অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় জামিন পেয়েছেন বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) যথাযথ ঘোষণা করে জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ। শুনানিতে জি কে শামীমের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।
অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এ মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জি কে শামীম জামিনে থাকবেন। তবে অন্য একাধিক মামলায় জামিন না পাওয়ায় তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না।’ এদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।’
২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। এ মামলায় মা-ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি। ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত বছর ৯ জানুয়ারি ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ শেখ নাজমুল আলমের আদালতে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
অস্ত্র আইনের আরেক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জি কে শামীমকে গত ১৩ ডিসেম্বর জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে সেই জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এ ছাড়া গত বছর ১৭ জুলাই অর্থ পাচারের মামলায় জি কে শামীমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
চাঁদাবাজি ও টেন্ডার কারসাজির অভিযোগে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার কারসাজির অভিযোগে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করা হয়।
এমএ/