ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী

লোকোমোটিভ, ক্যারেজসংকট: ২৬৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেলওয়ে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
লোকোমোটিভ, ক্যারেজসংকট: ২৬৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেলওয়ে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন দেড় শতাধিক ট্রেন চলাচলের সূচি থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, তীব্র জনবলসংকট এবং যান্ত্রিক অচলাবস্থার কারণে পরিষেবাব্যবস্থা এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও ট্রেন ক্রু–চালক, সহকারী চালক ও গার্ডের অভাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬০০ ট্রেন বাতিল বা আংশিক চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে কেবল যাত্রী ভোগান্তিই বাড়ছে না, রাজস্ব আয়েও পড়েছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে কারখানা আধুনিকায়নের মাধ্যমে রেলব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ২৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের তথ্য বলছে, লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ (বগি) সংকটে প্রায়ই বিভিন্ন রুটের ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে লোকোমোটিভ ও জনবল সংকটের অজুহাতে ধারাবাহিকভাবে ১৬টি মেইল ও কমিউটার এবং ছয়টি লোকাল ট্রেন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা সড়কপথে যাতায়াত করছেন। যার ফলে সড়কপথের ওপর চাপ বেড়েছে এবং দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকিও বহু গুণ বেড়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ট্রেন সংকটের কারণে আন্তনগর ট্রেনগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ট্রেন বন্ধের ফলে স্থানীয়দের আন্দোলন ও জনপ্রতিনিধিদের চাপে আন্তনগর ট্রেনগুলোকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘপথের যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না এবং আন্তনগর ট্রেনের সেবার মান সাধারণ লোকাল ট্রেনের পর্যায়ে নেমে আসছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের মধ্যে ৬৯ শতাংশেরই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। ১ হাজার ২৬৭টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচের মধ্যে ৪৩ শতাংশের অবস্থাও একই। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অদূরদর্শিতার কারণেই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রেলের আধুনিকায়নে লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহে মহাপরিকল্পনা

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একযোগে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) মতো দাতা সংস্থার অর্থায়নে আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ সংগ্রহ এবং কারখানা আধুনিকায়নের মাধ্যমে রেলব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলের এসব রোলিং স্টক কেনাকাটায় ২৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয়ে বেশ কয়েকটি প্রকল্পও শুরু করতে যাচ্ছে রেলওয়ে। 

চীনের অনুদানে রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। এ প্রকল্পে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ৪৪ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৫৯১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। চীনের সরাসরি অনুদানে এই লোকোমোটিভগুলো শিগগিরই এসে পৌঁছাবে। জানা গেছে, এই লোকোমোটিভগুলোর ক্ষমতা কেমন হবে তার ওপর নির্ভর করবে চীনা প্রকল্প থেকে আরও কোনো রোলিং স্টক কেনা হবে কি না। কারণ চীনা লোকো ও ক্যারেজের নির্ধারিত অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ফুরানোর আগে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর আগে চীনা লোকো ও ক্যারেজ নিয়ে অসন্তুষ্টি রয়েছে রেলের প্রকৌশল বিভাগে। তাই রেলওয়ে এবার সতর্ক। 

অন্য এক প্রকল্পের আওতায় ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, ২টি ব্রডগেজ ও ২টি মিটারগেজ রিলিফ ক্রেন, ৪টি আন্ডারফ্লোর হুইল লেদ কেনা হবে। আন্ডারফ্লোর হুইল লেদ হলো একটি বিশেষায়িত যন্ত্র, যা দিয়ে চাকাগুলোকে ট্রেন থেকে আলাদা না করেই নিখুঁত ও মসৃণ আকারে মেরামত করা যায়। এ কেনাকাটায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৪২ কোটি টাকা আসবে সরকারের তহবিল থেকে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এই প্রকল্পে ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দেবে বলে জানা গেছে। 

আরেকটি প্রকল্পে ৩ হাজার ৯৭০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৫৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ ফান্ড থেকে ঋণসহায়তা পাওয়া যাবে। 

এই প্রকল্পের আওতায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪০টি ব্রডগেজ স্লিপার কার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৭০টি ব্রডগেজ চেয়ার কার, ১১০টি ব্রডগেজ শোভন চেয়ার কার, প্রার্থনা কক্ষ ও খাবার গাড়িসহ ২০টি ব্রডগেজ শোভন চেয়ার কার, লাগেজ ভ্যান ও গার্ড ব্রেকসহ ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্রডগেজ পাওয়ার কার কেনাকাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৭০ টাকা। এ প্রকল্পে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দেবে। 

সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংযোজন সুবিধাসহ আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ করার আরও একটি প্রকল্প রয়েছে রেলওয়ের পাইপলাইনে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ঋণসহায়তা চাইবে রেল। এই প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিদ্যমান অবকাঠামো আধুনিকায়নের পাশাপাশি ২৫টি ক্যারেজ অ্যাসেম্বলির সংস্থান, লোকোশেডের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের। এ প্রকল্পেও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ঋণসহায়তা চাইবে রেলওয়ে। 

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা বা কেলোকায় জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) স্টেশন স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পে ২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা ঋণসহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছে ঋণসহায়তা পায়। 

এ বছর ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের। ৬৪০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৫১২ কোটি টাকা অনুদান দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

৩ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ প্রকল্পে চীন বা দক্ষিণ কোরিয়ার ২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা ঋণসহায়তা থেকে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার। 

আরেকটি প্রকল্পে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ ফান্ড থেকে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ঋণসহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস মিলেছে। ইডিসিএফ অর্থায়নে আরও ৩০০ মিটারগেজ ক্যারেজ আনার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। 

রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন জানান, এ বছর এডিবির অর্থায়নে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এআইআইবির অর্থায়নে ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ কেনার পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসে ২০টি ক্যারেজ চলে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে রেল।

রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, রেলওয়ের মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদি। তাই ২০৫০ সালের আগে পুরো রেল নেটওয়ার্ক রূপান্তর করা সম্ভব নয়। তাই মিটারগেজ ট্রেন সচল রাখতে নতুন লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ফকির মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রধান করিডরগুলোর অনেক অংশ এখনো মিটারগেজে রয়েছে। টঙ্গী থেকে আখাউড়াসহ বিভিন্ন রুটের ডুয়েল বা ব্রডগেজ রূপান্তর করতে আগামী অন্তত ১০ বছর সময় প্রয়োজন। সব মিলিয়ে ২০৫০ সালের আগে পুরোপুরি মিটারগেজ রূপান্তর সম্ভব নয়। তাই ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মিটারগেজ লোকোমোটিভ প্রয়োজন।’

রেলওয়ে বর্তমানে তীব্র লোকোমোটিভ সংকটে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন ১১০টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও আছে মাত্র ৭০টির মতো। এর মধ্যে অনেকটিই পুরোনো। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত লোকোমোটিভ সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছে।’
চীনের কাছ থেকে ২০টি লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে পাওয়ার বিষয়ে রেলওয়ের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চীনের কাছ থেকে এই অনুদান পাওয়া গেলে আমাদের লোকোমোটিভ সংকট দ্রুত কাটবে। তারা এটি বিনা পয়সায় দিয়ে যদি পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণ করে, তবে তা আমাদের জন্য সুবিধাজনক।’

ভবিষ্যতে লোকোমোটিভ কেনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর রেলওয়ে নির্ভরশীল নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যারা যোগ্য এবং সাশ্রয়ী হবে, তাদের কাছ থেকেই রোলিং স্টক বা ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি।

বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির
ছবি: এআই

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষায়িত দপ্তর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে জলবায়ুগত কারণেই এ সময়ে বন্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। একই সঙ্গে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে প্রায় প্রতি বছরই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর উজান ও অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের নদ-নদীতে। তাই চলতি বছরও ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগে বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এফএফডব্লিউসি। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব সর্বোচ্চ তিন দিন আগে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। একই সময়ে মেঘনা অববাহিকায়ও বড় ধরনের অবনতির আশঙ্কা নেই।

তবে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। 
প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে আগামী চার দিনে তা আবার বাড়তে পারে এবং পঞ্চম দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে দেশের সবচেয়ে বড় বন্যাগুলোর বেশির ভাগই জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ১ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা– এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে উচ্চপ্রবাহ দেখা দিলে বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তী সময়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বড় বন্যায়ও সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ পিএম
খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান পার্লামেন্ট স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে তেহরানে পৌঁছে তিনি ইরানের ইসলামিক কনসাল্টেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে সৌজন্য ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন।

বৈঠকে স্পিকার গালিবাফ বাংলাদেশের স্পিকার ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।বৈঠকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই জাতীয় শোকের সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে ইরানের সরকার এবং দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানানো হচ্ছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।’

বৈঠকে স্পিকার সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকারের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন বজায় রাখবে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারা বজায় রাখতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে ইরানের ডেপুটি স্পিকারসহ দেশটির ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্যরা এবং তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যত শক্তিশালী হবে, দেশের গণতন্ত্রও তত বেশি সুসংহত হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরবেন। যে ভালো কাজ করবে তাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, আর যে অন্যায় করবে তাকে সমালোচনার মুখোমুখি করতে হবে। তিনি বলেন, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানো গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের ওপর। তাই সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দু’টি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন দিতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড এবং এর বাইরে আর কোনো মানদণ্ড নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের মধ্যে বিচার বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ন্যায়বিচারের অভিভাবক।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ক্ষমতাবান ব্যক্তি, এমনকি সরকার প্রধানকেও প্রয়োজন হলে বিচার বিভাগের সামনে হাজির হতে হয়। এটাই বিচার বিভাগের শক্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আইন ও বিচারবিষয়ক সাংবাদিকদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের প্রতিটি প্রতিবেদন পাঠকের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যে কারণে প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত দ্রুত। অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা সমাজে বিভ্রান্তি ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে আইন ও বিচারবিষয়ক সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য তুলে ধরা। সমাজ ও রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করায় জনগণের আস্থাও অনেকাংশে তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ও পরিবর্তনশীল সময় অতিক্রম করছে। এটি কোনো স্থির অবস্থা নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রবেশের ফলে তথ্যপ্রবাহ ও প্রযুক্তির বিস্তার নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানেই কাঙ্ক্ষিত সভ্যতার সব অর্জন সম্পন্ন হয়েছে, এমনটি নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বজুড়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তাই প্রযুক্তির এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সাংবাদিকতাকেও আরও দায়িত্বশীল, নির্ভুল এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে।’

এলআরএফের সভাপতি হাসান জাবেদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এজিএম শেষে একইস্থানে এলআরএফের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্যান্য পদে অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় সবাই বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন। নতুন কমিটিতে  সভাপতি হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের মুহাম্মদ ইয়াছিন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের আরাফাত মুন্না। কমিটিতে সহ-সভাপতি সমকালের আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক বাংলানিউজের তানভীর আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক টাইমস অব বাংলাদেশের আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক খবরের কাগজের মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জাহিদুল বাশার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য চ্যানেল ওয়ানের জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু ও আমাদের সময়ের আসাদুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় কমিশনের অপর দুই সদস্য এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মাশহুদুল হক ও সিনিয়র সদস্য সাজেদুল হক উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের সাচিবিক সহায়তায় ছিলেন বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ইলিয়াছ সরকার।

মাহমুদুল আলম/রিফাত/

অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের বাজার পরিস্থিতি নজরদারি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। 

তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে অতি সংবেদনশীল ৩০টি পণ্যকে এই প্রযুক্তির আওতায় এনে পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বহুমুখী সরকারি অনুদান, পুরস্কার ও সামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজারের সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের একাধিক সংস্থা সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু বর্তমান বাজার দর নয়, বরং পণ্যের উৎপাদন কেমন হচ্ছে, আবহাওয়ার কারণে ফলনে কী প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কী পরিস্থিতি চলছে তার সামগ্রিক পূর্বাভাস পেতে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে একটি সমন্বিত এআই মডেল তৈরি করা হবে।’

সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ সবজি রপ্তানিকারক রয়েছেন, তার প্রায় অর্ধেকই সিলেটের। তবে প্যাকেজিং এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশনের সমস্যার কারণে রপ্তানির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই সংকট সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যার আওতায় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উৎপাদন ও ‘ট্রেসেবিলিটি’ নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া, সবজি সংরক্ষণের সুবিধার জন্য সরকার সারাদেশে প্রায় ২,০০০ কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার একটি বড় অংশ সিলেটেও স্থাপন করা হবে।’

চলমান দুটি বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা রয়েছে এবং এর প্রভাব সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপরও পড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে, যাতে কারখানাগুলো পুরোদমে সচল থাকতে পারে।’

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মনসুর আসজাদ এবং কৃষি কর্মকর্তা মো. সৈকত জামিলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ, কৃষি অফিসের ‘পার্টনার কংগ্রেস প্রোগ্রাম’, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ছাগলের খাদ্য বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানর শেষে মন্ত্রী খাদিমপাড়া ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষার জন্য ‘হেমাটোলজি অ্যানালাইজার’ কার্যক্রম এবং হাসপাতালে র‌্যাভিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

রিফাত/