স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আইসিটি সেক্টরে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম শামসুন নাহার চাঁপা।
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিতে নারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই দেশ, সমাজ ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আইসিটিতে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষাব্যবস্থায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, গণিত, প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও চাহিদার কথা মনে রেখে তাদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।’
বুধবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের আয়োজনে ‘এমপাওয়ারিং গার্লস উইথ আইসিটি স্কিলস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে সাশ্রয়ী, টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতিতে অবশ্যই নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সে লক্ষ্যে জাতিসংঘের ৭৫তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেছেন ২০৪১ সালের মধ্যে শ্রমশক্তিতে নারী পুরুষের অংশগ্রহণ ৫০ : ৫০-এ উন্নীত করতে হবে। বৈশ্বিক জেন্ডার গ্যাপ ২০২৩-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জেন্ডার সমতা অর্জনে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিয়ের চাহিদা প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে; তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এই সেক্টরে আমাদের দেশের নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। নারীদের এই সেক্টরের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সমাজ এবং দেশের অগ্রগতির জন্যে নারীর কর্মক্ষম হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসার ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বিদ্যমান বাধাসমূহ দূর করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, শিল্প, ব্যবসাসহ সব খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। নারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।’
আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক তানিয়া হক। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ জাওয়াদ/ইসরাত চৈতী/অমিয়/