রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষিকার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তানকে যৌন হয়রানির মামলায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক রাজু আহমেদের আগাম জামিন বাতিল করেছেন আদালত। এ ছাড়া তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এমদাদুল হক রিপন এই নির্দেশ দেন।
আসামি রাজু আহমেদ রাবির উপপ্রধান চিকিৎসক। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী নগরীর তালাইমারির মেট্রো ডেন্টাল কেয়ারে প্রাইভেট চেম্বারে প্র্যাকটিস করেন। ওই প্রাইভেট চেম্বারে রাবির এক শিক্ষিকার মেয়েকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি রাজশাহী বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট দিল সেতারা বেগম চুনি। তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পরে ডা. রাজু আহমেদ হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে জামিন নিয়েছিলেন। নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার জামিন বাতিলের আবেদন করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জামিন বাতিল করে তাকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাজু আহমেদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন রাজশাহী বারের সভাপতি জাহিদ হোসেন।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে গত বছরের ৩০ অক্টোবর ডা. রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ডা. রাজুর ব্যক্তিগত চেম্বারে দাঁতের চিকিৎসা করানোর জন্য তার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে তিনি চেম্বার থেকে বের হলে ডা. রাজু তার মেয়েকে যৌন হয়রানি করেন।
ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে মানববন্ধন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ নভেম্বর ডা. রাজুকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাময়িক বহিষ্কার করে। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। অভিযোগ তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধবিষয়ক কমিটিকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির কাছে ২২ জন ডা. রাজুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত যৌন হয়রানির সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত সিন্ডিকেট মিটিংয়ে ডা. রাজুকে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।