ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ এবং ট্রাম্পের হাসি ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১ ১৫ হাসপাতালে হেমাটোলজি মেশিন দিল 'ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' বন্যার্তদের পাশে তৌসিফ, দিলেন আর্থিক সহায়তা বদ্বীপ থেকে ডিজিটাল ক্যানভাস: বাংলাদেশি লোকশিল্পের রূপান্তর স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন বলা হয় ‘লা রোজা’? ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা? জাহিদ হাসানের ‘পথহারা মন’ ধোলাইখালে সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ ডাকসুর ভিপিসহ ছাত্রশিবির ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ৯ নেতা ফ্রান্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না? বন্যাদুর্গত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র কোকা-কোলা বাংলাদেশে ফ্রন্ট লাইন মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারে আইএমএফ সম্মত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তি হবে না: নৌপরিবহনমন্ত্রী ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির রোল মডেল হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন? শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার

সাক্ষ্য-জেরার ‘বেড়াজালে’ রায়হান হত্যার বিচার প্রক্রিয়া

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১১:২৪ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:২৯ এএম
সাক্ষ্য-জেরার ‘বেড়াজালে’ রায়হান হত্যার বিচার প্রক্রিয়া
নিহত রায়হান আহমদ

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩২) হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সাক্ষ্য নেওয়া ও জেরার বেড়াজালে পড়েছে। 

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নওশাদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার আসামিপক্ষ সাক্ষ্য দেওয়া সাক্ষীদের দফায় দফায় জেরা করার আবেদন করায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার মুখে পড়েছে মামলাটি।  

আজ (১১ অক্টোবর) আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে। তিন বছরে মামলার বিচারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাদী ও সরকারপক্ষের আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। 

২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ভোররাতে নগরের আখালিয়ার নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদ বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনের শিকার হন। রাত তিনটার দিকে রায়হানকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। সকাল ছয়টার দিকে রায়হানকে ফাঁড়ি থেকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হলে সাতটার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ হাজার টাকার জন্যে ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য রায়হানকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়। 

মামলার পরপরই এসআই আকবরসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নজরদারিতে রাখা হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী দুজন পুলিশ আদালতে জবানবন্দি দিলে এসআই আকবরসহ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপরই এসআই আকবর পালিয়ে ভারত চলে যান।

ঘটনার ২৮ দিন পর ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়াদের হাতে আটক হন আকবর। পরে তাকে বিজিবির মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। 

মামলাটি পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

অভিযোগপত্রে আকবর হোসেন ভূঁইয়া (৩২), বরখাস্ত এসআই হাসান উদ্দিন (৩২), বরখাস্ত এএসআই আশেকে এলাহী (৪৩), বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), বরখাস্ত কনস্টেবল হারুন অর রশিদ (৩২) ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বড়দেও গ্রামের আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে বরখাস্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চারজন কারাবন্দি। একজন জামিনে মুক্ত। আসামি নোমান পালিয়ে বিদেশ চলে যান। 

বাদীপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে জানা গেছে, মামলার মোট ৬৯ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আসামি হারুন অর রশিদের আইনজীবী পুরাতন ২৭ সাক্ষীকে নতুন করে জেরা করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে জেরা হবে।  

নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, আকবরসহ আসামিরা পুলিশ সদস্য হওয়ায় নানা ছলচাতুরী চলছে। বিচার বিলম্বিত করতে আসামিপক্ষের চেষ্টা চলমান আছে। আলামত নষ্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ করেও আসামিরা জামিন পাচ্ছে। প্রধান আসামি আকবরও জামিন নিয়ে বেরিয়ে যেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আকবর জামিনে বের হলেই আবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে বিদেশ চলে যাবেন। এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমি বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত চাই।

পুরাতন সাক্ষীকে নতুন করে জেরা করা হলে মামলার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার শঙ্কা স্বাভাবিকভাবে তৈরি হবে বলে মনে করছেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নওশাদ আহমদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, পুরাতন সাত সাক্ষীর জেরা শেষে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ার কথা। এই সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্য নেওয়া সম্পন্ন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড
আলম মন্ডল। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে ৭ম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের মামলায় আলম মন্ডল (৫৫) নামে একজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমান এ রায় দেন।

আলম মন্ডল আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৩ বছর বয়সি ওই শিশু আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের স্থানীয় একটি মাদরাসায় ৭ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় মাদরাসা থেকে বাড়িতে এসে কাপড় পরিবর্তন করছিলেন ওই শিশু। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী আলম মন্ডল ওই শিশুকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে খাটের উপর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামি পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি পরিবারের সবাইকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরের দিন মেয়েটি অসুস্থ হলে তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে আক্কেলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত সোমবার এই রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিনাত ফেরদৌসী রিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদী খুশি। এমন রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যে কেউ অপরাধ করলে তার এমনই শাস্তি হবে।

সাগর কুমার/রিফাত/

২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা
হাইকোর্ট

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় কেউ পদত্যাগ করলে পেনশন বা অবসর-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের বিপরীতমুখী রায় বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, আইনসভা যৌক্তিক ও নীতিগত বিবেচনায় এমন বিধান করেছে যে, সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন বা অবসরজনিত কোনো সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। ফলে এ বিধান আইনসঙ্গত এবং কার্যকর।

মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

পরে ২০১৫ সালে চাকরির ১৯ বছর বিবেচনায় ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক পাওয়ার আবেদন করেন তিনি। তবে একই বছরের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং তা পেনশনের জন্য গণ্য করা যায় না। পাশাপাশি ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের আওতায় তিনি পেনশনের যোগ্য নন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ওই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তার পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ ও পরিশোধের নির্দেশ দেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী কর্মচারীরা পেনশন সুবিধা দাবি করতে পারবেন না- এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকায় দেশে ফেরামাত্রই গ্রেপ্তার করে তাকে জেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রবিবার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো তিনি নিজে নিজে আসার কোনো সুযোগ নেই। হয় প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।

আর শেখ হাসিনা (রয়টার্সে) যেটা বলছেন, তিনি এবং তার দলীয় নেতা-কর্মীরা একত্রে এসে আত্মসমর্পণ করবেন। এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তিনি তো এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনি তো স্বাধীন নেই অথবা তিনি আত্মগোপনে নেই।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয় তার বক্তব্য বাংলাদেশে তার নেতা-কর্মীদের কোনোভাবে একটু উজ্জীবিত রাখা কিংবা একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।’

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ-পরবর্তী আপিল প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সেকশন ২১-এর ৩ পরিষ্কার করে বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না। যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকায় তিনি প্রথমত জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয়, তা হবে।

জমির উদ্দিনের মৃত্যু: সুপ্রিম কোর্ট আধাবেলা বন্ধ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ এএম
জমির উদ্দিনের মৃত্যু: সুপ্রিম কোর্ট আধাবেলা বন্ধ
সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে রবিবার (১২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের 'কোর্টসমূহের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ থাকবে'। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী এবং সুপ্রীম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ ১২ জুলাই রবিবার ভোর ৪:১৯ ঘটিকায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।'

তার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতি নিজের, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের এবং রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, 'তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আজ (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগের কোর্টসমূহের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ থাকবে। একই সাথে আজ চেম্বার কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।'

মাহমুদুল আলম/এএফ

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে
চলার অনুরোধ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: খবরের কাগজ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে সব গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ অনুরোধ জানানো হয়।

তথ্য বিবরণীতে দেশের সব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধীর কোনো ধরনের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যাপারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। এমতাবস্থায় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার কোনো প্রকার ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য সরাসরি কিংবা ধারণকৃত অবস্থায় কোনো গণমাধ্যমে (টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক মাধ্যম) প্রচার বা প্রকাশ না করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকরা প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে তথ্য বিবরণীতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।