৩০ দিনের মধ্যে ৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট রুলে ৪৩তম বিসিএস থেকে ৬৪২ জনকে নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ৪৪তম বিসিএসের ফল প্রকাশ না করা পর্যন্ত যত নন-ক্যাডার শূন্যপদ হবে তার তালিকা করে ৪৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের থেকে নিয়োগের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তিনি জানান, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ক্যাডার পদে সুপারিশ না পাওয়া ৫০০ চাকরিপ্রার্থী গত ২৯ জানুয়ারি এ রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ আদেশ দিয়েছেন। রুলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পরে ওই বিসিএসে মোট ৯ হাজার ৮৪১ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পিএসসি ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নন-ক্যাডার পদে চাকরি করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের অনলাইনে পছন্দক্রম আহ্বান করে। এরপর গত ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিস পদে ২ হাজার ১৬৩ জনকে এবং একই সঙ্গে ৬৪২ জনকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়। অথচ নন-ক্যাডার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যেটি ‘নন-ক্যাডার’ পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০, সংশোধিত ‘বিধিমালা ২০১৪’-এর পরিপন্থী।
৪৩তম বিসিএস সার্কুলারে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে বঞ্চিত নন-ক্যাডার প্রার্থীদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০, সংশোধিত ‘বিধিমালা ২০১৪’ অনুযায়ী সুপারিশ করা হবে। ওই বিধি অনুযায়ী পিএসসি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আসা পদগুলোকে সংরক্ষণ করবে এবং পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের ধাপে ধাপে সুপারিশ করবে। কিন্তু পিএসসি নন-ক্যাডারদের মেধাতালিকা প্রকাশ না করেই সম্পূর্ণ অন্যায় এবং বিধিবহির্ভূতভাবে ৬৪২ জনকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করেছে, যা আইনের দৃষ্টিতে অন্যায়, এটি বাতিল করা আবশ্যক।