মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না মর্মে নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। মাতৃগর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ সংক্রান্ত এই নীতিমালা হাইকোর্টে দাখিল করেছে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ইশরাত হাসান দৈনিক খবরের কাগজকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘এই নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি কোনো লেখা বা চিহ্ন বা অন্য কোনো উপায়ে মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করতে পারবে না।’
বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ নীতিমালা দাখিল করা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) অমিত দাশগুপ্ত। এই নীতিমালার ওপর শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য আছে।
প্রসঙ্গত, মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় রোধে নীতিমালা তৈরি করতে ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এতে অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় রোধে নীতিমালা বা নির্দেশনা তৈরি করতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণে নীতিমালা তৈরি করতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চান আদালত। ওই রুলের পর নীতিমালা তৈরির জন্য কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান রুল জারির পর বলেছিলেন, ভারতে আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা হলে প্রসূতি মায়ের মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক চাপে গর্ভপাত করার ঘটনাও ঘটে।
এমএ/