি ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় দেখিয়েছিলেন।

এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টো ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাম্পের ফ্লোরিডার দুটি বিলাসবহুল রিসোর্ট মার-আ-লাগো ও ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরালও রেকর্ড আয় করেছে। মার-আ-লাগো থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি। আর ডোরাল থেকে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার।

পুনর্নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মার-আ-লাগোর সদস্যপদের ফি ১০ লাখ ডলারে উন্নীত করেন। গত বছরের শুরু থেকে তিনি সেখানে দুই ডজনের বেশিবার গেছেন। রিসোর্টটিতে বিদেশি অতিথিদের সংবর্ধনা, রিপাবলিকান পার্টির তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক আয়োজন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রেসিডেন্টের কাছে বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না। তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সব সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস গ্রান্টের আমলে সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিংয়ের সময় ঘটে টিপট ডোম কেলেঙ্কারি। তবে এসব ঘটনায় প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বে থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগ ওঠেনি।

আধুনিক সময়েও কয়েকজন প্রেসিডেন্টের স্বজনদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। জিমি কার্টারের ভাই একটি বিয়ার ব্র্যান্ডের প্রচার করেছিলেন। জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের একটি জ্বালানি কোম্পানি থেকে অর্থ আয় করেছিলেন। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এসব ঘটনার সঙ্গে ট্রাম্প ও তার পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান আয়ের তুলনা চলে না।

বারবারা পেরি বলেন, ‘দায়িত্বে থেকে বিপুল অর্থ আয় করা আইনবিরোধী না হলেও এটি নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। অতীতের বেশির ভাগ প্রেসিডেন্ট এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চেয়েছেন।’

প্রথম মেয়াদের আগে ট্রাম্প তার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ দুই ছেলের হাতে দিলেও অন্য প্রেসিডেন্টদের মতো সম্পদ ব্লাইন্ড ট্রাস্টে দেননি। দ্বিতীয় মেয়াদের আগেও একই ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়। ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বলেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমে যুক্ত নন।

তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্বে ফিরে ট্রাম্প এমন কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তার ব্যবসার জন্য লাভজনক হয়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। তিনি স্টেবলকয়েন-সমর্থিত একটি আইনে সই করেন। পরে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওকে ক্ষমাও করেন। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ তার ক্রিপ্টো ব্যবসার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সাবেক প্রধান হোয়াইট হাউস নৈতিকতা আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বিবিসিকে বলেন, ‘অবশ্যই এটি স্বার্থের সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, তাদের প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে থেকে এত বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন।’

অন্যদিকে গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি লাভ করছি কেন জানেন? কারণ শেয়ারবাজার বাড়ছে। সবাই লাভ বাড়ছে।’ তিনি দাবি করেন, তার অর্থ বিভিন্ন তহবিল পরিচালনা করে এবং পরিবারের ব্যবসার দৈনন্দিন সিদ্ধান্তে তিনি জড়িত নন। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল
আদালতের কাজে AI ব্যবহারে নিষেধ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ও অস্তিত্বহীন বিচারিক নজির উদ্ধৃত করে দেওয়া একটি রায়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। 

গতকাল বৃহস্পতিবার এসেল ইনফ্রাপ্রজেক্টস-এর দেউলিয়াত্ব সংক্রান্ত ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনালের (এনসিএলটি) একটি রায় বাতিল করার সময় শীর্ষ আদালত এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

অভিযোগ রয়েছে একটি মামলায় এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো কিছু দৃষ্টান্তের উপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছে এনসিএলটি। এ বিষয়ে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে, জানিয়ে দিয়েছেন শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণে  বলা হয়, এ মামলায় এমন কিছু নজিরের ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবে অস্তিত্বই নেই এবং এআই-সৃষ্ট ‘হ্যালুসিনেশন’-এর ফল। এ কারণে আদালত এনসিএলটির রায় বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। 

গুরুত্বপূর্ণ এ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে মানুষের নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আইনজীবী ও বিচারকদের পেশাগত দক্ষতা ও স্বাধীন বিচারবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, ‘এআইয়ের এ ভুয়া, অস্তিত্বহীন ও কল্পিত তথ্য তৈরি হওয়া এবং সেগুলোকে আইনি নজির হিসেবে ব্যবহার করা যা আইন ও বিচারব্যবস্থার ভেতরে মিথাইল আইসোসায়ানেট গ্যাস ছেড়ে দেওয়ার মতো। এটি অদৃশ্য, ধূর্ত ও ভয়াবহ। বিষয়টি ধরা পড়ার আগেই এটি শুধু বিচারব্যবস্থাকে দূষিতই করে না, বরং বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দেয়।’

এই  পর্যবেক্ষণে আরও জোর দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এআই বিচারিক কাজে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই তা মানুষের স্বাধীন বিচার-বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প হতে পারে না। বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্য ও নজির মানুষের মাধ্যমে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। সূত্র: এনডিটিভি